ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জার্মানি

নাগেলসম্যানের চোখে শিরোপা, মনে ‘সমন্বয়ের’ জোর

নাগেলসম্যানের চোখে শিরোপা, মনে ‘সমন্বয়ের’ জোর
×

জার্মান ফুটবল দলের কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১৩:৫৫ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ১৩:৫৭

ফুটবল বিশ্বকাপ ও পারফরম্যান্স নিয়ে জার্মানদের এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা হতাশার অবসান ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান। তিনি জার্মানিকে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার তীব্র আকঙক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল হলেও, গত দুই আসরে নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি। রাশিয়া ও কাতারে অনুষ্ঠিত আসরের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এমনকি এই বৈশ্বিক আসরে জার্মানির জেতা সবশেষ নকআউট ম্যাচটি ছিল ২০১৪ সালের ফাইনাল।

এবারের আসর ঘিরে নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে জার্মানরা পুরোপুরি প্রস্তুত। 

‘একটি পরিবারের মতো’
নাগেলসম্যান ভালো করেই জানেন, তাঁর দলে বড় কোনো নাম নেই। এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে তিনি এমন একটি দল গঠনে মনোযোগ দিয়েছেন, যা একক নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় শক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল হবে।

২০২৩ সালে জার্মানির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ সেরা খেলোয়াড়দের বেছে নেওয়ার চেয়ে, বরং যথাযথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাগেলসম্যান বলেন, ‘আমরা একটি পরিবারের মতো হয়ে উঠতে চাই। দলের প্রত্যেককে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মিশে যাওয়ার গুণ থাকতে হবে।’

নাগেলসম্যান বলেন, গত আড়াই থেকে তিন বছর ধরে এই দলটি কীভাবে একসঙ্গে পারফর্ম করেছে সেদিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কার সঙ্গে কার বোঝাপড়াটা সবচেয়ে ভালো জমে উঠেছে, সেটিও দেখতে হবে।

দুই বছর আগের ইউরোতে অংশ নেওয়া জার্মান দলটিতে যে রকম মজবুত ভিত্তি দেখা গেছে, সেটিকে ধরেই এগিয়ে যেতে চান নাগেলসম্যান। ওই আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে জার্মানরা বিদায় নিয়েছিল ঠিকই, তবে তারা একতাবদ্ধ দল হিসেবে নিজেদের মেলে ধরেছিল। 

‘কিছুটা ভাগ্যের...’
ইউরো থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক কয়েক মিনিটের মাথায় নাগেলসম্যান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জার্মানি ২০২৬ সালের ‘বিশ্বকাপ জিততে চায়’। তাঁর এই মন্তব্য শুনে তখন অনেকের ভ্রু কুঁচকে যায়। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে কোচ তাঁর সেই মন্তব্যেই অটল আছেন।

সাক্ষাৎকারে নাগেলসম্যান বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই। এর জন্য প্রয়োজন দারুণ পারফরম্যান্স এবং সেই সঙ্গে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা।’

২০২৪ সালে টনি ক্রুসের ফেরার মতো, ম্যানুয়েল নয়্যারও বড় মঞ্চে নিজের শেষ লড়াইটুকুর জন্য অবসর ভেঙে দলে ফিরেছেন। নয়্যারের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি অভিজ্ঞ আন্টোনিও রুডিগার, পাসকাল গ্রস ও লেয়ন গোরেটজকাকে দলে রাখায় এটি ২০০২ সালের পর জার্মানির সবচেয়ে ‘বয়স্ক’ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে পরিণত হয়েছে।

২০০২ সালের সেই টুর্নামেন্টে সেরা ফর্মে থাকা মাইকেল বালাক ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অলিভার কানের ওপর ভর করে দলটি ফাইনালে খেলেছিল। নাগেলসম্যান বলেন, ‘এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে, তবে আমরা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তৈরি।’

ফুটবল পাগল জার্মানিতে এই খেলার গুরুত্ব স্বীকার করে নাগেলসম্যান কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন, জীবনের কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ফুটবলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও পড়ুন

×