ব্যাটসম্যানদের সঠিক অনুধাবন আনন্দ দেয়: ম্যাকেঞ্জি
ছবি: ফাইল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৪৯
ক্যারিয়ারে নিঁখুত টেকনিকের ব্যাটসম্যান ছিলেন নীল ম্যাকেঞ্জি। দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ হিসেব কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশ দলে তার কোচিং দর্শনের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। লিটন-শান্তর মতো ব্যাটসম্যানরা তার অধীনে ধারাবাহিক হয়ে উঠছেন। সিনিয়রদের ওপরও তার প্রভাব স্পষ্ট। কোচিং দর্শন, কোচিংয়ের অভিজ্ঞতাসহ নানা দিক নিয়ে ক্রিকইনফোকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি। তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: তামিমের ব্যাটিংয়ের ধরণে সামান্য পরিবর্তনের আভাস দিতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি ভালো খেললেন। ঠিক মতো এই বার্তা দিতে পারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
নীল ম্যাকেঞ্জি: তামিম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বাংলাদেশের হয়ে সে অনেক রেকর্ড ভাঙবে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে তাদের খেলাটা বুঝতে হয়। তারপর নিজের মতামত অল্প করে প্রকাশ করতে হয়। সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলার এই অধিকারটা অর্জন করে নিতে হয়। কোচরা চেষ্টা করেন দলে ওই ক্রিকেটারের ভূমিকা কী সেটা তুলে ধরতে।
প্রশ্ন: লিটন এখন ধৈর্য নিয়ে খেলেন। শট খেলাও কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আগে এটা তিনি পারেননি কেন?
নীল ম্যাকেঞ্জি: কেউ যখন নিজে থেকেই সঠিক অনুধাবনের কথা বলে শুনে আনন্দ লাগে। তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কঠিন জায়গা। পাঁচ বছর অনেক সময়। কিন্তু কেউ দলে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকলে খুব বেশি ম্যাচ পায় না। লিটনের এখন ধারাবাহিকতা এসেছে আবার পরিপক্কতাও। আমি জানি না, কোনটা আগে এসেছে। সে এখন দলে তার ভূমিকা বুঝতে শিখেছে। তার হাতে অনেক শট আছে। কিন্তু সব শট একসঙ্গে খেলা সম্ভব না। সে অনুধাবন করেছে, কখন কোনটা খেলতে হবে, কোনটা ছাড়তে হবে।
প্রশ্ন: খেলার ধরণ বদলে বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যাটসম্যান সফল হচ্ছেন। এটা কিভাবে দেখেন?
নীল ম্যাকেঞ্জি: আমি টেস্ট দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তবে ওয়ানডে-টি-২০ ফরম্যাটের কথা বললে দলের ব্যাটিংয়ের পরিবেশ এখন অনেক ভালো। কোন একটা ধরণ কাজ না করলে আমরা অন্য কিছু চেষ্টা করি। তারাও শেখার চেষ্টা করে। এটাই ইতিবাচক হয়ে এসেছে।
প্রশ্ন: আপনি দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজ করছেন। সাফল্যের কারণ কী?
নীল ম্যাকেঞ্জি: অবসরের পরই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। দুই বছরের কিছু সময় কাজ করে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানসম্পন্ন দলের সঙ্গে কাজ করতে পারা খুব কাজে দিয়েছে। আমি চেষ্টা করি ক্রিকেটারদের টেকনিক নিয়ে কাজ করতে। তাদের ফুটেজ দেখি, মানসিক দিক বোঝার চেষ্টা করি। তবে বইয়ের টেকনিক নিয়ে আমি কাজ করি না। একেক ক্রিকেটারের টেকনিক একেক রকম। নিজস্ব টেকনিক নিয়েই কাজ করি। বোলার বল করার আগেই আমি আমার কোচিং দর্শন প্রয়োগ করি না। বরং বল ডেলিভারি হওয়ার সময় থেকে কোচিং করায়।
প্রশ্ন: সিনিয়ররা পরামর্শ নিতে আসেন কেমন? দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পার্থক্য কেমন?
ম্যাকেঞ্জি: সিনিয়ররা ভালো খেললে তাদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন। তাদের মাথা তখন একটু উঁচুতে থাকে। এই সময় তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে আলাপ করতে হয়। তাদের মনে জায়গা নিয়ে থাকার চেষ্টা করতে হয়। আমি অনেক কোচের অধীনে খেলেছি। অধিনায়ক ছিলাম। ওই অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি।
প্রশ্ন: আগামী বছর ওয়ানডে লিগ শুরু হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ২০২৩ বিশ্বকাপ আছে। সৌম্যর মতো ব্যাটসম্যানের ধারাবাহিক হওয়া নিয়ে আপনার পদক্ষেপ কী?
ম্যাকেঞ্জি: লিগ ভিত্তিক ওয়ানডে এবং বিশ্বকাপ দুর্দান্ত হবে বলে আমার আশা। সৌম্য, মিথুন, শান্ত কিংবা মুশফিক, তামিম, রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা সেখানে ভালো করতে চায়। আমরা জানি, সৌম্য কত ভালো ক্রিকেটার। কিন্তু আমি চাই, সৌম্য জানুক সে কত ভালো। আমার দর্শন, প্রত্যেককেই বিশ্বমানের হতে হবে। সবসময় অনুশীলন না করলে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু অনুশীলন করলে কৌশল নিয়ে এবং মনোযোগ দিতে করতে হবে। নিজের গেম প্লান এবং টেকনিক জানতে হবে। যদি তারা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সে অনুযায়ী অনুশীলন করে তাহলে তারা ভালো অবস্থানে থাকবেই।