সাক্ষাৎকার
মতবিরোধ দেখছেন না বুলবুল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:১২
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত দেড় বছরে বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হয়েছে। বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে তাঁর বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন দুজন পরিচালক। গত বছরের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) এ তদন্ত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১৬ মার্চ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিসিবি ও সরকারের মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই লম্বা ছুটি কাটিয়ে শনিবার রাতে দেশে ফিরেছেন বিসিবি সভাপতি। এনএসসির তদন্ত প্রক্রিয়া, বিসিবির বিবৃতি ও ক্রিকেটের কার্যক্রম নিয়ে রোববার এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
প্রশ্ন: নির্বাচনের অনিয়ম প্রশ্নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি গঠনের পর একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এতে করে সরকার ও বিসিবি মুখোমুখি হয়ে গেল কিনা?
বুলবুল: আমার কাছে মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল– মুখোমুখি যেটা বলা হচ্ছে; আমরা তো একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন যখন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল (সরকারি হস্তক্ষেপ) হয়তো কিছু একটা হতে পারে। আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল হতে পারে, তার মানে এই না যে হয়েছে (আইসিসি সম্ভাব্য শাস্তি)। পূর্ব সতর্কতা হিসেবে এটা (বিবৃতি দেওয়া) করা হয়েছে।
প্রশ্ন: সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কি আপনাদের জন্য বিব্রতকর?
বুলবুল: পাঁচ মাস হলো একটা বোর্ড স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে। এর মাঝে আমরা সিরিজ খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে– সবকিছুই হচ্ছে। তারপরে আমাদের যারা সরকারে আছেন, তারা আমাদের স্পোর্টসের মালিক। শুধু ক্রিকেট না সবকিছুর মালিক– আমরা সম্মান করি।
প্রশ্ন: বিবৃতিতে একটি শব্দ ছিল ‘ক্লোজ’। ওখানে কি তদন্ত বন্ধ করতে বলা হয়েছে?
বুলবুল: না ওটা না, ওটা ভুল (তদন্ত বন্ধ করা)। একটা শব্দকে যখন অনুবাদ করা হয়, তখন অনেক কিছু মনে হয়। কিন্তু ও রকম কিছু ছিল না। অমন হয় নাকি কখনও! আমরা তো ক্রিকেট চালাই, অবশ্যই আইসিসি আছে, এসিসি আছে। তবে দিন শেষে আমরা তো বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই কাজ করি।
প্রশ্ন: বিবৃতি না দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের পথ খুঁজলে ভালো হতো বলে মনে করেন?
বুলবুল: ওটা তখনই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল (তদন্ত কমিটি গঠন)। চিঠি ইস্যু করে দিয়েছে। এটা বিবাদ তো না, এটা পেশাদারিত্বের ব্যাপার। আমরা অবস্থানটা পরিষ্কার করেছি সবার ভালোর জন্য।
প্রশ্ন: তদন্ত কমিটির সঙ্গে আপনার কি কথা হয়েছে?
বুলবুল: এটা খুবই স্পর্শকাতর। যেহেতু একটি স্বাধীন কমিটি কাজ করছে, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করা যাবে না। আমি এখানে কিছু বলব না।
প্রশ্ন: দুজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, একজন আগে। সর্বশেষ মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। এটা কি বিরোধের কারণে?
বুলবুল: এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আমি নিজেও একজন পরিচালক। তবে তারা পদত্যাগ করেছেন, আমরা তো এখনও গ্রহণ করিনি। তাদের সঙ্গে কথা বলব।
প্রশ্ন: মিডিয়া কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আমজাদ হোসেন বলেছেন।
বুলবুল: এটা সরিয়ে দেওয়া হয়নি। এটা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: বিসিবি কি ক্রান্তিকাল পার করতে পারবে?
বুলবুল: আমি কোথাও কোনো মতবিরোধ দেখছি না। বোর্ড নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের জাতীয় দল খেলছে, আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে আমাদের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে– কোথাও কোনো মতবিরোধের লক্ষণ নেই।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় তদন্তের পরও বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ টিকে যাবে?
বুলবুল: এটা তো নির্বাচিত একটি কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।
প্রশ্ন: নির্বাচনের আগের চার মাস ও পরের পাঁচ মাস কেমন দেখলেন?
বুলবুল: প্রথম চার মাস ও পরের পাঁচ মাস– এই দুই ভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে আমি যাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রেই এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমরা জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি এবং সেখানে নিয়মিত খেলা চলছে। তবে আমাদের মূল আয়োজন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও তৃতীয় বিভাগ লিগ চালু করা। সেকেন্ড ডিভিশনে অংশ নেওয়া দলগুলো এরই মধ্যে খেলেছে, ফার্স্ট ডিভিশনও সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। ক্রিকেট বোর্ডের অনুদান রয়েছে, আম্পায়ার প্রস্তুত, মাঠ প্রস্তুত, স্কোরারও প্রস্তুত, খেলোয়াড়রাও প্রস্তুত। আমরা শুধু ক্লাবের জন্য অপেক্ষা করছি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেই সম্পর্কে কোনো উন্নতি হয়েছে?
বুলবুল: আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে। আপনারা জানেন, মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে– যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসে না। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই আমি বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনেই কাজ করি।
প্রশ্ন: কখনও কি মনে হয় বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন?
বুলবুল: খুব চেষ্টা করছি। দিন শেষে আমি তো একজন ক্রিকেটার।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত হবে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?
বুলবুল: ওটার ব্যাপারে আমার আসলে ধারণা নেই। আমি কিছু শুনিনি। আমি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা তো আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে– সবই নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।
- বিষয় :
- আমিনুল ইসলাম বুলবুল
- বিসিবি
- সাক্ষাৎকার
