আরও সুযোগ সুবিধা চান মিঠুরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০৫
মঞ্চে ট্রফি হাতে নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো উদযাপন করেন রোনান সুলিভান। যতক্ষণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন, ততক্ষণ নানান ভঙ্গিতে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান। তাদের বন্ধু ইব্রাহিম নওয়াজও ছিলেন উৎফুল্ল।
সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুধু মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন অনূর্ধ্ব-২০ সাফজয়ী বাংলাদেশের ফুটবলাররা। দ্বিতীয়বারের মতো বয়সভিত্তিক এই সাফের শিরোপা জেতা দলের প্রত্যেককে এক লাখ টাকাসহ ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সংবর্ধনা এবং আর্থিক পুরস্কারটি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাবে বলে জানান বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। একই সঙ্গে এমন সুযোগ-সুবিধা পেলে আগামীতে আরও ভালো ফল আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মালদ্বীপের মালেতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে বাংলাদেশ। শনিবার দেশে ফেরা দলকে বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিয়ে আসা হয় হাতিরঝিলে। সেখানে রাতে দেওয়া হয় সংবর্ধনা। ওই দিনই বাফুফে সহসভাপতি এবং ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক ফুটবলার ও কোচিং স্টাফকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থ তুলে দেন।
গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ ফুটবলারকে শুধু অর্থ পুরস্কারই দেওয়া হয়নি; সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া কার্ড। অবশ্য এই কার্ড পেলেও প্রতি মাসে ভাতা পাবেন না তারা। তরুণ ফুটবলারদের উজ্জীবিত করতে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই ফুটবলাররা যখন সিনিয়র দলে থাকবেন বা খেলবেন, তখন তারা এর আওতায় আসবেন। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুবিধা (হাসপাতাল, ট্রেন টিকিট ইত্যাদি) যখন শুরু হবে, তখন এই ফুটবলাররা সেই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।
এমন সংবর্ধনায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ফুটবলাররা। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী একটা আবদার জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে। সাফের এই ট্রফিটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কোনো ফুটবল দল হিসেবে আমরা এই শিরোপা জিতলাম। আমাদের দলের একটি বড় ইচ্ছা আছে, এই ট্রফিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই অর্জনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই।’ বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়কের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন দলকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।’
এই সাফল্যের জন্য ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিঠু চৌধুরী। একই সঙ্গে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি, ‘তাবিথ আউয়াল স্যার আমাদের অনেক খেয়াল রাখছেন এবং আমাদের সব দাবি পূরণের চেষ্টা করেছেন। এমনকি জাতীয় দলের সঙ্গে আমাদেরও পাঁচতারকা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমন সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও ভালো ফল আনতে পারব।’
