খেলতে গিয়ে কোচিং করাতে হয়
ইংল্যান্ডে ‘স্যাটারডে’ লিগ
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:১৪
নাঈম ইসলাম লন্ডনে গিয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অধীনে ফাউন্ডেশন কোর্স শেষ করেছেন। আকবর আলীও লেভেল টু-কোচেস কোর্সের সাটিফিকেট হাতে পেয়েছেন। এনামুল হক জুনিয়র, জহুরুল ইসলাম, সাব্বির রহমান রুম্মানকেও কোচেস কোর্স করতে হয়েছে ইসিবির অধীনে। দেশটিতে বিদেশি কোটায় স্যাটারডে লিগে (অপেশাদার/সেমি-পেশাদার লিগ) ক্লাবের হয়ে খেলতে হলে ইসিবি থেকে কোচেস কোর্স করা বাধ্যতামূলক।
এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে উইকেট কিপার ব্যাটার আকবর নিজের স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলেন দ্বিতীয় ধাপে। আগামী জানুয়ারিতে এনামুল হক জুনিয়র করবেন লেভেল থ্রি কোর্স। মোহাম্মদ আশরাফুল কোচিং কোর্সের লেভেল থ্রি সম্পন্ন করেছেন আগেই। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক জানান, বাংলাদেশের যারাই ইংল্যান্ডে স্যাটারডে লিগে খেলেন, ইসিবির অধীনে কোনো না কোনো একটি সার্টিফিকেট কোর্স করতে হয় তাদের। কারণ ক্লাব ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের কোচিংও করাতে হয়। এই শর্তেই মূলত ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।
এনামুল হক জুনিয়র ও মোহাম্মদ আশরাফুল ইংল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেটে খেলাদের প্রথম দিকের সদস্য। ঢাকার ক্রিকেটের অফ সিজনে লন্ডনে গিয়ে চার মাস ধরে স্যাটারডে লিগে খেলেন তারা। ভারতীয় বা পাকিস্তানিরাই সাধারণ এসব ক্লাবের মালিক হয়ে থাকেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কারও কারও ক্লাব রয়েছে বলে জানান আশরাফুল। মূলত নিজেদের শখের ক্লাবে জাতীয় দলের সাবেক তারকাদের খেলার সুযোগ করে দেন তারা। ওই ক্লাবগুলো বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও খেলে। বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের সপ্তাহে এক দিন কোচিং করান আশরাফুলরা।
জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক লন্ডন থেকে বলেন, ‘কাউন্টি ক্রিকেট খেললে কোচেস কোর্স লাগে না। কাউন্টি ক্রিকেট তো পেশাদার লিগ। সিলেটের আরাফাত ভূঁইয়া যেমন কেন্টে খেলেছে গত বছর। এ বছর খেলবে ওয়ারউইকশায়ারে। কিন্তু ক্লাব ক্রিকেট খেলতে হলে বিদেশিদের বাধ্যতামূলক যে কোনো একটি কোচেস কোর্স করতে হবে। ক্লাব থেকেই ইসিবিতে আবেদন করে কোর্সের ব্যবস্থা করে। এ বছর নাঈম, আকবর যেমন করেছেন।’
নাঈম ইসলাম গত মৌসুম থেকে ইংল্যান্ডে স্যাটারডে লিগে খেললেও কোচের্স কোর্স করেন এ বছর। তিনি বলেন, ‘গত বছর কোর্স করার কথা থাকলেও করা হয়নি। এবার ফাউন্ডেশন কোর্সটা করলাম। ইংল্যান্ডের নিয়ম হলো খেলার পাশাপাশি বাচ্চাদের শেখাতে হয়।’
অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৫ দলের পাশাপাশি মূল দলকেও কোচিং করাতে হয় স্পোর্টস ভিসা নিয়ে স্যাটারডে লিগ খেলতে যাওয়া ক্রিকেটারদের। জহুরুল ইসলাম অমি লেভেল টু কোর্স করেছেন ইসিবি থেকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবরের লেভেল ওয়ান করা ছিল। এ বছর লন্ডনে স্যাটারডে লিগ খেলায় কোর্স করার বাধ্যবাধকতা ছিল।
আকবর বলেন, ‘ইংল্যান্ডে খেলার সুবাদে ইসিবির কোর্সটাও করতে পালাম। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা খেলতে খেলতে কোচেস কোর্স করে। এতে গেম প্ল্যান ভালো বোঝা যায়।’
সাধারণত ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় তারকা ক্রিকেটাররাও মাঝেমধ্যে শিশু কিশোরদের ক্রিকেটের পাঠ দেন। আশরাফুলদের দেখে রনি তালুকদারও যেতে চান। আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ময়মনসিংহের হয়ে খেলা আবু হায়দার রনি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সাদমান ইসলাম কোচেস কোর্স করার সুযোগ পাননি। কারণ হিসেবে রনি বলেন, ‘স্যাটারডে লিগে খেললেই শুধু ইসিবির কোর্স করা যায়। এই সুযোগ আমরা পাব না।’
- বিষয় :
- সাব্বির রহমান
- ইংল্যান্ড
- মোহাম্মদ আশরাফুল
