সাফের শিরোপা ধরে রাখার পণ আজ
ছবি- বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:০৯
মালদ্বীপের মালের সমুদ্রের কাছে গিয়ে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন। পেছনে সমুদ্রের নীল জল আর মাঝে ট্রফি রেখে হাস্যোজ্জ্বল দুই অধিনায়ক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মিঠু চৌধুরী ও ভারতের সুরাজ সিংয়ের হাসিমাখা মুখ দেখে স্পষ্ট শিরোপা লড়াইয়ের আগে তারা কতটা চাপহীন। কিন্তু লড়াইটা যখন বাংলাদেশ-ভারত, তখন স্নায়ুর চাপ চলেই আসে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবলে দুই প্রতিবেশীর লড়াই ঘিরে দুই দেশের দর্শকদের মাঝে বিরাজ করে বাড়তি উন্মাদনা।
হোক না বয়সভিত্তিক সাফ, তাতে বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ের ঝাঁজ এতটুকু কমেনি। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি দুই দল। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশের যুবারা। সেই ট্রফিটা এবার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রোনান সুলিভান-ইউসুফ আলীদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের মীমাংসা না হলে সরাসরি টাইব্রেকার হবে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৯টায়।
ফাইনালে ওঠার পথে বাংলাদেশ ও ভারত– দুই দলই দেখিয়েছে ফুটবল শৈলী। গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াইটি শেষ হয় ১-১ গোলে। সেমিফাইনালে নেপালকে এক গোলে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে মার্ক কক্সের দল। ভুটানের জালে পাঁচ গোল দিয়ে ফাইনালে ওঠা ভারত জানান দেয় তারা অনূর্ধ্ব-২০ সাফের শিরোপা জিততে কতটা মরিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের এই দলটি যে দুই বছর আগের দলের মতোই, বরং এবার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান এবং ডেকলান সুলিভানের অন্তর্ভুক্তিতে শক্তি বেড়েছে। বিশেষ করে গত তিন ম্যাচেই মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়ে রোনান প্রমাণ করেছেন তিনিই দলের হৃদস্পন্দন।
ম্যাচজুড়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কখনও নিচে নেমে ডিফেন্স থেকে বল বিল্ডআপে সাহায্য করছেন, সতীর্থদের নিখুঁত পাস দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলছেন; আবার মুহূর্তেই সামনে উঠে ডি-বক্সে পজিশন নিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করছেন। মাঠের প্রতি ইঞ্চিতে তাঁর দৌড়, সিদ্ধান্ত এবং গেম রিডিং ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুই গোল করেছেন এ ফরোয়ার্ড। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর দিকে তাকিয়ে পুরো দল।
শুধু রোনান নয়, বাংলাদেশের স্বপ্নের সারথি তাঁর ভাই ডেকলানও। নেপালের বিপক্ষে বুধবার সেমিফাইনালে মাঠে ছিলেন ১০ মিনিটের মতো। এই সময়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ব্যক্তিগত স্কিল। এই ভারত ম্যাচেই লাল কার্ড দেখায় শেষ চারে নেপাল ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি মার্ক কক্স। ফাইনালটি যখন ভারতের বিপক্ষে, আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচেই দাঁড়াবেন বাংলাদেশের ডাগ আউটে। ব্রিটিশ কোচ কক্সের ভাবনায় শুধু ট্রফি, ‘ভালো মানের ফুটবলার এবং সেরা কোচ আছে ভারতীয় দলে। আমরাও কোনো অংশে কম নই। আমাদের দলেও সেরা খেলোয়াড় আছে। তাই ফাইনাল নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী।’
ফাইনালটি মালদ্বীপে হলেও প্রবাসী দশর্কদের উন্মাদনা দেখে এটাকে বাংলাদেশের ভেন্যুও বলা চলে। ১২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা প্রবাসী বাংলাদেশিদের। ধারণ করা হচ্ছে আজকের ফাইনালে গ্যালারির বেশির ভাগজুড়ে থাকবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দর্শকদের এমন উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী, ‘দর্শকদের উন্মাদনা দেখে আমি এটাকে নিজের মাঠই মনে করছি। সবাই আমাদের সাপোর্ট করে আসছেন। আমি চাচ্ছি কালকেও (শুক্রবার) তারা আসবেন এবং ফাইনাল ম্যাচে আরও দ্বিগুণ দর্শক হবে। তাদের সাপোর্টেই আমরা আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে মাঠে সেরাটা মেলে ধরতে পারব।’
ভারতকে হারিয়ে ট্রফিটা বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় মিঠুর কণ্ঠে, ‘ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জেতার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখন আমাদের সামনে আসছে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে আমরা প্রস্তুত। আমি আগেই কিছু বলতে চাই না, ট্রফির পরে সবকিছু বলব। প্রতিপক্ষ যখন ভারত হয়, তখন মনের মধ্যে অন্যরকম একটা বিষয় কাজ করে। আমি এবং আমার টিমমেটরা মনে করে ভারত আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভারতের বিপক্ষে খেলা মানে আমরা সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কালও সেটাই করব।’
- বিষয় :
- অনূর্ধ্ব-২০ সাফ
- বাংলাদেশ-ভারত
