চলে গেলেন স্যার এভারটন উইকস
স্যার এভারটন উইকস। ছবি: ক্রিকট্রেকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২০ | ০১:২৮
ক্রিকেটের সাদা পোশাকের যুগের অন্যতম রঙিন ক্রিকেটার স্যার এভারটন উইকস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক। ‘থ্রি ডব্লিউজের’ শেষ সদস্য বুধবার রাতে ৯৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। তিনি বাধ্যকজনিত নানান সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া গত জুনে তার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল।
স্যার ক্লাইভ ওয়ালকট, স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেল এবং স্যার এভারটন উইকসের জন্ম বারবাডোসে প্রায় একই সময়ে। ১৯২৪-১৯২৫ সালের মধ্যে ১৮ মাসের ব্যবধানে পৃথিবীর আলো দেখেন তিনজন। এরপর ‘থ্রি ডব্লিউজ’ ১৯৪৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ডাক পান মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে।
তারা তিনজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একসঙ্গে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছেন। তিন ডব্লিউ মিলে ক্যারিবীয়দের অসাধারণ দলে পরিণত করেন। ওরেল দীর্ঘদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ওয়ালকটের গড় ছিল ৫৬.৬৮। উইকস ছিলেন আরও একটু ওপরে। ১৫ সেঞ্চুরি নিয়ে ৫৮.৬১ গড়ে ক্যারিয়ার শেষ করেন তিনি।
১৯৪৮ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে টানা পাঁচ টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তিনি। ১২ ইনিংসে করে ফেলেন এক হাজার রান। যে কীর্তি শুধু ব্রাডম্যানই গড়তে পেরেছিলেন। অত্যন্ত দারিদ্রের মধ্যে তার ছেলে বেলা কেটেছে। ১৪ বছর বয়সে স্কুলে ছেড়ে তিনি খেলাধুলা শুরু করেন। ১৯ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান। ক্রিকেট-ফুটবল দুটোই ভালো খেলতেন তিনি। কিন্তু ভালোবাসা ছিল ক্রিকেটে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেও বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি উইকসের। ৩৩ বছরে বয়সে ইনজুরি নিয়ে ৪৮ টেস্ট খেলে ক্যারিয়ার সমাপ্তি টানতে হয়। সেই সময় দীর্ঘ ভ্রমণ, শুধু মাত্র টেস্ট ফরম্যাট, দুই-তিনটা প্রতিপক্ষের বিবেচনায় অবশ্য তা কম নয়। ক্রিকেট ছেড়ে কোচিংয়ে নামেন তিনি। আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবে সফল দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ছেলে ডেভিড মুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অসাধারণ এক উইকেটরক্ষক ছিলেন।
থ্রি ডব্লিউজের মধ্যে উইকসই বেঁচে ছিলেন এতোদিন। তার সতীর্থরা বেশ আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেল ১৯৬৭ সালে অল্প বয়সেই মারা গেছেন। ২০০৬ সালে চলে গেছেন স্যার ক্লাইভ ওয়ালকট। তার মৃত্যুতে শোকার্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড, ‘আমাদের মন ভারি হয়ে আছে। আমাদের এক আইকনকে হারালাম। তার পরিবার, বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা।’ শোকার্ত ক্রিকেট বিশ্বও।