‘সবুজের’ গেমসে রঙিন সমাপ্তি
ক্রীড়া প্রতিবেদক, হ্যাংঝু (চীন) থেকে
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৪:৩৩ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৫:৫০
সবুজ নগরী হ্যাংঝুকে যেন নতুন করে চেনালেন এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা। কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য এবারের এশিয়াডের নাম দেয়া হয়েছিল ‘গ্রিন এশিয়ান গেমস’। গতকাল অলিম্পিক স্পোর্টস সেন্টার স্টেডিয়ামটিও সেজেছিল সবুজের রঙে। মাঠের সবুজ গালিচার চারপাশে ছিল নানা রঙের আলো, তাতে নিজেদের ইতিহাস আর ঐতিহ্য নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছেন আয়োজকরা। থ্রিডি ডিজিটাল স্ক্রিনে এমনভাবে চিত্রগুলো প্রদর্শনা করা হয়েছে, দেখে মনে হয়েছে শিল্পীর তুলির নিপুণ আঁচড়। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর যে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল চীন, রোববার মনোমুগ্ধকর সব ডিসপ্লে, নাচ-গানে দেড় ঘণ্টার সমাপনী অনুষ্ঠানটি হৃদয় কেড়েছে সবার। এশিয়ার ৪৫ দেশের ১২ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদের ১৬ দিনের মিলনমেলার বিউগলের সুর বেজেছে চীনে। আর ২০২৬ সালে আরও চমক দেখানো আশায় গেমসের ব্যাটল এখন জাপানের হাতে। দেশটির আচি-নাগোয়া শহরে তিন বছর পর আসর বসবে বিশ্বক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম এ মহাযজ্ঞের।
যে কোনো গেমসের উদ্বোধন নিয়ে যতটা আকর্ষণ থাকে, সমাপনী নিয়ে ততটা থাকে না। কিন্তু চীনারা সব কিছুতেই নতুনত্ব দেখাতে চায়। সমাপনীর ছোট্ট একটি ড্রাফট হাতে ধরিয়ে দিলেও তার সারমর্ম পড়ে বোঝা যায়নি এতটা রঙিন আয়োজন হবে। এশিয়ান গেমস নিয়ে যে উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা ছিল, কয়েক মিনিটে তা তুলে ধরা হয়েছে। আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর সঙ্গে গেমসের পুরো হাইলাইটস দেখে সবাই ভেসে যান আবেগে। যেখানে হাসি-কান্না আর একে অন্যকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখার চেষ্টার ছবিগুলো ফুটে ওঠে। মাঠের এক পাশে চার অক্ষরে লেখা ‘এশিয়া’র অস্থায়ী মঞ্চটিকে আলোকিত করার সঙ্গে ‘লাভ ইন এশিয়া’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন সবাই।
চোখধাঁধানো সব আয়োজনের পর অ্যাথলেটদের মার্চ পাস্ট। তবে উদ্বোধনীর মতো আলাদা আলাদা করে নয়, একসঙ্গে দেশগুলোর ক্রীড়াবিদ ও কমকর্তা পতাকা হাতে মাঠে নামেন। এদিন বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। তাঁর নেতৃত্বে এবার গেমসে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ব্রোঞ্জ জেতে। অন্য দেশের অ্যাথলেটদের সঙ্গে কিছুটা সময় কথা আদান-প্রদানের সুন্দর মুহূর্তগুলো হয়তো আজীবন মনে থাকবে তাঁর। এবারের গেমসে অ্যাথলেটদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত থাকা ভলান্টিয়ারদের সম্মান দিতে ভোলেননি আয়োজকরা। কথা ও কাজে কতটা নিখুঁতভাবে সমস্যার সমাধান করেছিলেন তারা, সেই দৃশ্যগুলো যখন ভেসে ওঠে, তখন ৮০ হাজার দর্শকের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অলিম্পিক স্পোর্টস সেন্টার। উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনার মুহূর্তগুলো স্মরণ করে সমাপনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের বক্তব্যগুলো আরও প্রাণবন্ত করে তুলে গেমসের শেষ ঘণ্টাকে। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজা রনদ্বীর সিং যখন তাঁর বক্তব্যে গেমসের ‘সমাপনী’ কথাটি উল্লেখ করেন, তখনই গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা। বেজে ওঠে বিদায়ের রাগিনী। হ্যাংঝুর সমাপ্তির সঙ্গে আগামী গেমসের আয়োজক জাপানের পতাকা উত্তোলিত হওয়ার সঙ্গে বেজে ওঠে দেশটির জাতীয় সংগীত।
একটু পর নিভে যায় পুরো স্টেডিয়ামের আলো। গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মোবাইলের আলোগুলো ‘জোনাকির’ আলোর মতো মনে হয়েছে। এর মধ্যে একদল শিল্পী মাঠে প্রবেশ করেন! জাপানের কাছে গেমসের পতাকা হস্তান্তরের পর যে শহরে পরবর্তী আসর হবে, সেই শহরের ইতিহাস আর ঐতিহ্য নাচ-গানে তুলে ধরা হয়। এরপর হ্যাংঝুর ঐতিহাসিক দর্শনার্থী ডিজিটালের মাধ্যমে উপস্থাপন করার পর শিশুদের কণ্ঠে বেজে ওঠে ‘হার্ট টু হার্ট’ সংগীতটি। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য চিহ্নিত করেই এ স্লোগানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় জমকালো সমাপনী। আর আয়োজনের মতো মাঠের পারফরম্যান্সেও সবাইকে ছাপিয়ে যায় চীন। ২০১টি স্বর্ণ, ১১টি রৌপ্য, ৭১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৮৩ পদক জিতেছে তারা। তালিকায় দুই, তিন এবং চার নম্বরে আছে জাপান, কোরিয়া ও ভারত। আর ক্রিকেটের হাত ধরে মাত্র দুটি ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫ দেশের মধ্যে ৩৭তম।
গেমসের সবকিছুতেই ছিল প্রযুক্তির ছোঁয়া। দেড় ঘণ্টার রঙিন সমাপনীতেও প্রযুক্তিরওপর বেশি জোর দেয় চীন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় অলিম্পিক সেন্টারের প্রজ্বলিত মশালটিও নেভানো হলে ডিজিটালি।
- বিষয় :
- এশিয়ান গেমস
- হ্যাংঝু