ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানের বিদায়ী মঞ্চে ফেভারিট মরক্কো

মানের বিদায়ী মঞ্চে ফেভারিট মরক্কো
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:০৭

ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য সজ্জিত মরক্কোর রাবাতের প্রিন্স মাওলা আব্দুল্লাহ স্টেডিয়ামের মঞ্চ। যেখানে আজ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা লড়াইয়ে স্বাগতিক মরক্কোর প্রতিপক্ষ সাদিও মানের সেনেগাল। প্রায় ৭০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’খ্যাত মরক্কোর নাম ধরে স্লোগান উঠবে, তা অনুমেয়। এই মঞ্চটা মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসের ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসানের মঞ্চ। 

১৯৭৬ সালে মরক্কো যখন আফ্রিকার সেরা হয়েছিল, তখন আশরাফ হাকিমির মতো ফুটবলারদের জন্মও হয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এলেও বদলায়নি মরক্কোর ফুটবলের দুঃখগাথা। তাই নিজ আঙিনায় শিরোপা জিততে মরিয়া ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল। মরক্কোর জন্য মঞ্চটা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি করে সেনেগালের মানেরও। মিসরকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিতের পরই সেনেগাল ফুটবলের অন্যতম এ তারকা ঘোষণা করেন এটাই তাঁর শেষ আফ্রিকান নেশন্স কাপ। ৩৩ বছর বয়সী সাবেক লিভারপুলের এ উইঙ্গার নিজের বিদায়ী মঞ্চটা রাঙিয়ে লায়ন্স অব তেরেঙ্গাকে দ্বিতীয় ট্রফি উপহার দিতে চান। তবে স্বাগতিক দর্শক আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নেশন্স কাপের ফাইনালে ফেভারিট মরক্কোই।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকা অঞ্চলে শীর্ষ দুইয়ে মরক্কো (১১) ও সেনেগাল (১৯)। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে স্বাগতিকরা। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে মরক্কোর জয় ১৮, সেনেগালের ৭। বাকি ছয় ম্যাচ ছিল অমীমাংসিত। গত ১৪ বছরে মরক্কোকে হারাতে পারেনি সেনেগাল। সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই জিতেছে ওয়ালিদের দল। শুধু পরিসংখ্যানেই এগিয়ে নয় মরক্কো, ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলে তারা। দুই বছর ধরে মরক্কো অপরাজেয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ হওয়া নেশন্স কাপে আইভরি কোস্টের কাছে শেষ ষোলোতে হারে তারা। দলটির অধিনায়ক প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি বর্তমানে আফ্রিকার সেরা ফুটবলার। 

এত কিছুর পরও অর্ধশত বছর ধরে শিরোপা জিততে না পারার চাপ ফাইনালে অনুভব করছে মরক্কো। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খেলা ওয়ালিদের দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা মঞ্চে পা রাখার পর পুরো মরক্কো তাকিয়ে রোববারের ফাইনালের দিকে। ‘আমি মনে করি ফাইনালের যোগ্য আমরা। মালি, ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার মতো সেরা দলগুলোর সঙ্গে আমরা ফুটবল খেলেছি। এখন আরেকটি সেরা দলের মুখোমুখি হব আমরা। এখানকার মানুষের উন্মাদনায় স্পষ্ট হয়েছে মরক্কো ফুটবল জাতি। কিন্তু এখনও পরবর্তী ধাপ বাকি আছে। আমাদের ট্রফি জিততে হবে। তাই রোববারের ম্যাচ আমাদের ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ’– আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন মরক্কো কোচ ওয়ালিদ।

আফ্রিকান নেশন্স কাপের চার আসরের মধ্যে তিনটিতেই ফাইনাল খেলছে সেনেগাল। এর মধ্যে ২০২২ সালে মিসরকে হারিয়ে ট্রফি জেতে তারা। এই মিসরকে শেষ চারে হারিয়ে এবার উঠেছে ফাইনালে। শিরোপার এই মঞ্চে শেষবারের মতো খেলতে নামছেন মানে, গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি, অধিনায়ক কালিদো কৌলিবালি এবং মিডফিল্ডার ইদ্রিসা ঘানা গুয়ে। সবার বয়স ৩৩ এবং ৩৬-এর মধ্যে। ‘আমি দেশের একজন যোদ্ধা। ট্রেনিং কিংবা ম্যাচ– আমি সবখানে সেরাটা মেলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দাকার থেকে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরা’– আফ্রিকান নেশন্স কাপে নিজের শেষ ম্যাচ খেলার আগে এমন মন্তব্য সেনেগালের মানের।

আরও পড়ুন

×