নিঃশ্বাসে দিল্লির দূষণ, বিশ্বাসে ক্রিকেট
আলী সেকান্দার, দিল্লি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩১ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:৩৭
ধোঁয়ার কুয়াশায় ঢাকা আকাশ। জারি করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি
অবস্থা। মাত্রাতিরিক্ত দূষিত বায়ুর কারণে দিল্লির স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা
হয়েছে। দূষিত এই দিল্লির বাতাসে শ্বাস নিতেই একটা অস্বস্তিকর অবস্থা। এর
পরও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বলছেন, এ আর এমন কি। এখানে তো মানুষ বাস করে।
খেলাধুলাও হয়। ভারতও তো খেলবে। ক্রিকেটাররা চান না, তাদের কথার জের ধরে
কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হোক। তারা চান, কোনোরকম দম বন্ধ করে দুটি দিন পার করে
রোববারের টি২০ ম্যাচ খেলে চলে যেতে। ৪ নভেম্বর রাজকোটে গিয়ে না হয়
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। এখন নিঃশ্বাসে দিল্লির দূষণ থাকলেও বিশ্বাসে
তাদের ক্রিকেট।
কিন্তু তাদের সমস্যা তো শুধু একটা নয়, পিছু ধাওয়া করছে সাকিব বিতর্ক। তামিম
ও সাইফউদ্দিনকে না পাওয়া। বলতে গেলে নতুন একটা দল নিয়েই খেলতে এসেছে তারা।
এই দল নিয়ে ভারতের মতো প্রতাপশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ দেওয়া কঠিন। আর
সেই কঠিনেরেই ভালোবেসে ফেলেছেন মাহমুদুল্লাহরা। বুক চিতিয়ে ক্রিকেটাররা
বলছেন, একটা ম্যাচ নয়, টি২০ সিরিজ জিততে চান তারা। সংবাদ সম্মেলনে এসে
প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও বললেন সাকিব-তামিম ছাড়াও তার দলটা ভালো।
কয়েকজনের নাম তুলে বললেন, তারা কিন্তু ভালো ক্রিকেটার। বোঝাই যাচ্ছে,
বায়ুদূষণ এবং পেছনে ফেলে আসা সমস্যায় ডুবে নেই, ক্রিকেটে মজে গেছেন
টাইগাররা।
ফিরোজশাহ কোটলার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে গতকাল ফিল্ডিং দিয়ে শুরু হলো
দ্বিতীয় দিনের অনুশীলন। কারও কারও নাক-মুখ ঢাকা মাস্ক দিয়ে। গ্রাউন্ডস
ফিল্ডিং প্র্যাকটিস হলো আধা ঘণ্টার মতো। ক্যাচিং প্র্যাকটিসও হলো কিছুটা
সময়। এরপর আউটার নেটে ব্যাটিং এবং বোলিং চর্চা হলো পালা করে। মিরপুর
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে যে হাঁকডাক থাকে, অরুন জেটলিতে তা দেখা গেল
না। এই দৃশ্য দেখার পর যে কারও মনে হতে পারে, ভেতরে ভেতরে দমে আছেন
খেলোয়াড়রা। ওসব যে নিছক বাইরের ভাবনা তা বোঝা গেল সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ
মিঠুন, আল-আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, শফিউল ইসলামদের কথায়। প্রধান কোচ রাসেল
ডমিঙ্গো এবং ভিডিও অ্যানালিস্ট চন্দ্রশেখরন শ্রীনিবাসও বললেন, পেছনের
ঘটনার প্রভাব নেই দলের ভেতরে। তারা খেলা নিয়ে ভাবছেন। আপাতত কন্ডিশনে
মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটুকুই সারছে সবাই। হৈ-হুল্লোড়ের চেয়ে ঠান্ডা মাথায়
প্রয়োজনীয় কাজগুলো করছেন ক্রিকেটাররা। ৩ নভেম্বর রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের
উদ্বোধনী টি২০-তে ভালো কিছু করে দেখাতে চান তারা।
আউটার নেটে যাওয়ার জন্য প্যাড পরে অপেক্ষায় ছিলেন সৌম্য সরকার। 'টিম মুড'
কেমন, জানতে চাওয়া হলে স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বললেন, 'খুবই ভালো। একদিন পরই
তো খেলা। যে দুটি দিন পাচ্ছি ভালোমতো ঝালাই করে নেই। ভালো খেলতে হবে। আমি
চাই সিরিজ জিততে। সবাই দেখুক, আমাদের এই দলটাও ভালো।' ড্রেসিংরুম থেকে
মাঠের ভেতর দিয়ে নেটে যেতে যেতে শফিউল ইসলাম জানালেন, তারা ভালো আছেন। গত
কয়েকটা দিন বাংলাদেশের ক্রিকেটে যা কিছু ঘটেছে, তা ঢাকাতেই রেখে এসেছেন
তারা। দিল্লিতে নিয়ে এসেছে প্রতিজ্ঞা এবং প্রতিশ্রুতি।
সাকিব না থাকায় বাঁহাতি স্পিনার সানি ও তাইজুল ইসলামের দায়িত্ব বেড়ে গেছে।
স্পিন বিভাগকে লিড দেবেন তারা। এই দুই স্পিনারও বললেন, 'কোনো পরিতাপের বিষয়
নেই। সবাই ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।'
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা পেসার আল-আমিন হোসেন আরও একধাপ এগিয়ে
বললেন, 'আমরা ন্যাশনাল ডিউটি পালন করতে এসেছি। প্রত্যেকে দেশের জন্য
খেলবে। কে নেই, ওটা নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। পৃথিবীর কোনো শোকই বেশি দিন থাকে
না। শোক কিছু হয়ে থাকলে সেটা শক্তিতে পরিণত করে জাতিকে ভালো কিছু উপহার
দিতে পারলে সবার সম্মান বাড়বে। আমরা দেশের সম্মানের জন্য খেলব।' মোহাম্মদ
মিঠুন ব্যাটিং কৌশল শিখছিলেন কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির কাছে। ফিরে এসে শুধু
একটুকুই বললেন, 'সবাই ভালো আছে। খেলা ছাড়া কোনো চিন্তা নেই। জিততে না পারলে
কেউই ছাড়বে না।' মিডল অর্ডার এ ব্যাটসম্যান দলের হয়ে দোয়া চাইলেন, যেন
ভারতের বিপক্ষে জিততে পারেন তারা। আর ডমিঙ্গো, যিনি কি-না প্রতিনিয়ত
ক্রিকেটারদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, দল হিসেবে খেলতে প্রেরণা
জুগিয়ে খেলোয়াড়দের এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করছেন, তিনি যখন বলেন, সব ঠিক
আছে। দেখবেন ভালো খেলব আমরা- তখন তো কোনো কথাই থাকে না।
- বিষয় :
- ক্রিকেট
- বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