বিশ্বকাপ না খেললে কী প্রভাব পড়বে
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩:২৬
বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট করার ঘটনা আছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার উদাহরণ আছে অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়েও একবার আসর শুরুর প্রায় এক বছর আগে সরে দাঁড়িয়েছিল।
সর্বশেষ সেই ‘বয়কট’-এর ঘটনায় যোগ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপ না খেললে কী প্রভাব হতে পারে, আর্থিক ক্ষতি কতটা, ক্রিকেটীয় প্রভাবইবা কী হতে পারে? –কৌতূহল আছে সমর্থকদের।
উত্তর খুঁজতে গিয়ে আর্থিক দিকের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রভাব পড়বেই। এই যেমন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বাবদ যে ফি পেয়ে থাকে প্রতিটি দল, সেটা পাবে না বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের না থাকায় এবারের আসরে যদি টিভি স্বত্ব থেকে রাজস্ব কম আসে, তাহলেও তার প্রভাব পড়বে বার্ষিক অনুদানে।
এর বাইরে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান যারা কিনা আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাবদ চুক্তি করেছে, তাদের কাছ থেকেও কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাবে না বিসিবি। এর বাইরে ক্রিকেটারদের ম্যাচ সেরার পুরস্কার থেকে অন্যান্য পুরস্কারেরও আর্থিক ক্ষতি থাকবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
অংশগ্রহণ ফি বাবদ প্রায় তিন লাখ ইউএস ডলার পাওয়া যাবে না।
সুপার এইটে গেলে যার পরিমাণ দাঁড়াত ৪.৫ ডলার।
বিশ্বকাপের রাজস্ব আয় কমে গেলে বার্ষিক অনুদানও কম যেতে পারে।
স্পন্সরদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ কমে যেতে পারে।
এর বাইরে ক্রিকেটীয় কিছু প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওপর। এই বিশ্বকাপের সেরা ১০টি দল পরের টি২০ বিশ্বকাপ, অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যা হওয়ার কথা ২০২৮ সালে, সেখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। এর বাইরে র্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকের দুটি দলও সরাসরি টিকিট পাবে।
এই বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের থেকে র্যাঙ্কিংয়ের নিচু সারির দলগুলোর ওপরে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি সরাসরি খেলার সুযোগ না পায়, তাহলে এশিয়া অঞ্চল থেকে বাছাই পর্ব খেলতে হতে পারে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ৯ নম্বরে। তার নিচে রয়েছে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস আর স্কটল্যান্ড। তারা যদি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে চলে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বাছাই পর্ব খেলতে হবে পরের টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য।
কিছু দ্বিপক্ষীয় সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে যে সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিল ভারতের, সেটা ঝুঁকিতে পড়বে। সেই সঙ্গে আগামী বছর এশিয়া কাপ হওয়ার কথা রয়েছে ঢাকায়। সেটাও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আপত্তি তোলে।
ক্রিকেটীয় প্রভাব:
র্যাঙ্কিংয়ে নিচের দলগুলো এগিয়ে যেতে পারে।
এবারের টি২০ বিশ্বকাপের সেরা ১০টি দল সরাসরি পরের বিশ্বকাপে খেলবে।
পরের টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে বাছাই পর্বও খেলতে হতে পারে।
ঝুঁকিতে সেপ্টেম্বরে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ।
২০২৮ এশিয়া কাপ বাংলাদেশে আয়োজনও ঝুঁকি থাকতে পারে।
২০২৯ সালে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলাও ঝুঁকিতে।
২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথ আয়োজনও ঝুঁকিতে।
সঙ্গে ২০২৯ সালে ভারতে যে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা, সেটাতেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সময়ের ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজনের কথা ঠিক হয়ে আছে বাংলাদেশের। যদিও তা অনেক দূরের কথা, কিন্তু বর্তমান দুই বোর্ডের সম্পর্ক চলমান থাকলে সেটাও বছর দুই আগেই আলোচনায় চলে আসবে।
এ ছাড়া এ বছর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা। আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে তাদের প্রত্যেকই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। যদি কোনো কূটকৌশলে তারা বাংলাদেশে না আসতে চায়, তাহলে সত্যিকার অর্থেই গভীর সংকটে পড়ে যাবে দেশের ক্রিকেট।
- বিষয় :
- টি-২০ বিশ্বকাপ
- বিসিবি
- আইসিসি
