পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত ছিলেন ভিনিসিয়ুস, তবুও কেন নেননি?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫১ | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৫৩
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। পেনাল্টি থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মাধ্যমে পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়েছে সেলেসাওরা। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এর আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েসকে বল হাতে পেনাল্টি স্পটের কাছে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায়। সবাই হয়তো ভেবেই নিয়েছিলেন শট নেবেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু পেনাল্টি নেন নিউক্যাসলের মিডফিল্ডার ব্রুনো।
ম্যাচ শেষ হতেই প্রশ্ন উঠেছে, পেনাল্টি শটটি কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিলেন না? উত্তরটা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস নিজেই। রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা সোজাসাপ্টাই জানিয়েছেন, ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির। কোচের কথা মেনেই ব্রুনোর হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ ম্যাচ শুরুর আগেই পেনাল্টি কে নেবেন, সেটা ঠিক করে দেন। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার মধ্যে কখনও কোনো দম্ভ ছিল না। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে হবে, এমন কোনো ভাবনাও আমার ছিল না। এ কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিল। ও আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি মারে, তাই কোচ ব্রুনোকে বেছে নেন। ব্যস, এটুকুই। তবে আমি কখনো দায়িত্ব এড়াইনি।’
একইসঙ্গে ভিনিসিয়ুস জানিয়ে রেখেছেন, দল চাইলে তিনি পেনাল্টি নিতে প্রস্তুত ছিলেন। ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবেন, আমি পেনাল্টি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর পাত্র নই। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ যখন আমাকে বেছে নেন, আমি পেনাল্টি নিই। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনে ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।’
ব্রুনো পেনাল্টি নিতে যাওয়ার আগে লম্বা সময় তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়ে কোনো তর্ক চলছিল কি-না জানতে চাইলে ২৫ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান বলেন, ‘কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই বেছে নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা বা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।’
ভিনিসিয়ুস তার ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টি নিয়ে ১৩টিতে গোলের দেখা পেয়েছেন। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে তিনটি পেনাল্টির মধ্যে গোল পেয়েছেন মাত্র একটিতে। অন্যদিকে গিমারায়েস তার পুরো ক্যারিয়ারেই মাত্র তিনবার পেনাল্টি শট নিয়েছেন। সবকটিতেই গোল পেয়েছেন। তবে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের জার্সিতে তিনি কখনও পেনাল্টি শট নেননি।
