লিটনের কাঠগড়ায় লোয়ার অর্ডার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১১:২৮
চট্টগ্রামে প্রথম টি২০ ম্যাচের পর থেকে প্রত্যাশার বেলুনটা উড়ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও শেষ ম্যাচ ঘিরে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু তাতে হতাশার জল ঢেলে দেয় বৃষ্টি আর ব্যাটিং ব্যর্থতা। এতে লিটন কুমার দাসদের টি২০ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৫ ওভারের ম্যাচ ছয় উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। ম্যাচ হারের কারণ হিসেবে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখেন টাইগার অধিনায়ক। ১৫ ওভারে পর্যাপ্ত রান করতে না পারা পরাজয়ের কারণ বলে মনে করেন তিনি।
টসে হেরে ব্যাটিং পেয়েছিলেন লিটনরা। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। তিন ওভারে ২১ রান করেছিলেন তারা। পরের দুই ওভারে তিন উইকেট হারালে চাপে পড়ে দল। পাওয়ার প্লে থেকে ৪৩ রান উঠেছে। ৬.৪ ওভারে বৃষ্টি হানা দেয়। ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট পর আবার খেলা শুরু হলে স্বাভাবিক ছন্দ ছিলেন না লিটনরা। তাওহীদ হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্ত ছিল উইকেট পতনের মিছিল। বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে।
১৫২.৯৪ স্ট্রাইক রেটে ১৭ বলে ২৬ রান করা লিটন আক্ষেপ করেন সিরিজ শেষের সংবাদ সম্মেলনে, ‘ম্যাচ হারার পেছনে রানটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ব্যাটিংয়ে যদি রান দিতাম তাহলে ভিন্ন চিত্র হতে পারত। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি বলেছিলাম, লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই তারাও ব্যাটিংয়ে অবদান রাখবে। আজ সেই জায়গা ছিল, কিন্তু তারা আবার ব্যর্থ হয়েছে।’ দলীয় ৮৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিশাদ হোসেনদের দিকে তাকিয়েছিল দল। অথচ বোলারদের কেউই উইকেটে সেট হতে পারেননি।
বাংলাদেশ শেষ ছয় উইকেট হারায় ১৬ রানে। সাইফউদ্দিন শূন্য, রিশাদ ৫, শরিফুল ইসলাম ২ ও রিপন মণ্ডল শূন্য রানে উইকেট হারান। মুড়িমুড়কির মতো উইকেট পতনে শোভন স্কোরে যাওয়া হয়নি। ১৫ ওভারের ম্যাচে কত রান নিরাপদ ছিল জানতে চাওয়া হলে লিটন বলেন, ‘দেখেন দুই রকম পরিস্থিতি ছিল। আমরা যখন খেলতে নামি, তখন উইকেটের আচরণ একরকম ছিল, তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটেও চলে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে একটি জুটি গড়ার চেষ্টা ছিল। বৃষ্টির কারণে সেখানে বিরতি পড়ে। ওখান থেকে আর ইনিংস বড় করা সম্ভব হয়নি। সেখানে প্রতিপক্ষ জানে তাদের সামনে ছোট লক্ষ্য এবং কোনো বিরতি নেই। এ ছাড়া বল ভিজে গেলে ব্যাট করা সহজ হয়। আমরা যে রান করেছি, তাতে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা সম্ভব ছিল না।’
বাংলাদেশকে ১৪০ রান করতে হলে লিটন-হৃদয়-শামীমের যে কোনো একজনকে ঝোড়ো ইনিংস খেলতে হতো। তারা ব্যর্থ হওয়ায় বাকিরা এলোপাতাড়ি ব্যাট চালিয়েছেন। ফলে ১০২ রানে অলআউট হয়েছে দল। ১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১.৪ ওভারে চার উইকেটে ১০৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। টিম রবিনসন ২৩, বেভন জ্যাকবস ৩১ বলে অপরাজিত ৬২ ও ডিন ফক্সক্রফট হার না মানা ১৫ রান করেন। অথচ বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছে অসময়ে।
লিটনের মতে, ‘টি২০ সংস্করণটাই এমন যে আপনাকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতেই হবে। আবার নিচের সারির ব্যাটারদের রান করতে হবে। আমাদের নিচের ব্যাটাররা যদি রান দিতে পারে, সেটা হেল্পফুল হবে।’ টাইগার দলপতি বোলিং ইউনিট নিয়ে খুশি। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় খেলতে আসা পেসাররাও ভালো বলে দাবি তাঁর। এভাবে বিকল্পদের সুযোগ দেওয়া ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি।
বাংলাদেশ গতকাল শনিবার ম্যাচ হারলেও দর্শক সমাগমে খুশি লিটন, ‘আবার আমাদের দর্শকরা আমাদের সাপোর্ট করছেন। দেশের মাটিতে দর্শক সমর্থন পেলে আলাদা একটা সুবিধা থাকে। আমি আশা করব দর্শকরা আবার মাঠে আসবেন। দর্শক হচ্ছে খেলার প্রাণ, তারা সমর্থন দিলে খেলাটা সহজ হয়ে যায়।’ এই খুশি-আনন্দ দেশজুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারত লিটনরা সিরিজ জিততে পারলে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
- লিটন দাস
