ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেলো হরিজন্তেতে যেভাবে ছাইভস্ম হয়েছিল ‘জোগো বোনিতো’

বেলো হরিজন্তেতে যেভাবে ছাইভস্ম হয়েছিল ‘জোগো বোনিতো’
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৭:৫৬ | আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৩

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক বড় বড় জয়-পরাজয়ের গল্প রয়েছে। তবে ২০১৪ সালের ৮ জুলাই বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামের ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে থেকে যাবে। ঘরের মাঠে ৫৮,১৪১ জন স্তব্ধ দর্শকের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানি। বিশ্বকাপ তো বটেই, স্বাগতিক কোনো দেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও কলঙ্কজনক পরাজয়।

ম্যাচ শুরুর আগেই ব্রাজিলের জন্য পরিস্থিতি ছিল বেশ জটিল। ইনজুরির কারণে দলের প্রাণভোমরা নেইমার ছিলেন মাঠের বাইরে। আর কার্ড জটিলতায় নিষিদ্ধ ছিলেন অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। তাদের অনুপস্থিতিতে কোচ লুইস ফিলিপ স্কোলারি ভরসা রেখেছিলেন দান্তে ও বার্নার্ডের ওপর।  ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষেই ছিল। জার্মানির বিপক্ষে আগের ৫টি অফিশিয়াল ম্যাচের ৪টিতেই জিতেছিল সেলেকাওরা, বাকি একটি হয়েছিল ড্র। ফলে ঘরের মাঠে ফাইনালে ওঠার আশা নিয়ে ম্যাচ শুরু করেছিল ব্রাজিলিয়ানরা। কিন্তু সেই আশা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে।

খেলার ১১তম মিনিটেই টমাস মুলারের গোলে জার্মান উৎসবের শুরু। এরপর শুরু হয় গোল বন্যা। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন টনি ক্রুস। ম্যাচের বয়স ৩০ মিনিট হওয়ার আগেই সামি খেদিরা জালের দেখা পেলে প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকেরা। গ্যালারিতে বসা হাজার হাজার ব্রাজিলিয়ান সমর্থক তখন অশ্রুসিক্ত চোখে অবিশ্বাস্য এক দুঃস্বপ্ন প্রত্যক্ষ করছিলেন।

দ্বিতীয়ার্ধে জার্মান কোচ জোয়াকিম লো দলের আক্রমণের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনেন। তা সত্ত্বেও বদলি হিসেবে নামা আন্দ্রে শুরলে আরও দুটি গোল করে ব্যবধান ৭-০ করেন। শুরলের চোখধাঁধানো দ্বিতীয় গোল দেখে তো স্বাগতিক সমর্থকেরাও জার্মানিকে তালি দিয়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য হন। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ৯০ মিনিটে অস্কার ব্রাজিলের হয়ে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করেন। তাতেও ঐতিহাসিক এই বিপর্যয় আড়াল করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ব্রাজিলের জন্য এই হার কেবল একটি ম্যাচের ফলাফল ছিল না। এটি ছিল ব্রাজিলের ‘জোগো বোনিতো’র অহংকার চূর্ণ হওয়ার রাত। অন্যদিকে, নকআউট পর্বে আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ঘাম ঝরিয়ে জেতা জার্মানি বেলো হরিজন্তের এই ম্যাচ দিয়েই নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করে। এই বিধ্বংসী রূপ ধরে রেখেই ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল জার্মানি। আর ব্রাজিলকে রেখে যায় এক আজীবন বয়ে বেড়ানোর মতো ক্ষত চিহ্নের পাশে।

আরও পড়ুন

×