সিমিওনের দুর্গ ভাঙার চ্যালেঞ্জ আর্তেতার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:১৬
মাদ্রিদ থেকে লন্ডন–আকাশপথে দূরত্ব খুব বেশি নয়, কিন্তু যখন ডাগ আউটে মিকেল আর্তেতা আর দিয়েগো সিমিওনি দাঁড়ান, মনে হয় দুই ভিন্ন গ্রহের ফুটবল দর্শনের সংঘাত চলছে। একদিকে আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতার ‘প্রো অ্যাক্টিভ’ কৌশল, অন্যদিকে অ্যাথলেটিকোর কোচ সিমিওনের ‘রি অ্যাক্টিভ’ দর্শন–আজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এই দুই কোচের লড়াকু ফুটবল দেখার অপেক্ষায় থাকবেন দর্শকরা।
যেখানে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ তাদের নিজেদের মাঠে মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের। এমনিতে গ্রুপ পর্বে দুই দলের দেখা হয়েছিল এই মৌসুমেই। সেই ম্যাচটিতে উত্তর লন্ডনের মাঠে গিয়ে গেল অক্টোবরে ৪ গোল হজম করেছিল সিমিওনের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে ম্যাচটি যখন ‘নকআউট’ এবং প্রতিপক্ষ যখন ইংলিশ ক্লাব, তখন মেত্রাপলিতানো স্টেডিয়ামে ভয়ংকর অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
ইতিহাস বলে এ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজেদের মাঠে কখনও হারেনি অ্যাথলেটিকো। গত ২১ ম্যাচের মধ্যে তারা এখানে জয় পেয়েছে ১৪টি আর ড্র সাতটি। এই পরিসংখ্যান জেনেই চ্যালেঞ্জটি নিয়েছেন আর্সেনাল কোচ আর্তেতা। ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই মৌসুম সেমিফাইনাল খেলাটা আমাদের ক্লাব ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত। সাধারণত এই পর্যায়ে এসে দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্যই হয়। আমি শুধু খেলোয়াড়দের বলব মাদ্রিদে গিয়ে ম্যাচটি উপভোগ করতে।’
স্পেনের মানুষ হলেও আর্তেতা উত্তর লন্ডনেই ঠিকানা গড়ে নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে দলটিকে দারুণভাবে গুছিয়েও নিয়েছেন। এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে আছে তাঁর দল। তাঁর মতো সিমিওনেও মাদ্রিদে ঘরবাড়ি করেছেন। আর্জেন্টিনার এই মানুষটি ১৫ বছর ধরে দলটির কোচিংয়ের দায়িত্বে। দু-দুবার লা লিগা শিরোপা জেতালেও এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি স্পর্শ করাতে পারেননি তাঁর ছেলেদের। দুবার তিনিও ফাইনালে উঠিয়েছিলেন। সর্বশেষ বছর দশেক আগে ফাইনালে উঠেছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ১০ বছর পর আবার সেই সুযোগ তাদের সামনে। কিন্তু এমন অবস্থায় দলের অনেকেই চোট আঘাতে ঘায়েল।
মিডফিল্ডার পাবলো ব্যারিওস ও ডিফেন্ডার গিমিনিজ ইনজুরির কারণে আজ মাঠেই নামতে পারবেন না। শঙ্কা আছে ফরোয়ার্ড অ্যাডিমোলা লুকমানকে নিয়েও। সেখানে সিমিওনে তাঁর পছন্দের ৪-৪-২ ফরমেশন সাজাতে পারেন আক্রমণ ভাগে গ্রিজম্যান আর আলভারেজকে সামনে রেখে। মাঝমাঠে থাকবে তাঁর পুত্র জুলিয়ানো সিমিওনে, লরেন্তে, কোকে আর বায়েনা। কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে বিদায় করার এক প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আছে এই মুহূর্তে দলটির মধ্যে। তা ছাড়া ফর্মে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার আলভারেজও। তবে দলের একজন ফুটবলারের জন্য হলেও আজকের ম্যাচটি জিততে চাইবে সবাই। গ্রিজম্যান–ফরাসি এই তারকা ফুটবলারের জন্য অ্যাথলেটিকোর হয়ে এটাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ সুযোগ। স্প্যানিশ ক্লাবটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার আগে গ্রিজম্যানই পাখির চোখ করে রেখেছেন আজকের ম্যাচটি।
অ্যাথলেটিকোর মতো চোট আঘাত আছে গানারদের মধ্যেও। মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো খেলতে পারবেন না পায়ের ইনজুরির কারণে। শঙ্কা আছে ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজকে নিয়েও। সেই সঙ্গে টিম্বার, ইজি ও ক্যালাফিওরির চোট নিয়েও চিন্তিত আর্তেতা। আর্তেতা তাঁর ৪-৩-৩ ফরমেশন সাজাতে পারেন আক্রমণ ভাগে মার্তিনেল্লি, গোয়েকেরেস আর মাদুয়েকেকে নিয়ে। বুকায়ো সাকো মাত্রই ইনজুরি থেকে মাঠে ফিরেছেন বটে, তবে আজ তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চেই বসে থাকতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াগুলো। সব মিলিয়ে আজ তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হতে পারে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের রাফ অ্যান্ড টাফ ফুটবল।
