‘আমরাও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি’
৫ উইকেট পান নাহিদ রানা
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ১১:০৭
টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ব্যাট হাতে নামলেই রান পান। গত বছরের শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই সাফল্যের ধারায় আছেন তিনি। গল টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন, সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও ছিল সেঞ্চুরি। টেস্টের নতুন বছর শুরুটাও হয়েছে সেঞ্চুরিতে। গতকাল রিভার্স সুইপ খেলে ৮৭ রানে এলবিডব্লিউ না হলে জোড়া সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়া হতো তাঁর। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া শান্তর দল টেস্টে ভালোই সাফল্য পাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে ১৭ টেস্টের সাতটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। জয়ের মুকুটে শেষ পালকটি যোগ হলো গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শান্তদের এটি ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। এই জয়ের পেছনে দলীয় সাফল্যকে বড় করে দেখেন তিনি। টাইগার দলপতি জানান, পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া জয় ভবিষ্যতের পথ দেখাবে। শান্ত বলেন, ‘সব থেকে বড় বিষয় হলো প্রতিপক্ষকেও আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।’
মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে পুরস্কার বিতরণীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক। ২৩ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্ন হলো সাফল্য নিয়ে। যেখানে অধিনায়ক বোলারদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন, ‘নাহিদের আগে তাসকিনের কথা বলতে চাই। চা বিরতির পর সে যেভাবে শুরু করেছে, তা অসাধারণ। ওর চার-পাঁচ ওভারের স্পেলে ছন্দ এনে দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা ছিল নাহিদ রানা। আমরা জানি যে ও কত স্পেশাল এবং কত জোরে বল করে। তার সঙ্গে স্কিলটাও ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল ওর বলে খেলতে, তা দেখা অবশ্যই ভালো লাগার মতো। খুবই খুশি ও যেভাবে দলের জন্য অবদান রাখছে নিয়মিত।’
বাংলাদেশ ৪১৩ রান করেছিল প্রথম ইনিংসে। ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। বৃষ্টি বাধার মুখেও ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তাইজুল ইসলামদের সমন্বিত বোলিংয়ে সফরকারীদের অলআউট করে ১৬৩ রানে। ২৩.১ ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেওয়ার স্প্রিট নিয়ে শান্ত বলেন, আজকে (মঙ্গলবার) সকাল থেকে আমাদের একটা মেসেজ ছিল যে আমরা খেলাটা জেতার জন্য খেলব, পরিস্থিতি যে রকমই থাক। চা বিরতিতে কোচ এই মেসেজটা দিয়েছেন এবং আমরা সবাই ওই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে ঢুকেছিলাম যে এখান থেকে আমরা ম্যাচটি জিতব। না জিততে পারলে ওদের যেন কষ্ট হয় খেলাটা বাঁচাতে (ড্র) করতে। সো এ রকমই মনোভাব ছিল। একবারের জন্যও আমরা এ রকম চিন্তা করিনি খেলাটা থেকে আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই।’ নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস ঘোষণাকে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, ‘এই টেস্টে আমরা যে ঘোষণা (ইনিংস) করেছি, তা অনেক বড় সিদ্ধান্ত ছিল। যেটা সাধারণত আমাদের দল কখনও করেনি এভাবে। এই সিদ্ধান্তটা হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের আরও আত্মবিশ্বাস দেবে যে এখান থেকেও এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরাও প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।’
এই টেস্টের ইনিংসে নাহিদ রানা ৫ উইকেট পেলেও দেড় বছর পর ফিরে দারুণ বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে বোলিংয়ে জুটি গড়েন। বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও জুটির প্রভাব ছিল। তিন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো থাকায় বড় ইনিংস খেলতে পেরেছেন অধিনায়ক। নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে শান্ত বলেন, ‘প্রথম ইনিংসটা বড় হতে পারত। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি, করতে পেরেছি। তৃতীয় ও চতুর্থ দিন উইকেটটা কঠিন ছিল। পঞ্চম দিনেও ব্যাটিং করেছি। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ভালো হয়েছে। তবে আমি বলব যে প্রথম ইনিংসে আরেকটু বড় হতে পারত।’
- বিষয় :
- ক্রিকেট
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান
