ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সেই কিশোর ছেলেটির সেঞ্চুরি টেস্ট

সেই কিশোর ছেলেটির সেঞ্চুরি টেস্ট
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:৫৩

কিপিংয়ের ‘ব্যাটন’টা খালেদ মাসুদ পাইলটের হাত থেকে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। অভিষেকের পর ব্যাটার থেকে কিপার ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে দুই বছর লেগেছে তাঁর। পাইলট নিজেই মুশফিকের হাতে সুযোগটা তুলে দিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিককে কিপার ব্যাটার হিসেবে খেলানোর সুপারিশ করেছিলেন তিনি। অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ও কোচ শন উইলিয়ামসন সেদিন পাইলটের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। ওই সিরিজ দিয়ে টেস্টে নিজের জায়গা পাকা করেন মুশফিক। সেই মুশফিক ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলবেন ভেবে উৎফুল্ল পাইলট। নতুন প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া মুশফিককে অভিবাদন জানান তিনি।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৯ নভেম্বর থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি যত না বাংলাদেশের, তার চেয়ে বেশি মুশফিকের। ৩৮ বছর বয়সী উইকেট কিপার ব্যাটার নিজের মাইলফলকের ম্যাচটি রাঙাবেন বলে প্রত্যাশা পাইলটের। 

তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়কে দেখে বোঝা কঠিন, সে কতটা সময় খেলবে। ২০০৫ সালে তার অভিষেকের সময়ও কেউ ভবিষ্যৎ দেখতে পায়নি। সেই কিশোর ছেলেটি কঠোর অধ্যবসায় দিয়ে নিজেকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। এ অন্যরকম এক তপস্যা। এ রকম পরিশ্রম সবাই করতে পারে না। মুশফিক পেরেছে, এজন্য তাকে অভিবাদন। তার প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে দেশকে সবচেয়ে বেশি সময় সার্ভিস দিয়েছে সে। আমি আশা করব, মাইলফলকের ম্যাচটি মুশফিক উপভোগ করবে। এই টেস্টে সবাই তাকে দেখতে মাঠে যাবে আশা করি।’ 

মুশফিক তাঁর শততম টেস্ট ম্যাচটিতে হয়তো চেষ্টা করবেন শত রানের ইনিংস খেলে সমর্থকদের আনন্দে ভাসাতে। এই মুশফিককে নিয়েই স্মৃতিকাতর হলেন পাইলট, ‘আমরা ২০০৫ সালে প্রথমে একসঙ্গে খেলেছি লর্ডসে। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে টিম মিটিংয়ে আমি বলেছিলাম উইকেট যেহেতু ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো, মুশফিক খেললে ভালো করবে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হলে একজন জেনুইন ব্যাটার নেওয়া উচিত। মুশফিক তখন ভালো ব্যাটিং করছিল। এ কারণেই বলেছিলাম মুশফিক ভালো করবে।’

ম্যাচের পরের দিন ঐচ্ছিক অনুশীলনে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের খুব বেশি দেখা যায় না। সেই ঐচ্ছিক অনুশীলনগুলোতে নিয়মিত মুখ ছিলেন মুশফিক। পাইলটের মতে, ‘আমার কাছে মনে হয়, সাকিব, মুশফিক, তামিম পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার এসেছে দেশে। কিন্তু তারা ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করতে পারেনি। আল শাহরিয়ার রোকন, অলক কাপালী, সৌম্য সরকাররা অনেক প্রতিভাবান। শুধু চেষ্টায় ঘাটতি থাকায় তারা কেউ তারকা হতে পারেনি। মুশফিক হলো সেই ক্রিকেটার যে প্র্যাকটিসের আধা ঘণ্টা আগে মাঠে আসে, আধা ঘণ্টা পরে মাঠ ছাড়ে। তার সঙ্গে অন্যদের এই হলো পার্থক্য।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার ১০০ টেস্ট খেলছে, ভাবতেই অবাক লাগে। আমি নিশ্চিত আগামী প্রজন্ম এই রেকর্ড ভাঙবে। মুশফিক হলো সেই ক্রিকেটার, যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টার্গেট সেট করে দিল।’ 

আজ জাতীয় দলের অনুশীলন মিরপুরে। অনুশীলন শেষ করে অভ্যাসবশত মুশফিক হয়তো সাজঘরে নিজের আসনটি ঠিক আগের মতোই পরিপাটি করে রাখবেন।

আরও পড়ুন

×