ক্যাসিনোকাণ্ডে লোকমানের ব্যাখ্যা
লোকমান হোসেন ভূঁইয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৪ | ১০:৩৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৪ | ১০:৪৯
ক্যাসিনোকাণ্ড ও মানি লন্ডারিং মামলায় এখনও হাজিরা দিতে হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও বিসিবির সাবেক পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে। তিনি বলেন, বিএনপি করার কারণে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ষড়যন্ত্র করে আমাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। মানি লন্ডারিংয়ের মতো মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া নিজের হতাশার কথা তুলে ধরেন সমকালের কাছে।
সমকাল: কেন আপনাকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়ানো হলো?
লোকমান: বিএনপি করার কারণে এবং আমাকে ক্রীড়াঙ্গন থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একটা পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। বিশেষ করে সাবের চৌধুরী সরাসরি জড়িত ছিলেন। আমি যখন বিসিবির পরিচালক ছিলাম, তখন তিনি লাইভ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন– বিএনপি করে মোহামেডান ক্লাব থেকে কীভাবে পরিচালক হলাম। আমি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও টিভিতে লাইভ সাক্ষাৎকারে আমার বিরুদ্ধে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, এটা একটা চক্রান্ত ছিল। আমি যেখানে জিজ্ঞাসাবাদে গিয়েছি, সবাই সাবের চৌধুরীর কথা বলেছেন।
সমকাল: মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো চলেছে। অভিযোগ উঠেছিল, আপনার নির্দেশে ক্যাসিনো চলেছে?
লোকমান: আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, ক্লাবে ক্যাসিনো। মোহামেডান ক্লাব কারও কাছে ক্যাসিনোর জন্য ভাড়া দিইনি, এটা আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি। আমাদের ক্লাবে একটি হল রুম আছে। সেখানে হাউজি হতো। আমরা হাউজির জন্য রুম ভাড়া দিয়েছিলাম। আমি পরে জানতে পেরেছি, মতিঝিলপাড়ার যুবলীগ ভাড়া নেওয়া রুমে ক্যাসিনো চালাত। যদিও আমি কোনো দিন ক্যাসিনো দেখিনি। হল ভাড়া থেকে আমাদের ক্লাবে একটা আয় আসত। তার হিসাব বিবরণীতে আছে। ১৩ কী ১৪ মাস ছিল তারা। প্রতিদিন ৬০ হাজার টাকা করে দিয়েছে প্রথম ছয় মাস। বাকি ছয় মাসের প্রতিদিন দিয়েছে ৭০ হাজার টাকা করে। মোট ১ কোটি ৮০ হাজার টাকার মতো ক্লাব পেয়েছে। আমাদের ক্লাবের হিসাবরক্ষকের কাছে টাকা জমা দিয়ে তারা রিসিট নিত। এখানে কোনো অস্বচ্ছতা নেই। অসৎ কোনো কর্ম করা হয়নি। মোহামেডান একটি লিমিটেড কোম্পানি। এখানে যে আয়-ব্যয় হয়, তার অডিট হয়। সেদিক থেকে বলব, আমার নামে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা সত্য নয়। কারণ ক্লাবের এজিএম প্রিসাইড করেছেন তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, মোহামেডান ক্লাব আমরা কখনোই ক্যাসিনোর জন্য ভাড়া দিইনি।
সমকাল: আপনার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছিল?
লোকমান: সম্ভবত র্যাব-৪-এ তখনকার সিইও ছিলেন আশিক বিল্লা। আমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে বললেন– আমার অ্যাকাউন্টে ৪০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আমি শোনার পর অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল ৩০০ ডলার। সেখানে তিনি বানিয়েছেন ৪১ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
- বিষয় :
- লোকমান হোসেন ভূঁইয়া
- বিসিবি