ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অপরাজেয় প্রোটিয়াদের সামনে কিউইরা

অপরাজেয় প্রোটিয়াদের সামনে কিউইরা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ১১:১৪ | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৪

বিশ্বকাপের নকআউট মানেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একরাশ হতাশা ও আক্ষেপের আখ্যান। নকআউট মঞ্চে তাদের হোঁচট খাওয়া যেন নিয়তি হয়ে গেছে। তবে এইডেন মার্করামের এই দলটি একটু আলাদা। দুরন্ত দাপট ও চমৎকার ধারাবাহিকতায় গ্রুপ ও সুপার এইটের সাত ম্যাচের সবগুলো জিতে অপরাজেয় হিসেবে সেমিতে এসেছে তারা। 

কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেনের সবুজ উদ্যানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। কিউই বাধা টপকে অধরা শিরোপার কাছাকাছি যেতে পারবে তারা? নাকি পুরোনো সেই আক্ষেপই তাদের ভবিতব্য! অবশ্য নিউজিল্যান্ডও নকআউটে ভালো করে না। দুই দল এখনও কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। 

এবারের আসরে প্রোটিয়াদের মূল শক্তি বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইন। ২৬৮ রান করে যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক মার্করাম। তাঁর সঙ্গে আছেন কুইন্টন ডি কক, রায়ান রিবেলটন, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার ও ত্রিস্তান স্টারস। তাদের পেসার লুঙ্গি এনগিডিও আছেন দারুণ ছন্দে। তবে বাকি বোলাররা ধারাবাহিক নন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড হলো অলরাউন্ডারদের দল। মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বে গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্রর মতো স্পিনিং অলরাউন্ডাররা আজ ইডেনের উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। তবে তাদের দুর্বলতা হলো দলে বড় তারকা নেই। 

যে কারণে নিজেদের আন্ডারডগ মানছেন কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার, 'দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ দল। আসরে তারা চমৎকার খেলছে। তাদের বিপক্ষে আমাদের আন্ডারডগ বলতে পারেন। তবে আমরা ভালো খেলছি বলেই এখানে এসেছি। এখন আমরা একটি একটি ম্যাচ করে আগাব। ফাইনাল থেকে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে আমরা।' 

তবে নিজেদের ফেভারিট মানছেন না প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করাম, “টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলছি। গ্রুপ পর্বে তাদের (নিউজিল্যান্ড) বিপক্ষে জিতেছিও। কিন্তু এরপর উভয় দলই বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছি। তাই পেছনের দিকে না তাকিয়ে আগামীকাল (আজ) নতুন করে শুরু করতে হবে। সেমিফাইনাল যেহেতু অবশ্য আমরা রোমাঞ্চিত। নিজেদের সেরাটা দিবো আমরা। 

ওয়ানডে ও টি২০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে এর আগে মোট আটবার সেমিফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ফাইনাল খেলতে পেরেছে মাত্র একবার। ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই একমাত্র ফাইনালে হাতের মুঠোয় চলে আসা ম্যাচে হোঁচট খেয়েছিল তারা। এর আগে ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫, ২০২৩ (ওয়ানডে) এবং ২০০৯, ২০১৪– প্রতিবারই থেমে গেছে শেষ চারে। 

অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বঞ্চনার গল্পও কম হৃদয়বিদারক নয়, বরং বেশিই। জ্ঞানডে ও টি২০ মিলিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪ বার সেমিফাইনাল খেলেছে তারা। এর মধ্যে ওয়ানডেতে ৯ বার শেষ চার খেলে দুবার ফাইনাল খেলেছে। ২০১৯ ফাইনালে শিরোপার একেবারে দ্বারপ্রান্তে গিয়েও বাউন্ডারি মারায় পিছিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। টি২০ বিশ্বকাপের সেমিতে তারা খেলছে পঞ্চমবারের মতো। আগের চারবারের মধ্যে মাত্র একবার সেমির বাধা পেরিয়ে ফাইনাল খেলতে পেরেছিল তারা।

ফাইনালে হেরে যাওয়ার বদনাম অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা গত বছর কাটিয়েছে টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানশিপের শিরোপা জিতে। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন সেই দলের আটজন এবারের স্কোয়াডে আছেন। তাই অদম্য এক মানসিকতার দেখা মিলেছে এই দলে। কাকতালীয়ভাবে নিউজিল্যান্ডও ট্রফি খরা কাটিয়েছে এই টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেই। তবে এবার সুপার এইটে কিউইদের যাত্রাটা ছিল মিশ্র। আসরে দুটি ম্যাচ হেরে সেমিতে আসা একমাত্র দল নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে। টি২০ বিশ্বকাপে এ নিয়ে ষষ্ঠবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। আগের পাঁচবার প্রোটিয়ারা জিতেছে। এ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। আহমেদাবাদে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

আরও পড়ুন

×