ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডট বলের ফাঁদে পড়েছে সবাই

ডট বলের ফাঁদে পড়েছে সবাই
×

ছবি: ফাইল

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১১:৩৬

সেদিন ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরোনোর মুখে বিক্ষুব্ধ মিছিল দর্শকদের, জাকের আলীর নাম ধরে যে স্লোগান, তা লেখায় আনা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ দলের গাড়ি বেরোনোর মুখে দর্শকদের অবশ্য ঠেলে দূরে রাখতে পেরেছিলেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। কিন্তু সিরিজটি হারার পর ফেসবুকের দেয়ালে আগুন জ্বালানো লেখনীগুলোতে যে আর পানি ঢালা যাচ্ছে না!

জাকের আলী, শামীম হোসেনের সঙ্গে ঢিল পড়ছে তাওহীদ হৃদয়ের নামেও! ১৪৯ রানের ম্যাচ, যেখানে হাতে ৮ উইকেট রেখেও ৪৮ বলে ৬৫ রানের হিসাব মেলাতে পারেনি ঘরের ছেলেরা। সেখানে সিরিজ খুইয়ে আজ শেষ ম্যাচে কিছুটা মুখ রক্ষা করতে নামতে যাচ্ছেন লিটনরা। পারবেন বলে এই মুহূর্তে অন্তত দর্শকদের বিশ্বাস নেই। তবে ড্রেসিংরুমে তো আর বিশ্বাস হারালে চলে না। তাই ক্যামেরার সামনে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন তিনি। ‘এখন হাতে আর একটি মাত্র ম্যাচ। জেতার চেষ্টা করব। আমরা যদি ব্যাটিংয়ে ডট বল কমাতে পারি, তাহলেই সেটা সম্ভব।’

তানজিদের কথায় স্পষ্ট ডট বলের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪২ শতাংশ বল ডট দিয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। যেখানে ক্যারিবিয়ানরা ডট দিয়েছেন ৩৭ শতাংশ। তানজিদ তামিম ৪৮ বলের মধ্যে ১৫টি বল ডট দিয়েছেন। যার মধ্যে আছে পাওয়ার প্লেতেই প্রায় একটি ওভার (৭টি বল)। তাঁর এই ৪৮ বলে ৬১ রানের ‘ভালো ইনিংসটি’তে শুভংকরের ফাঁকি ছিল। 

সাগরিকায় শিশিরের কারণে বল খুব দ্রুত ভিজে নরম হয়ে যায়, সেখানে পাওয়ার প্লেতে বল কিছুটা হার্ড থাকতে থাকতে যতটা সম্ভব বাউন্ডারি বাগিয়ে নিতে হয়। এ কথা ক্যারিবিয়ান ওপেনার মার্ক অ্যাথানেজই স্বীকার করেছেন। পরের দিকে ক্যারিবিয়ানরাও কিন্তু মারতে পারছেন না। সেখানেই কিনা তানজিদ পাওয়ার প্লের ১৪ বলে ১০ রান করেছিলেন মাত্র একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে! তখনও তো ‘ঢাল’ হিসেবে বাকিরা কী করছিলেন বলতে পারবেন না। তিনি সেট ব্যাটসম্যান হয়েও শেষ ১০ বলে নিয়েছিলেন মাত্র ১০টি রান। তাও আবার দলের যখন ৫ ওভারে ৫০ রান প্রয়োজন তখন। নিজেই অবশ্য স্বীকার করেছেন এই হাফ সেঞ্চুরি তাঁর কাছে মূল্যহীন। কিন্তু যে চাপা হাসিতে তিনি তা বলেছেন, তাতে ইনিংসটি যে তাঁর কাছে পরের আরও কয়েকটি ম্যাচের জন্য ‘রক্ষাকবচ’; সে ইঙ্গিত সংবাদ সম্মেলনেই টের পাওয়া যায়।

শুনতে এই মুহূর্তে অন্যরকম লাগতে পারে, তবে এই ডট বলের চক্করে পড়েছেন ওপেনার সাইফ হাসানও। পাওয়ার প্লেতে তিনিও ১১টি বলের মধ্যে সাতটি বল ডট খেলেছেন। আগের ম্যাচে সাতটি বলের চারটিতেই ডট। সাইফ হাসানের পাঞ্জার যে শক্তি দেখা গিয়েছিল এশিয়া কাপে কিংবা মিরপুরে শেষ ওয়ানডেতে, সেটা কোনো কারণে চট্টগ্রামে মিসিং। অবশ্য সিরিজের শেষ ম্যাচগুলোতে তিনি ভালো ইনিংস খেলে আক্ষেপ পুষিয়ে দেন। 
সেই হিসেবে আজ তাঁর রানে ফেরার কথা, এ বিশ্বাস অনেকের আছে। কিন্তু জাকের আলীকে নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ বোধহয় গ্যারান্টার হবেন না। যদিও একাদশে তাঁর জায়গায় নুরুল হাসান সোহানের খেলানোর প্রবল দাবি আছে দর্শককুলে। কিন্তু আপাতত সিরিজের শেষ ম্যাচে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ভীষণ বাজে সময় যাচ্ছে তাঁর। বেস বলের মতো ব্যাটটাকে শুধুই ঘোরাচ্ছেন তিনি।

এমনকি অফসাইডের ওয়াইড বলেও ব্যাট লেগে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। নিচু হয়ে আসা বলটিও তিনি ঘুরিয়ে মারতে চাইছেন। কিন্তু মারতে গিয়ে মশা যেন উড়ে যাচ্ছে তাঁর কাছ থেকে! সেদিন তিনি যখন নামেন, তখন ৪৯ বলে দরকার ছিল ৬৫ রান, পরের ১১টি বলে তিনি আর তানজিদ মিলে রান নিয়েছেন মাত্র ৩টি! এর পরের হিসাব ৩৬ বলে ৬২। জাকের ডট খেলেছেন ৫টি, তানজিদ ৩টি। ঠিক এখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। হাঁসফাঁস করে আউট হওয়ার আগে ১৮ বলের মধ্যে ৯টিই ডট খেলেন জাকের। 

ওদিকে শামীমের অবস্থাও শোচনীয়। পা নড়ছে না তাঁর। শামীমের আজ একাদশে না থাকার আলোচনা আছে। তাঁর জায়গায় পারভেজ হোসেন ইমনকে দেখা যেতে পারে। তবে ডট বলের মধ্যে ব্যাটাররা যেভাবে শুভংকরের ফাঁকি খুঁজে নিয়েছেন, ঝুঁকি না নিয়ে সেফ থাকতে চাইছেন– সেই মানসিকতা না বদলালে ম্যাচের পর এসে আবার লিটনকে সেই ‘সরি’ই বলতে হতে পারে।

আরও পড়ুন

×