গ্যাং স্টারদের পাকিস্তান বধ
ছবি- ইউসুফ আলী
সেকান্দার আলী, সিলেট থেকে
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৫:৩০ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১৫:৫৭
একটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করে নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাপশনে লিখেছিলেন, গ্যাং স্টার! ছবিটিকে ভাইরাল করেছিলেন নেটিজেনরা। বাংলাদেশ যেভাবে পাকিস্তানকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছে, যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে মাঠে, যেভাবে সাহস দেখিয়েছে স্লেজিং করার, যেভাবে উদযাপন করেছে জয়, ক্রিকেটের গ্যাং স্টারের চরিত্রই প্রকাশ হয় তাতে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজের উভয় ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটিং পেয়েছে বাংলাদেশ। যেটাকে দারুণ ভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। চারজন ব্যাটার ধারাবাহিক কম বেশি রান করায় শোভন স্কোর হয়েছে। ঢাকা টেস্টের স্মৃতি ফিকে হয়ে গেছে সিলেট টেস্ট জেতায়। মিরপুরে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে জিতেছিল দেশ। সিলেটে পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্ন ক্রিকেট খেলে জেতেন শান্তরা।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের শেষের রোমাঞ্চ ছিল হৃদয় কাপানো। পঞ্চম দিন সকালে ভয় ধরিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। সাজিদ খানকে নিয়ে ৭৪ বলে ৫৪ রানের যে জুটি গড়ে তোলেন তাতে ছিল স্বাগতিকদের জন্য ভয়েরকাটা মেশানো। পাকিস্তানের জন্য তা ছিল ১২১ রানের লক্ষ্য ছোঁয়ার দীপ্ত পদক্ষেপ। মোক্ষ সময়ে তাইজুল ইসলাম জুটি ভাঙতে না পারলে বিপদ হয়ে উঠতে পারতেন তারা। সাজিদকে ২৮ রানে আউট করার পর শংকা কেটে গিয়ে জয়ের সূর্য উঁকি দেয়। শরিফুল ইসলাম যেই রিজওয়ানকে আউট করেন তখনই নিশ্চিত হয়ে গেছে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা। শেষের সমাপ্তি তাইজুলের হাতেই হলো খুররম শাহজাদকে আউট করায়। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ৩৫৮ রানে। এক কথায় পাঁচদিন ধরে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ক্রিকেটের প্রদর্শনী হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। যেখানে প্রতি ঘণ্টা, প্রতি সেশন, প্রতিটি দিন জয়ের মানসিকতা দেখিছেন স্বাগতিক ক্রিকেটাররা।
পঞ্চম দিন সকালে এক ঘণ্টা ৫ মিনিটের রোমাঞ্চকর সেশনটি ছিল উত্তাপ ছড়ানো। উঁকি দিয়েছে হারের শংকা। শেষ পর্যন্ত সকল প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে ৭৮ রানে ম্যাচ জেতেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। আশা করা হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে উল্লাস হবে, গ্যাং স্টাররা গ্যাং নাম নৃত্য করবেন, কিন্তু তার কিছুই হলো না। ছোট দলকে হারানোর পর একটি বড় দল যা করে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উদযাপন তেমনই মনে হয়েছে। উইকেটের কাছে এসে একটি গ্রুপ ছবি, ট্রফি নিয়ে ছবি তোলা এবং উল্লাস ধনিতে শেষ। দেখতে দেখতে টেস্টে যে বড় দল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সে খেয়াল রাখেনি কেউ।
বাংলাদেশ এখন টেস্টের অভিজ্ঞ একটি দল। শক্তিশালী একটি ব্যাটিং লাইনআপ আছে। মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস ধারাবাহিক রান করেন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে যেমন দুজন ব্যাটার দুটি সেঞ্চুরি করেছেন দুর্দান্তভাবে। সিলেট টেস্টের জয়ের ভীত তৈরি হয়েছিল মূলত লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে। তিনি যখন তাইজুল ইসলামকে নিয়ে জুটি গড়েন তখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। টেল এন্ডারদের নিয়ে ১২৬ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি। মুশফিকুর রহিম দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৭ রান করেছেন ব্যাকফুটে থেকে। এ কারণেই হয়তো মুশফিক সিরিজ সেরা আর লিটন ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন।
এই সিরিজ জিতে অনেকগুলো রেকর্ডের সঙ্গী হলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তানকে। টানা চার টেস্ট জয়ও একটি রেকর্ড। গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডকে দুই টেস্টে, এ বছর পাকিস্তানকে দুই টেস্টে হারালো। ছোটমোট আরও কত রেকর্ডই তো আছে। এই যেমন দেশের মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তানকে।
ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে টেস্ট র্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। আগের সর্বোচ্চ র্যাংকিং ছিল ৮ নম্বর। বাংলাদেশ ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলংকার নীচে আর পাকিস্তানের ওপরে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও ৯ নম্বর জায়গা থেকে পাঁচে জাম্প করেছে। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের ওপরে টাইগার বাহিনী।
