'কোহলি না খেলায় ক্রিকেটাররা হতাশ'
ছবি: ফাইল
...
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:২২ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:২৫
ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের পর সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা ধাক্কা হয়ে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। তামিম ইকবালও নেই ভারত সফরে। দুই প্রধান তারকার অনুপস্থিতির সঙ্গে আরেক দুশ্চিন্তা হলো দিল্লির আবহাওয়া। ধোঁয়া ও দূষণে একেবারে গ্যাস চেম্বার হয়ে উঠেছে দিল্লি। এরই মধ্যে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ভারতের রাজধানীতে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শহরের সব স্কুল। যদিও টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেই ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী। গতকাল অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ কোচের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলী সেকান্দার
প্রশ্ন: দেশে কিছু সমস্যা ছিল। এখানে আসার পর দলের মুড কেমন?
রাসেল ডমিঙ্গো: এখানে এসে ভালো লাগছে। দেশে কিছু চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত ছিল। কয়েকটা দিন বা সপ্তাহ শেষে এখানে এসেছি। কখনও কখনও এমন সময় আসে, তখন দল আরও কাছাকাছি চলে আসে। এখানে আসার পর ছেলেরা খুব ভালো আছে, ওরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ছেলেদের দেখে রিলাক্সড আর খুশি মনে হচ্ছে।
প্রশ্ন: দিল্লিতে প্রচণ্ড বায়ুদূষণ। খুব কষ্ট হচ্ছে নিশ্চয়ই?
রাসেল ডমিঙ্গো: আবহাওয়া খারাপ না। খুব একটা গরম নেই। বাতাসও খুব একটা নেই। ধোঁয়া দু'দলকেই ভোগাবে। খুব একটা সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। অবশ্যই এই কন্ডিশন খেলার জন্য আদর্শ না। তবে ধোঁয়া নিয়ে আমাদের অভিযোগ করার কিছু নেই। এ পরিস্থিতিতেই খেলতে হবে।
প্রশ্ন: সাকিব, তামিমকে ছাড়া খেলতে হচ্ছে। এই দল নিয়ে সাফল্যের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
রাসেল ডমিঙ্গো: আমাদের ১৫ সদস্যের একটি দল আছে। অবশ্যই আমরা বড় দু'জন খেলোয়াড় ছাড়াই খেলতে এসেছি। ওরা খুব অভিজ্ঞ। নাঈম, আফিফ, সৈকত, সৌম্যর মতো তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটা দারুণ একটা সুযোগ। ওরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যারা সাকিব-তামিমকে বিকল্প করতে পারে। সিনিয়র খেলোয়াড়রা না থাকলে তরুণদের সামনে সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাদের অভাব পূরণ করার দায়িত্ব নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকে। তারা সেটা নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।
প্রশ্ন: সাকিবের অভাব বোধ করছেন কেমন। তার না থাকা দলে খুব প্রভাব ফেলবে নিশ্চয়ই?
রাসেল ডমিঙ্গো: সাকিব অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। যে কেউ তার অভাব অনুভব করবে। সাকিবকে মিস করব দল। সে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। অধিনায়কও সে। কোনো সন্দেহ নেই, সবাই তার অভাব অনুভব করবে।
প্রশ্ন: এই আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন?
রাসেল ডমিঙ্গো: দিল্লি খেলার জন্য এখন আদর্শ নয়। তবে এটা নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছি। চোখ জ্বালা করছে, গলায় সমস্যা হচ্ছে। এটা ঠিক আছে, এমন না যে, কেউ এখানে মারা যাবে। অবশ্যই আমরা ছয় থেকে সাত ঘণ্টা খেলব না। তিন ঘণ্টা করে অনুশীলন করছি, ম্যাচ খেলব তিন-চার ঘণ্টা।
প্রশ্ন: এক বছর পর সাকিব ফিরে এলে দল তাকে আগের মতো মেনে নেবে, না একটা দূরত্ব থাকবে?
