দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে রাজি টাইগাররা
ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৪২
আগের দিন রাতেই মুম্বাইয়ের এক ক্রীড়া সাংবাদিক সমকালকে জানান, ঢাকা থেকে নাকি সবুজ সংকেত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় বোর্ডে। ২২ নভেম্বর থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ফ্লাডলাইটের নিচে প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ আর ভারত।
মুম্বাইয়ের ওই সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা ছিল, বিসিবিতে এ ব্যাপারে কী চলছে। সেদিন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হক পাপন মিরপুরে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে সব ক্রিকেটার আর কোচিং স্টাফকে একসঙ্গে ডেকে দিবারাত্রির এই টেস্টের ব্যাপারে টাইগারদের মনোভাব জানতে চান। হঠাৎ পাওয়া এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখার জন্য একদিনের সময় দেন সবাইকে। জুনিয়র ক্রিকেটাররা জানিয়ে দেন, সিনিয়ররা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।
মঙ্গলবার নিজেদের সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিকরা। রাজি হয়েছেন প্রথমবারের মতো দিবরাত্রির টেস্ট খেলতে। মূলত বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জই নিয়েছেন তারা। কেননা এর আগে ২০১৩ সালে একবারই মাত্র একটি ম্যাচ খেলা হয়েছিল মিরপুরে। তবে সেখানে বর্তমান দলের কেউই ছিলেন না। তারপরও চ্যালেঞ্জটি নিয়েছেন তারা। 'আমরা দিবারাত্রির টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা কাছে মনে হয়েছে সুযোগটা নেওয়া উচিত আমাদের।' মঙ্গলবার টাইগারদের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মুখ দিয়েই এমন ঘোষণা আসে।
বাংলাদেশ যে গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে ইচ্ছুক তার ইঙ্গিত অবশ্য ভারতীয় বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় গাঙ্গুলী জানান, 'বিসিবিপ্রধানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে দিবারাত্রির টেস্ট খেলার কোনো সমস্যা নেই। শুধু ক্রিকেটারদের সঙ্গে একবার কথা বলে নেবে। আমি নিশ্চিত, ইডেনে দিবারাত্রির টেস্টই হবে। খুব তাড়াতাড়ি সরকারি ঘোষণাও হয়ে যাবে।'
গাঙ্গুলীর সেই সরকারি ঘোষণাটিই এদিন দিয়েছে বিসিবি। কিন্তু এই টেস্টে ক্রিকেটারদের কি সায় ছিল? কিংবা ক্রিকেটারদের মতামতের ওপরই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 'অবশ্যই, বেশ কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে এই টেস্ট নিয়ে কথা হয়েছে। শুরুতে তাদেরও একটু দ্বিধা ছিল, কেননা গোলাপি বলে এর আগে কখনোই খেলার অভ্যাস নেই তাদের। তবে তারা এই চ্যালেঞ্জটি নিতে রাজি হয়েছে। কেননা আমাদের মতো ভারতীয় দলও কিন্তু দিবারাত্রির টেস্ট প্রথমই খেলছে।'
সাকিব ইস্যুতে সমকালের করা রিপোর্টে মঙ্গলবার সারা দিনই থমথমে অবস্থায় ছিল বিসিবি কার্যালয়। সকাল থেকেই সাংবাদিকরা ভিড় করেছিলেন নতুন করে স্কোয়াড ঘোষণার খবর এবং সাকিবের ব্যাপারে আইসিসির আপডেট জানতে। তার মধ্যেই এদিন গুরুত্বপূর্ণ দিবারাত্রির টেস্টে ঘোষণা দেন টাইগার কোচ। স্বীকার করে নেন দিবারাত্রির টেস্টে জন্য খুব বেশি সময় তিনি পাবেন না ছেলেদের তৈরি করতে। ' প্রথম আর দ্বিতীয় টেস্টের মাঝে ট্রাভেলের সময়টা বাদ দিলে হাতে হয়তো দুদিন থাকবে প্রস্তুতির জন্য। ওই সময়ের মধ্যেই যেটুকু প্রস্তুতি নেওয়া যায় সেটাই করব।' খুব একটা আত্মবিশ্বাসী শোনায় না রাসেল ডমিঙ্গোকে।
প্রথমবারের মতো ভারতে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ এই সিরিজে টি২০ দল নবাগতদের দিয়ে করলেও দুটি টেস্টে শক্তিশালী দলই গড়েছে ভারত। কেননা এই দুটি টেস্ট 'আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ'-এর অন্তর্গত। দুটি ম্যাচের পয়েন্টই যোগ হবে দলের সঙ্গে। ভারত এরই মধ্যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কিছু ম্যাচ খেলে নিলেও বাংলাদেশের জন্য এটাই প্রথম। আর দুটি টেস্টে ভেন্যু ইন্দোর আর কলকাতার ইডেন প্রথাগতভাবেই ভারতের সবচেয়ে পেস সহায়ক উইকেট বলে পরিচিত। সেখানে পেসাররা সুইংও পেয়ে থাকেন বেশি। সেখানেই দিবারাত্রির টেস্ট খেলাটা বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে ওই টেস্টের আগে হাতে মাত্র দুটি দিন পাবে টাইগাররা গোলাপি বলে অনুশীলন করার জন্য। তাই সব মিলিয়ে দিবরাত্রির টেস্টে 'অন্ধকারে'ই যেন পা রাখতে চলেছেন মুশফিকরা। কোহলিরাও নাকি এই টেস্ট ঘিরে কিছুটা ধাঁধার মধ্যে আছে।
২০১৬ সালের পর সেখানে আর গোলাপি বলে আর ঘরোয়া লিগও হয়নি। এই টেস্টটি আয়োজন করতে এরই মধ্যে নাকি ২৪টি গোলাপি বল অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা কোকাবুরা কোম্পানির নাকি এসজির, সেটা পরিষ্কার করে জানাতে পারেননি মুম্বাইয়ের সাংবাদিক। সাধারণত ভারতীয়রা তাদের দেশে এসজি'র বল দিয়েই টেস্ট খেলে থাকে। অন্যদিকে টাইগাররা কোকাবুরা বলে অভ্যস্ত।
- বিষয় :
- দিবারাত্রি টেস্ট
- ক্রিকেট