ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টেস্টে সেঞ্চুরির শীর্ষে মুশফিক

টেস্টে সেঞ্চুরির শীর্ষে মুশফিক
×

ছবি- ইউসুফ আলী

সেকান্দার আলী, সিলেট থেকে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১৭:৩২ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ১৮:০৯

মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি উদযাপনের একটা নিজস্বতা আছে। যে কোনো দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হলে মনের আনন্দে তা উদযাপন করেন। সোমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া সেঞ্চুরি একটু বেশিই উপভোগ করতে দেখা গেলো তাকে। খুররম শাহজাদের বলটি এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানায় পাঠিয়ে অপর প্রান্তে গিয়ে ব্যাট ছুড়ে ফেলেন মাটিতে। গ্লাভস, হেলমেট খুলে ড্রেসিংরুমের দিকে প্রসারিত করেন দুই বাহু। তাইজুল ইসলামকে আলিঙ্গন শেষে ক্রিস গেইল অনুকরণে ব্যাটের দুই দিকে ধরে গ্যালারির সমর্থকদের দিকে বিত্তাকার ঘুরেন। এককভাবে ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি করায় অভিবাদন পেতেই পারেন মুশফিকুর রহিম।

এতদিন ১৩টি করে সেঞ্চুরি ছিল মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের। দুজনের মধ্যে লড়াই চলছিল একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার। মুমিনুলের সামনে বেশ কয়েকবার সুযোগ এসেছে ১৪তম সেঞ্চুরি করার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেই ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার। ৯১ রানে করে আউট হন তিনি। সিলেট টেস্টের আগে টানা পাঁচটি ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি আছে তাঁর। মুমনিুল শেষ সেঞ্চুরি কানপুরে ভারতের বিপক্ষে। এই জায়গায় মুশফিক ব্যতিক্রম। শেষ ১১ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি পেলেন। গত বছর শ্রীলংকার গল টেস্টে খেলেন ১৬৩ রানের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রান করেছেন মিরপুরে। এবার সেঞ্চুরি পেলেন পাকিস্তানের বিপক্ষেও। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টানা তিন সিরিজে সেঞ্চুরি পেলেন তিনি।

ঢাকা টেস্টে ৭১ ও ২২ রান করেন মুশফিক। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের পেলেন সেঞ্চুরি। শূন্য রানে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে দিন শুরু করেন মুশফিক। ৪ রানে জুটি ভাঙে। অধিনায়ক শান্ত আউট হন ১৫ রানে। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস প্রতিরোধ গড়া ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখেছেন সমর্থকরা। ১৮৮ বলে ১২৩ রানের জুটি দুজনের। দুইবার জীবন পেয়ে ৯২ বলে ৬৯ রান করেন লিটন। এই সময়ে ৯৬ বল খেলে ৪৯ রানে ছিলেন মুশফিক। তিনি হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১০৩ বলে। পরের পঞ্চাশ করেন ৭৫ বলে। ৯টি চার ও একটি ছয়ে সাজানো ইনিংস তাঁর। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মুশফিকের। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে খেলেন ১৯১ রানের ইনিংস। মুশফিক আউট হন ১৩৭ রানে। ২৩৩টি বলের মোকাবেলায় ১৪টি চার ও ১টি ছয় সাজানো তাঁর ইনিংস।

২০০৫ সালে মুশফিকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল টেস্ট দিয়ে। ক্রিকেটের তীর্থ খ্যাত লর্ডসে ১৯ রান করেছিলেন ৫৬ বলে। এই সংস্করণে তাঁর ২১ বছর পূর্ণ হবে ২৬ মে। এই দীর্ঘ পথ চলায় বর্ণিল ক্যারিয়ার মুশফিকের। অধিনায়ক ছিলেন তিন সংস্করণে। চোট ছাড়া কোনোদিন জাতীয় দলের ম্যাচ বাদ দিতে চাননি। খেলতে খেলতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছেন ইতিহাসে। টি২০ এবং ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ক্রিকেটে খেলেছেন এখনও। এই নিবেদন দেখে বোঝা যায় টেস্ট ক্রিকেটটা তার কাছে কত প্রিয়। 

মুশফিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আর কত বছর খেলবেন টেস্ট ক্রিকেট। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘এরকম তো কোন লক্ষ্য নাই। কালকের ম্যাচও শেষ হয়ে যেতে পারে আবার বাকিটা উপর আল্লাহ জানে। আমি চেষ্টা করি প্রতিটা ম্যাচে। যে কয়টা দিন বেঁচে থাকি যেন মাঠে কাটাতে পারি, এই ইচ্ছা আছে। খেলা এখন ছাড়বো বা কবে ছাড়বো এরকম করে সিদ্ধান্ত নেইনি। ইনশল্লাহ খুব ভালো সময় থাকতে ছেড়ে দিব।’ 

২১ বছরে টেস্ট ক্যারিয়ার হলেও অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সিরিজ খেলা হয়নি মুশফিকর। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেললেও সেই দলে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ছিলেন ধীমান ঘোষ। এ বছর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ফিট থাকলে মুশফিক খেলবেন সেখানে, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ায় কোনো সিরিজ খেলিনি বিশ্বকাপ ম্যাচ ছাড়া। এটা অনেক বড় একটা স্বপ্ন যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলা।’ ২১ বছরে ১০২টি টেস্ট খেলা মুশফিক দেশের ক্রিকেটে প্রেরণার নাম।

আরও পড়ুন

×