৫ গোল হজম করেও ঋতুপর্ণাদের নিয়ে গর্বিত কোচ বাটলার
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ১৩:২৪
নারী এশিয়ান কাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের পর এবার শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দলটির কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছেন সাবিনা-মারিয়ারা। তবে এমন বড় হারের পরও শিষ্যদের কাঠগড়ায় তুলছেন না কোচ পিটার বাটলার। বরং বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিপক্ষে মেয়েদের লড়াই নিয়ে গর্বিত এই ব্রিটিশ কোচ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের ব্যবধান নিয়ে মোটেও হতাশা প্রকাশ করেননি বাটলার। চরম বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি, যা আমাদের জন্য প্রকৃত শিক্ষণীয়। আমরা তাদের সঙ্গে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি ঠিকই, তবে এমন শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।’
র্যাঙ্কিংয়ে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ প্রথম ৪৫ মিনিট উত্তর কোরিয়াকে আটকে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ৫ গোল হজম করে। এ নিয়ে হতাশা আছে কি না এমন প্রশ্নে কোচের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আমি মোটেও দুঃখিত বা হতাশ নই। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেললে আপনি গোল খাবেনই।’
আগের ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ৪৩ ও ৪৪ মিনিটে জোড়া গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। এদিন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে টানা দুই গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ ও ৬৫ মিনিটে আরও দুই গোল হজম করে দলটি। মনোযোগের অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বাটলার বলেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে প্রতিপক্ষ কেবল ভালো ফুটবলারই নয়, উঁচু মানের অ্যাথলেটও। আমরা ভুল করব এবং এই যাত্রাপথেই শিখব।’
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে সচরাচর বদলি খেলোয়াড় না নামানো হলেও বাটলার একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘চীনের বিপক্ষে ম্যাচের কথা ভেবেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেদিন বিরতির ঠিক আগে মেয়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং আমরা গোল খেয়েছিলাম। আজ অনেকেই ভাবতে পারেন আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছিল কয়েকজন প্রচণ্ড ক্লান্ত।’
চীনের বিপক্ষে ঋতুপর্ণারা দারুণ কিছু আক্রমণ শানালেও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এদিন কোনো ‘শট অন টার্গেট’ই ছিল না বাংলাদেশের। এ নিয়ে প্রশ্নে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বাটলার বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমরা একটি শীর্ষ মানের ফুটবল দলের বিপক্ষে খেলেছি, যারা আমাদের পুরোপুরি আটকে দিয়েছে।’
তবে ৫ গোল হজম করলেও গোলপোস্টের নিচে মিলি আক্তারের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। মিলিকে ‘সত্যিকারের যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে কোচ বলেন, ‘জীবনের প্রতি তার জেদ ও উদ্দীপনা প্রশংসনীয়। এই সুযোগ সে প্রাপ্য, তার জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে।’
আগামী ৯ মার্চ পার্থে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে দলের গড় বয়স মাত্র সাড়ে ১৯ বছর উল্লেখ করে বাটলার মনে করিয়ে দেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত হতে হবে। এই পর্যায়ে পৌঁছানোই আমাদের জন্য বড় সাফল্য। মেয়েরা এখন আইস বাথ নেবে। কাল আমরা পার্থে যাব। সবচেয়ে বড় কথা, বড় কোনো ইনজুরি ছাড়া ম্যাচটা শেষ হয়েছে। আমরা আবারও হাসিমুখে মাঠে নামব, লড়াই করব এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
- বিষয় :
- বাংলাদেশ
- উত্তর কোরিয়া
