ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুটবল

বিশ্বকাপের হাওয়ায় জার্সি পতাকার দোকানে ভিড়

বিশ্বকাপের হাওয়ায় জার্সি পতাকার দোকানে ভিড়
×

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে উত্তেজনার আঁচ লেগেছে। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা কিনছেন ভক্তরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানে - সমকাল

দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১০:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজধানী। তবুও থেমে নেই গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানগুলোতে মানুষের ঢল। একদিকে চলছে ঈদুল আজহার কেনাকাটা। অন্যদিকে দোকানে দোকানে ফুটবলপ্রিয় লোকজনের ভিড়। গুলিস্তানের ফুটপাতজুড়ে যেন আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে আসছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা। হলুদ-সবুজ, নীল-সাদা কিংবা লাল রঙের জার্সি; পতাকা আর ফুটবলের দোকানে তাই বাড়ছে ভিড়। ঈদের আনন্দের সঙ্গে বিশ্বকাপের আবেগও মিলেমিশে একাকার।

গতকাল শনিবার রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে পোশাকের দোকানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতের জার্সি ও পতাকার দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। রোদ আর গরম উপেক্ষা করে ক্রেতারা থামছেন দোকানে দরদাম করছেন প্রিয় দলের জার্সি নিয়ে।

ফুটপাতজুড়ে সারি সারি করে সাজানো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। কোথাও ঝুলছে ছোট-বড় পতাকা; শোরুমে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ফুটবল। বিক্রেতাদের কণ্ঠে ভেসে আসছে ডাক–‘ভাই, বিশ্বকাপের নতুন জার্সি!, কম দামে নিয়ে যান!’

ফুটপাতের বিক্রেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে এসে অনেকেই জার্সি কিনে নিচ্ছেন। এখন তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বলে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর বিশ্বকাপের উন্মাদনা আরও বাড়বে। তখন জার্সির চাহিদা এবং দামও বাড়তে পারে। এখন মানুষ ঈদের পোশাকের সঙ্গে দরদাম করে জার্সিও কিনে নিচ্ছেন। অনেকে আবার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আগে ছোট ভাই বা বন্ধুদের জন্যও জার্সি কিনছেন।’

গুলিস্তানের ফুটপাত ছাড়িয়ে শোরুমেও একই চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশ স্পোর্টস শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের কর্মীরা নতুন নতুন জার্সি, ফুটবল ও পতাকা সাজিয়ে রাখছেন। দোকানে ঢুকলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন দেশের রঙিন জার্সির সারি।

কয়েক দশক ধরে ওই শোরুমে কর্মরত সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল বা ক্রিকেট এলেই আলাদা প্রাণ ফিরে আসে ব্যবসায়। এত বছর ধরে কাজ করছি, কিন্তু মানুষের খেলাপ্রীতির কোনো পরিবর্তন দেখিনি। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু বিশ্বকাপের উন্মাদনা একই রয়ে গেছে। তবে এটা সত্য যে, ফুটবল বিশ্বকাপের সময় আমাদের দেশের মানুষের মাঝে আলাদা আবেগ কাজ করে।’

একই শোরুমের তরুণ বিক্রয় প্রতিনিধি মোজাম্মেল বলেন, ফুটপাতের তুলনায় শোরুমের জার্সির কাপড় ও সেলাইয়ের মান ভালো হওয়ায় অনেকেই টেকসই জার্সি কিনতে আসেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, প্রিয় দলের খেলা দেখার সময় পরার জন্যও জার্সি কেনেন। তাই তারা আরামদায়ক ও ভালো কাপড়ের জার্সি খোঁজেন। সেই কারণেই শোরুমে আসেন।’

সরেজমিন দেখা যায়, ফুটপাতে জার্সি সাইজ ও মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে শোরুমগুলোতে জার্সির দাম শুরু ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

জার্সির পাশাপাশি গুলিস্তানের বাজারে এখন পতাকার দোকানও বসা শুরু হয়েছে। ফুটপাতের একপাশে বড় বড় বাঁশে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। কোথাও ছোট হাত পতাকা, কোথাও বিশাল আকৃতির ব্যানারসদৃশ পতাকা।

বিক্রেতা হারুন বলেন, ‘এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি ব্যবসা। ঈদের পর বেশি বিক্রি হবে।’ তিনি জানান, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৩ ফুট আকারের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়েও বড় পতাকা চাইলে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।

পতাকার কাপড়ভেদে দাম আলাদা। সার্টিন কাপড়ের পতাকা ২০০ টাকা থেকে শুরু; আর বাংলা কাপড়ের পতাকা ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার পতাকাও মিলছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ মানুষ মূলত ঈদের শপিং করতেই গুলিস্তানে এসেছেন। তবে প্রিয় দলের জার্সি চোখে পড়লে অনেকেই নিজেকে সামলাতে পারছেন না। তরুণ সাইফুল সুমন প্যান্ট কিনতে এসে ফিরছেন র্জামানির জার্সি নিয়ে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘ঈদের কাপড় কিনতে এসেছিলাম। জার্মানির জার্সি দেখে না নিয়ে আর পারলাম না।’

আরও পড়ুন

×