রাসেল ডমিঙ্গো: ক্রিকেটের দিক থেকে এটা অনেক লম্বা সময়। সে ফেরার পর পরিস্থিতিতে কেমন হবে, সেটা আমার মনে আসেনি, আমার মনে হয় না খেলোয়াড়দের ভাবনাতেও এমন কিছু এসেছে। সে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়দের একজন, অনেকের খুব কাছের। কেউ কেউ হয়তো এতে প্রভাবিত হতে পারে। সে একটা ভুল করেছে, এর জন্য শাস্তি পেয়েছে। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমার মনোযোগ পুরো দলের ওপর। এখন একটা সিরিজ চলছে, সামনে একটা বিশ্বকাপ আছে। আমাদের মনোযোগ এই সিরিজ এবং বিশ্বকাপ দল গড়ার দিকে।
প্রশ্ন: সাকিবের জায়গা পূরণ করবেন কীভাবে?
রাসেল ডমিঙ্গো: সাকিব তিন ফরম্যাটেরই সেরা খেলোয়াড়। বোলিংয়ে ইনিংস ওপেন করে কিংবা প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে আসে। তার বোলিং প্রতিটি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে সে আমাদের সেরাদের একজন। তার জায়গা একজন বোলার কিংবা একজন ব্যাটসম্যান দিয়ে পূরণ করা কঠিন। সাকিব না থাকলে একটা জায়গা পূরণ করলে অন্যটা খালি থেকে যায়। একটা দিক শক্তিশালী করতে গেলে অন্য দিক দুর্বল হয়ে যায়। কন্ডিশনের ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়। আপনি যদি মনে করেন, এটা একটা ফ্ল্যাট উইকেট। আপনি হয়তো এই পরিস্থিতিতে আপনার বোলিং শক্তিশালী করবেন। আমি এ মুহূর্তে দলে এমন কাউকে দেখছি না, যে সুনির্দিষ্টভাবে সাকিবের কাজটা করতে পারে। ওর অভাব পূরণ করতে সবার মিলিত চেষ্টার প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন: সাকিবের দীর্ঘদিনের সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া কী?
রাসেল ডমিঙ্গো: ছেলেদের সঙ্গে এটা নিয়ে আমার খুব একটা কথা হয়নি। তারা খুব হতাশ ছিল। কারণ সাকিবের সঙ্গে অনেকেরই সম্পর্ক গভীর। সবাই সাকিবকে অনেক সম্মান করে।
প্রশ্ন: বিরাট কোহলি খেলছে না। এটা কি বাংলাদেশকে সুবিধা দেবে?
রাসেল ডমিঙ্গো: সাকিব নেই, বিরাট নেই। সাকিব নেই, এটা ভারতের সুবিধা। বিরাট নেই, এটা বাংলাদেশের সুবিধা। দু'জন অসাধারণ খেলোয়াড়। ছেলেরা বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা করে নিতে চায়। বাংলাদেশের সবাই বিরাট কোহলির বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে পছন্দ করত। কোহলির না খেলা ছেলেদের জন্য হতাশার। কোচ হিসেবে আমার জন্য ওর না খেলাটা দারুণ। তবে সম্ভবত বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে খেলতে না পারা ছেলেদের জন্য হতাশার।
প্রশ্ন: আপনি কাজে যোগ দেওয়ার পর এখনও তামিমকে খেলার মাঠে পাননি। পরের সিরিজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?
রাসেল ডমিঙ্গো: আশা করি তামিমকে পরের সিরিজেই পাব। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে এই সিরিজে সে খেলছে না। এটা বোধগম্য। সে থাকলে খুব ভালো হতো। এখনও ওর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়নি। আমরা একসঙ্গে কফি খেয়েছি, কথা বলেছি। আমি ওকে এখনও মাঠে দেখিনি। সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দিকে আমি তাকিয়ে আছি। জানি না, পরের সিরিজ কোথায় খেলব, পাকিস্তান যাব, না অন্য কোথাও খেলব, আশা করি তামিমকে পাব।