ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বড় রান তাড়া করতে পারেন না তানজিদ

বড় রান তাড়া করতে পারেন না তানজিদ
×

তানজিদ হাসান তামিম

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ১২:৪৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি পার করে দিয়েছেন প্রায় তিনটি বছর। অথচ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম যেন এখনও সেই তিমিরেই রয়ে গেছেন! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তিন বছর ধরে জাতীয় দলে খেলেও কেন এখনও পরিণত হতে পারলেন না তিনি? দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ছোট লক্ষ্য বা কম চাপের ম্যাচে তানজিদের ব্যাটে রান দেখা গেলেও, মঞ্চটা বড় হলেই তিনি যেন খোলসবন্দি হয়ে যান। পরিসংখ্যান অন্তত তা-ই বলছে। 

প্রায় তিন বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩০ ম্যাচ খেলে তানজিদ তামিমের মোট রান মাত্র ৬২৬। গড় ২২.৩৫, আর স্ট্রাইকরেট একশ দুইয়ের কাছাকাছি!  আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে একজন ওপেনারের নামের পাশে এই রেকর্ড মোটেও মানানসই নয়। অবাক করা ব্যাপার হলো, ক্যারিয়ারে যে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি তিনি করেছেন, তার কোনোটিতেই ম্যাচসেরা হতে পারেননি।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদের পারফরম্যান্স আরও হতাশাজনক। আড়াইশ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ছয়টি ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এই ওপেনার। এই ছয় ইনিংসে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ মাত্র ১৭ রান। বাকি পাঁচ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫, ১২, ৯, ১ এবং ১ রানের নগণ্য ইনিংস।

আইসিসি বা এসিসির বড় টুর্নামেন্টগুলোতেও তার ব্যর্থতার পাল্লা ভারী। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে মাত্র ১৬.১১ গড়ে তানজিদ রান করেছেন ১৪৫। বাংলাদেশের খেলা সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি ব্যর্থ। ৭ ইনিংসে ১০.৮৫ গড়ে ৭৬ রান! স্ট্রাইক রেটও ছিল একশর (৯৬.২০) নিচে! গত বছর এশিয়া কাপের ৫ ইনিংসের মধ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ফিফটি ছাড়া বাকি ৪ ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ১৫ রান। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপেও ২ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১৩ রান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪৯ রান। ওপেনিংয়ে তার এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে এবং দলগত সাফল্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে তানজিদকে একাদশে জায়গা দিতে পাকিস্তান সিরিজে অবিচারের শিকার হতে হল সৌম্য সরকারকে। গেল অক্টোবরে এই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের কঠিন উইকেটেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ইনিংসে ৯১ এবং ৪৫ রান করেছিলেন সৌম্য। সাইফ-সৌম্য জুটিতে এসেছিল ১৭৬ রান! সিরিজজুড়ে দলের সেরা ব্যাটার ও সর্বশেষ ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হওয়া সত্ত্বেও পরের সিরিজেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, সৌম্যের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি না দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট। 

তানজিদ হাসান তামিম বিসিএল এবং অদম্য কাপে রান পেয়েছেন। কেবল এই যুক্তিতেই আগের সিরিজের সর্বোচ্চ ১৪০ রান সংগ্রহকারীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দলের বাকি খেলোয়াড়দের কাছে কী বার্তা গেল, তা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আদৌ কোনো ভ্রুক্ষেপ আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

গত দুই বছরে অন্তত ১০টি উদ্বোধনী জুটি গড়ে দেখেছে বাংলাদেশ। কোনো জুটিই থিতু হতে পারেনি। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পারভেজ ইমন ও তানজিদ তামিমের তিন ম্যাচের জুটিতে রান আসে যথাক্রমে ২৯, ১০ ও ১৯। এরপর আফগান সিরিজে সাইফ-তানজিদ জুটিতে আসে ১৮, ০ ও ৩৫ রান।

অথচ উইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে সাইফ-সৌম্যর ওপেনিং জুটি যখন ভরসা দিচ্ছিল, তখনই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ফের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাল টিম ম্যানেজমেন্ট। যার ফলস্বরূপ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে এলো মাত্র ২৭ এবং ১৩ রান।

বড় ম্যাচে কিংবা বড় রান তাড়ায় নিজেকে মেলে ধরতে না পারা তানজিদকে নিয়ে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দলকে কতটা সুবিধা দেবে? আর ফর্মে থাকা সৌম্যকে কতদিন এমন বলির পাঁঠা হতে হবে, সেই উত্তর হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের কাছেও নেই।

আরও পড়ুন

×