কাফু-ক্যানিজিয়ার নাম ভাঙিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:০৮
প্রথমে ঘোষণা দেওয়া হয়, ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুকে আনা হচ্ছে। কয়েক দিন পর জানানো হয়, তাঁর সঙ্গে আসছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার সতীর্থ আর্জেন্টিনার তারকা ক্যানিজিয়াও। লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবলার তারকাকে বাংলাদেশে আনার ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দেন এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। জানিয়ে দেন ১১ ডিসেম্বর কাফু ও ক্যানিজিয়া ঢাকায় পা রাখবেন। এর আগে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুটি দল এবং বাংলাদেশ থেকে একটি দল নিয়ে ম্যাচের আয়োজন করেন।
কিন্তু সোমবার সাংবাদিক লাঞ্ছনা এবং শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল লাতিন বাংলা সুপার কাপের জন্য দেওয়া জাতীয় স্টেডিয়ামের বরাদ্দ বাতিল করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। নানা অব্যবস্থাপনায় সমালোচিত এ আয়োজন যে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে প্রতারণা, তা বুঝে গেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সংস্থা। মূলত কাফু ও ক্যানিজিয়ার নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন আয়োজকরা। আর আর্থিক কারণে ঢাকায় আসা হচ্ছে না ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এ দুই তারকার।
মূলত ম্যাচ টিকিট বিক্রির ৫০ ভাগ অর্থ পরিশোধ না করা, ম্যাচের পর জাতীয় স্টেডিয়াম পরিষ্কার না করা, স্পন্সরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে লুকোছাপা– এমন নানা অভিযোগের কারণে লাতিন-বাংলা সুপার কাপের আয়োজক এএফবি বক্সিংয়ের প্রমোশনের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম বরাদ্দ বাতিল করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ফলে আগামীকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ক্লাব অ্যাতলেটিকো চার্লোন ও ব্রাজিলের সাও বার্নাদোর মধ্যকার ম্যাচটি স্থগিত হয়ে গেছে।
সোমবার লাতিন বাংলা সুপার কাপে আর্জেন্টিনার ক্লাব অ্যাতলেটিকো চার্লানো এবং বাংলাদেশের ফিউচার স্টারসের মধ্যকার ম্যাচে মারামারি হয়। ১-১ গোলের ড্র ম্যাচে আর্জেন্টাইন ক্লাবের এক ফুটবলারকে লাথি মারেন তিন নাম্বার জার্সি পরিহিত খেলোয়াড় ইহসান হাবিব রেদোয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৩ নম্বর জার্সি পরিহিত ডিফেন্ডার সম্পূর্ণ ইচ্ছেকৃতভাবে আর্জেন্টিনার ক্লাবটির এক ফুটবলারকে লাথি মারেন। শুধু লাথি মেরেই থামেননি তিনি পেছন থেকে মাথায় আঘাত করেন আরও এক আর্জেন্টাইন ফুটবলারকে। রেদোয়ানের এমন কান্ডে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফুটবলাঙ্গনে।
ঢাকায় কাফু ও ক্যানিজিয়াকে আনার কথা বলে বড় ধরনের ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের। জানা গেছে, কাফু ও ক্যানিজিয়াকে দিয়ে যে শুভেচ্ছা ভিডিওবার্তা প্রচারণা করা হয়েছে, তা নাকি এআই দিয়ে তৈরি। আর ব্রাজিলের সাও বার্নাদো এবং আর্জেন্টিনার অ্যাতলেটিকো চার্লোন ক্লাবের ফুটবলাররা হলেন অপেশাদার। গুঞ্জন উঠেছে সেই দেশের পাড়ার ফুটবলার নিয়ে দল গড়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে ছিল বাংলাদেশের রেড অ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টার ক্লাব। বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের খেলোয়াড় নিয়ে সাজানো হয় দল।
৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া লাতিন বাংলা সুপার কাপের প্রথম দিন থেকেই ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। আর এসব ম্যাচে আয়োজকরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। নিচের স্তরের দল হলেও অনলাইন স্ক্রিনে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার নাম-লোগো দেখানো হয়েছে। আর এই অপেশাদার খেলায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ে ভিউয়ার ছিল লাখের ওপর। তাতে ফুটবল অঙ্গনের অনেকেরই সন্দেহ, এই অপেশাদার খেলায় এত ভিউ এবং জনপ্রিয় দুই দেশের নাম ও লোগো ব্যবহার অনলাইন বেটিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
আয়োজকের অব্যবস্থাপনা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি করে জাতীয় স্টেডিয়াম বরাদ্দ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যেটা মোহামেডান, আবাহনীর মতো ক্লাবগুলো হোম ভেন্যু হিসেবে পায় না, সেখানে একটা অপেশাদার প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায়। আরও বেশি আলোচনায় লাতিন বাংলা সুপার কাপে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সায় দেওয়া। একই সঙ্গে নিজেদের বয়সভিত্তিক একটি দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। তাই দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারাও পড়েছেন প্রশ্নের মুখে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ফুটবল
- লাতিন আমেরিকা
