প্যারিসের আলোচিত পাঁচ
ছবি- সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৪ | ১২:০৪ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৪ | ১২:৫৮
রোববার রাতে পর্দা নামল প্যারিস অলিম্পিকের। প্রথমবারের মতো সিন নদীর বুকে হওয়া উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও প্যারিসের আয়োজন ইতিহাসের অন্যতম সেরার স্বীকৃতি পাচ্ছে। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, পরতে পরতে ছড়ানো রোমাঞ্চের পাশাপাশি ভালোবাসার শহরে জন্ম হয়েছে নতুন নতুন তারকার। ভেঙেছে বিশ্বরেকর্ড, লেখা হয়েছে নতুন ইতিহাস। ১৬ দিনের এ লড়াই থেকে কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত বের করা আসলে সাগর সেচে মুক্তা আনার মতোই
প্যারিস অলিম্পিকের সবচেয়ে বড় তারকা লিওঁ মারশা। ফরাসি এ সাঁতারু চারটি স্বর্ণ জিতেছেন। এক অলিম্পিকে এমন কীর্তি ফ্রান্সের কোনো অ্যাথলেটের নেই। আর ২২ বছর বয়সী এ তারকা ইতিহাসের তৃতীয় পুরুষ সাঁতারু হিসেবে এ কীর্তি গড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপস ও মার্ক স্পিৎজের আছে এই কৃতিত্ব। চার স্বর্ণের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জও জিতেছেন মারশা। এবারের অলিম্পিকে আরও দু’জন পাঁচটি করে পদক জিতেছেন। তারা হলেন দুই নারী সাঁতারু যুক্তরাষ্ট্রের টরি হাস্কি ও অস্ট্রেলিয়ান মলি ও’কালাহান। তবে তারা দু’জনেই তিনটি করে স্বর্ণ জেতায় এগিয়ে মারশা। সমাপনী অনুষ্ঠানে অলিম্পিক মশালের আলোক শিখা বহনের দায়িত্ব পাওয়া যেন সেই সম্মানের অংশ।
অলিম্পিকের অন্যতম আকর্ষণীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্ট নিয়ে যা ঘটেছে, তা বিরল। আধুনিক অলিম্পিক ইতিহাসে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ব্যবধানে নির্ধারিত হয় এবারের ১০০ মিটার ফাইনালের বিজয়ী। জ্যামাইকার কিশান থমসনকে এক সেকেন্ডের পাঁচ হাজার ভাগের এক ভাগের ব্যবধানে হারান যুক্তরাষ্ট্রের নোয়াহ লাইলস, যেটি নির্ধারিত হয় ফটোফিনিশে। তবে মর্যাদার এই ইভেন্ট জিতলেও লাইলসের লক্ষ্য কিন্তু পুরোপুরি পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই স্প্রিন্টার প্যারিস এসেছিলেন তিন স্বর্ণের আশা নিয়ে। কিন্তু করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ২০০ মিটারে ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। ১০০ মিটার রিলেতে অংশই নিতে পারেননি লাইলস।
প্যারিসে জিমন্যাস্টিকসের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন সিমোনে বাইলস। তবে ফ্লোর ইভেন্টের ফাইনালে ব্রাজিলের রেবেকা আন্ড্রেড স্বর্ণ জেতার পর তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বাইলস। যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা বলেন, ‘এটাকেই উপযুক্ত মনে হয়েছে। রেবেকা দুর্দান্ত, সে-ই রানী। প্রাথমিকভাবে ওই ইভেন্টে বাইলস রৌপ্য ও তাঁর স্বদেশি জর্ডান চাইলস ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ‘কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্ট’ ব্রোঞ্জ পদকটি দেয় রোমানিয়ার আনা বারবোসুকে।
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া আসরে জ্যাভলিন হয়ে উঠেছে উপমহাদেশীয় লড়াই। টোকিওতে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন ভারতের নীরজ চোপড়া এবং রুপা গিয়েছিল পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমের ঝুলিতে। প্যারিসে হয়েছে এর উল্টো। ৯২.৯৭ মিটার থ্রো করে অলিম্পিক রেকর্ড করে অলিম্পিকে কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে পাকিস্তানকে প্রথম স্বর্ণ এনে দিয়েছেন আরশাদ নাদিম।
এক ইভেন্টে টানা পাঁচ অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের বিরল কীর্তি গড়েছেন কিউবার কুস্তিগির মিহাইন লোপেজ। তিনি ছাড়িয়ে যান কার্ল লুইস ও মাইকেল ফেলপসের মতো কিংবদন্তিকে। ৪২ ছুঁইছুঁই লোপেজ প্যারিসে টানা পঞ্চম স্বর্ণ জয়ের পর ম্যাটে নিজের জুতা জোড়া রেখে অবসরের কথা বলেন, ‘এটাই শেষ!’ এরপর অবশ্য তিনি বলেছেন, ‘কুস্তিই আমার জীবনের ভালোবাসা। এটাই আমার জীবন।’

_1723528799.jpg)



