ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইডেনে আজ অঘোষিত ‘ফাইনাল’

ইডেনে আজ অঘোষিত ‘ফাইনাল’
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ১৩:১০

কাগজে-কলমে সুপার এইটের ম্যাচ। কিন্তু পরিস্থিতির বিচারে উইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের লড়াইটি হয়ে উঠেছে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে। তাই কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে আজ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে। এই ম্যাচে জয়ী দল আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। আর পরাজিত দল ফিরবে বাড়ি।

এমন জীবন-মরণ লড়াইয়ের আগে স্বাগতিক ভারতের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো বিস্ফোরক ওপেনার অভিষেক শর্মার ফর্মে ফেরা। শূন্যের হ্যাটট্রিক করা এ ব্যাটার গত ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। বাকি ব্যাটাররাও ধারাবাহিক ছিলেন না। কোনো ম্যাচে ঈশান কিষান, কোনো ম্যাচে সূর্যকুমার বা হার্দিক পান্ডিয়া বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেই উদ্বেগ কেটেছে। সবাই কম-বেশি রান করছেন। নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বোলিং নিয়ে। শেষ তিনটি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দলগুলো দুইশর কাছাকাছি রান করেছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশও রয়েছে। 

শেষ তিন ম্যাচে ওভারপ্রতি ৯.১১ রান করে দিয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। ভারতের শক্তিশালী বোলিং লাইনের কোনো বোলারই নিজের চার ওভারে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারছেন না। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ভারতের বোলিংয়ের দুর্বলতা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। সেদিন শেষ ১০ ওভারে ১১৮ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। জাসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেলরা একেবারে সাদামাটা বোলিং করছেন।

গত বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একপেশে জয়ের পরও বোলিং নিয়ে আক্ষেপ করেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, ‘আমাদের বোলারদের আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের মাথা কাজে লাগাতে হবে।’ অধিনায়কের এই চিন্তা রোববার উইন্ডিজের ম্যাচের কথা ভেবে। কারণ, ক্যারিবিয়ান দলে রয়েছেন ব্রেন্ডন কিং, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, রোবম্যান পাওয়েল, শারফেন রাদারফোর্ড, জেসন হোল্ডার, রোমারিও শেফার্ডের মতো একঝাঁক বিধ্বংসী ক্রিকেটার। যারা সারা বছর বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে টি২০ খেলেন। যে দিন যাঁর ব্যাটে-বলে হয়, সে দিন তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। এই যেমন গত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৩ রানে ৭ উইকেট পতনের পরও তাদের রান পৌনে দুশতে গিয়ে ঠেকল। বিশ্বকাপের অন্যতম বিপজ্জনক এই ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রণহীন বোলিং করলে বড় মূল্য দিতে হবে ভারতকে।

ঐতিহাসিকভাবে কলকাতার ইডেন আবার ক্যারিবীদের কাছে প্রিয়। ১০ বছর আগে এই মাঠেই ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল উইন্ডিজ। সেই বিশ্বকাপের সেমিতে মুম্বাইয়ে ভারতকে হারানোর পর কলকাতার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তারা। সেই স্যামি এবার তাদের কোচ। গতকাল ইডেনের সবুজ গালিচায় অনুশীলন শেষে সেই স্মৃতি রোমন্থন করেছেন স্যামি, ‘এই টুর্নামেন্ট জিততে হলে কোনো না কোনো সময় ভারতকে হারাতেই হবে। আগামীকাল (আজ) হলো আমাদের সেই দিন। ভেন্যু ভিন্ন হলেও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারে।’ 

সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর গত ১০ বছরে শেষ চারে উঠতে পারেনি উইন্ডিজ। তবে এবারের দলটি বিশেষ কিছু করবে বলে বিশ্বাস স্যামির, ‘এই দলটির মাঝে আমি যে একাগ্রতা, দৃঢ় মনোভাব, স্থিরতা দেখেছি –সে জন্য আমার ভেতর সেই বিশ্বাস জন্মেছে। আমার কথা সত্য কিনা সেটা আগামীকালই (আজ) দেখা যাবে।’ এ যেন মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার চ্যালেঞ্জ!

আরও পড়ুন

×