‘ক্রিকেটাররা রিকশা চালাচ্ছিল, ফুচকা বিক্রি করছিল’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৫:১৩
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সহ অনেক কিছুই উঠে এসেছে তাতে। বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল বর্তমান দায়িত্বকে দেখছেন বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে। কেন একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রয়োজন হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম তুলে ধরেছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের এক অন্ধকার অধ্যায়। তার মতে, আগের বোর্ডের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং ক্লাবগুলোর লিগ বর্জনের ফলে সাধারণ ক্রিকেটাররা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।
তামিম ইকবাল জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেট মূলত ঢাকা লিগ কেন্দ্রিক। কিন্তু আগের বোর্ডের অনিয়মের প্রতিবাদে প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন স্তরের ৭৬টি দলের মধ্যে প্রায় ৫০টি দল খেলায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রিমিয়ার লিগের ১২টি দলের মধ্যে ৯টিই ছিল লিগ বর্জনের পক্ষে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়ে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম।
তামিম বলেন, ‘ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক পাচ্ছিলেন না। যারা ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই নিজেদের জীবন ও স্বপ্ন গড়েছিলেন, তারা আক্ষরিক অর্থেই পথে বসে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেক খেলোয়াড় জীবন বাঁচাতে রিকশা চালানো কিংবা ফুচকা বিক্রির মতো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন।’
আগের কমিটির সমালোচনা করে তামিম বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কমিটির ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছিলেন এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিল নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তদন্তে নামে এবং অনেক পরিচালকই আগের বোর্ডের বিপক্ষে জবানবন্দি দেন।
সবকিছু নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন দেশসেরা এই ওপেনার। তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য চেষ্টা করে দেখা। আমি সফল হতে পারি আবার ব্যর্থও হতে পারি, তবে আমি সেই ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত কারণ আমি অন্তত ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা করছি।’
অ্যাড-হক কমিটিকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। তবে তামিম জানান, তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে বোর্ড তুলে দিতে চান।
- বিষয় :
- তামিম ইকবাল
- বিসিবি
