ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিল্লি খেলার জন্য আদর্শ নয়: ডমিঙ্গো

দিল্লি খেলার জন্য আদর্শ নয়: ডমিঙ্গো
×

দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচের আগে মাহমুদুল্লাহ-সৌম্যদের অনুশীলন। ছবি: বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, দিল্লি থেকে

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০০:৫০

ধোঁয়ার চাদর জড়িয়ে আছে পুরো দিল্লি। ভারতের রাজধানী বিশ্বের এক নম্বর দূষিত নগরী। যেখানে বাতাসে শ্বাসকষ্টের জীবাণুরা ওড়াউড়ি করছে। দিল্লির হাইকোর্টের নির্দেশে জারি করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লি এবং আশপাশের শহরের সব নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির দেশ ভারতের রাজধানীতে বায়ুদূষণ বিপদসীমা অতিক্রম করে গেছে দিওয়ালির পর পর। পাশের দুই রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষক শস্যের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দেওয়ায় ধোঁয়া ছেয়ে গেছে কাছাকাছি অঞ্চলগুলো। এক কথায় দিল্লির গ্যাস চেম্বারে হাঁসফাঁস অবস্থা।

দিওয়ালিতে পটকার কানাফাটানো আওয়াজ এবং তা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে দিল্লি বাতাসে গড় গুণমান সূচক এ মুহূর্তে ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে রিপোর্ট হয়েছে দেশটির মিডিয়ায়। অথচ স্বাস্থ্যকর বায়ুমণ্ডল বলা হয় বাতাসের গুণমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে। এতেই বোঝা যায়, দূষণে দিল্লির জনস্বাস্থ্য ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। ফুসফুসের জন্য বিষাক্ত বিষ দিল্লির বাতাস। সৃষ্ট পরিস্থিতি ভালোই উপলব্ধি করতে পারছে বাংলাদেশ দল।

দিল্লির দূষণ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরে অনুশীলন করছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। ছবি: বিসিবি 

কোচ রাসেল ডমিঙ্গো গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দিল্লি খেলার জন্য এখন আদর্শ নয়। চোখ জ্বালাপোড়া করা, গলায় সমস্যা শ্বাসকষ্ট। গলার কাছে দলা পাকিয়ে থাকা বড্ড অস্বস্তিতে ফেলেছে সবাইকে। কিন্তু কিছু যে করার নেই, সেই বাস্তবতাও মেনে নিয়েছেন টাইগার কোচ। ভারতের ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠরও মেনে নিলেন, দিল্লির গ্যাস চেম্বারে ক্রিকেট খেলা সত্যিই কঠিন।

বুধবার দিল্লিতে পা রেখেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা অস্বস্তিতে পড়েন। নাম গোপন রেখে জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার বলেছেন, দিল্লি ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা ভালো করেই জানে। একজন তো বলেই ফেললেন, 'বাংলাদেশ বলেই দিল্লিতে ম্যাচ রেখেছে বিসিসিআই।' টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টার প্রতিবেদক অরণি বসু যেমন বললেন, 'যখন ম্যাচ দেওয়া হয়েছিল, তখন সব বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল। দিওয়ালির এক সপ্তাহ পর খেলা সম্ভব বলে অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্তটা বাস্তবসম্মত নয়।'

সাকিব ছাড়া মানিয়ে নিতে হচ্ছে দলের। মানিয়ে নিতে হচ্ছে দিল্লির দূষণের সঙ্গেও। ছবি: বিসিবি

পিটিআই প্রতিবেদক কুশান সরকারের দৃষ্টিতে, 'এ ম্যাচটা অন্য খানে দেওয়া উচিত ছিল। এমন তো নয়, নতুন সমস্যা এটি। অবশ্যই এটি বাংলাদেশ-ভারত সব খেলোয়াড়কে সমস্যায় ফেলছে।' আর ক্রিকইনফো প্রতিনিধির মতে, 'খুবই সমস্যা। এখানে যে মাত্রায় দূষণ দেখতে পাচ্ছি, তাতে করে খেলায় প্রভাব পড়বেই। আমরা খুবই বিস্মিত, তারা কেন ম্যাচটা এখানে দিল।'

আরও পড়ুন

×