তানজিদদের প্রশংসায় মিরাজ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৯
কোচ ফিল সিমন্স ভালো উইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন। তাঁর চাওয়া অনুযায়ী সব ম্যাচ হয়েছে স্পোর্টিং উইকেটে। প্রথম ম্যাচটি একপেশেভাবে জিতেছে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয় মেহেদী হাসান মিরাজদের। তাই সিরিজের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয় অলিখিত ফাইনালে। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতেছে ১১ রানে।
মিরপুরে ১১ বছর আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল টাইগার বাহিনী। সিরিজ জয়ের পুরো কৃতিত্ব সতীর্থদের দিয়েছেন অধিনায়ক। সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম, পেসার নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদকে আলাদা করে ধন্যবাদ দেন তিনি।
সিরিজের শুরুর ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। তাঁর আগুনে বোলিং মোকাবিলা করতে না পারায় এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং। গতকালও ভালো বোলিং করেছেন তিনি। এ কারণে ব্যাটার তানজিদ তামিম ও পেসার নাহিদ রানা যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন।
প্রতিক্রিয়ায় রানা বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দ বোধ করছি। প্রথমবারের মতো সিরিজ সেরা হলাম।' বোলিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে তাঁর মত, ‘সাধারণ পরিকল্পনা নিয়ে বোলিং করেছি। চেষ্টা করেছি উইকেট নেওয়ার। পিচ বোলার ও ব্যাটারদের জন্য খুবই ভালো ছিল।' ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তানজিদ। পরের ম্যাচে রান না পেলেও গতকাল ১০৭ বলে করেছেন ১০৭ রান। এই ম্যাচে প্রথম থেকেই দেখেশুনে খেলেছিলেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ শট এড়িয়ে গেছেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। ফলে ইনিংস গড়ার কাজটা মোটামুটি মসৃণ হয়েছে। তিনি সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৯৮ বলে। ৯৪ রান থেকে ছয় মেরে ১০০তে পৌঁছান। সালমান আগার বল ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মেরেছেন। তানজিদ তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি ছয়টি চার ও সাতটি ছয় দিয়ে সাজান।
ম্যাচ ও সিরিজ সেরা তানজিদ বলেন, ‘আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল। আমি উইকেটে গিয়ে প্রথম ১০ ওভার বোঝার চেষ্টা করেছি। বল পুরোনো হওয়ায় নতুন ব্যাটারের জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। তাই চেষ্টা করেছি ইনিংস যথাসম্ভব বড় করতে। আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি। আমার জন্য এই সেঞ্চুরি বিশেষ কিছু।' তিনি জানান, ‘সমর্থক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই দারুণ সাপোর্ট করেছেন। তারা সব সময় আমাকে ব্যাক করেন।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজটি অধিনায়ক মিরাজের জন্য অগ্নিপরীক্ষা ছিল। সেখান থেকে মোটামুটি ভালোভাবেই উতড়ে গেছেন তিনি। টান টান উত্তেজনার শেষ ম্যাচটি জিতে অধিনায়ক বলেন, ‘অসাধারণ একটি ম্যাচ ছিল। ছেলেরা খুবই ভালো খেলেছে। শেষ ওভারে ১৪ রান লাগত ওদের। অমরা সবাই ভয় পেয়েছিলাম। উইকেট ভালো থাকায় ৩০০ রান করতে হতো। তামিম খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। লিটন দাস, শান্ত ও তাওহীদও ভালো করেছে।'
বোলিং ইউনিটের প্রশংসা করেন মিরাজ, ‘আমি মনে করি তাসকিন দারুণ বোলিং করেছে। প্রথম তিন ওভারে সে দুটি উইকেট নিয়েছে এবং শেষে গিয়েও দুটি উইকেট নিয়েছে। সিরিজজুড়ে তাসকিন ও নাহিদ ভালো বোলিং করেছে জুটি বেঁধে।'
দলের পারফরম্যান্সে খুশি মিরাজ। আগামী এপ্রিলে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। এই সিরিজের ছন্দ তারা নিয়ে যেতে চায় পরের সিরিজে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান
- মেহেদি হাসান মিরাজ
