ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নির্ভার হাইতি, চাপে স্কটিশরা

নির্ভার হাইতি, চাপে স্কটিশরা
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ১০:৫৩

ফাঁস হওয়া এক প্রশ্ন। ‘৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে হাইতি। ভালো খেলার চাপ থাকবে কতটা?’ সান্ডারল্যান্ডে খেলা হাইতির স্ট্রাইকার উইলসন ইসিডর জানা উত্তরই দিয়েছেন, ‘আমাদের হারানোর কিছু নেই। যা কিছু হবে, সবই প্রাপ্তি। আমরা কিছু একটা করে দেখানোর চেষ্টা করব, যা আগে পারিনি। জানি কঠিন কাজ। কিন্তু নিজেদের ওপর বিশ্বাস আছে।’ স্কটল্যান্ডের কোচ স্টিভ ক্লার্ক ঠিক উল্টো কথা বলেছেন, ‘স্কটিশ বা ব্রিটিশদের কথাও যদি ধরি, হাইতির মতো দলকে ছোট ভাবার স্বভাব আছে আমাদের। ম্যাচটা কঠিন হবে না, এমন স্বপ্নে আমি বিভোর নই।’

বিশ্বকাপের প্রীতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে হাইতি। ওই ম্যাচের ফলাফল ছাড়াও নোটবুকে অনেক কিছু টুকে নিয়েছেন স্কটল্যান্ডের কোচ। রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে হাইতির ফুটবলের আলাদা ধরন এবং শারীরিক শক্তির জায়গা নিয়ে সতর্কও তিনি, ‘তারা দীর্ঘদেহি, শরীরের গঠন শক্ত, শারীরিক ফুটবলও খেলে। শুধু তাই নয়, টেকনিকও ভালো। এটিকে ফ্রি স্টাইল বলার সুযোগ নেই, বরং পরিকল্পিত ফুটবল। আমি ধরেই নিয়েছি, কঠিন ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছি।’

প্রতিপক্ষকে সহজ ধরে খেলার সুযোগও নেই স্কটিশদের। ইতিহাস যে তাদের পক্ষে ইতিবাচক তথ্য দেয় না। আগে আটবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ব্রিটেনের অঙ্গ রাজ্যটি। ফুটবল ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হলেও তারা কখনও নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। বরং গ্রুপ পর্বে একটি করে ম্যাচ জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বেশির ভাগ সময়। এবার বৃত্ত ভাঙতে হাইতিতে লক্ষ্য ধরতে হবে তাদের। কারণ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডের (৪০) চেয়ে যোজন পিছিয়ে হাইতি (৮৩)। গ্রুপ ‘সি’তে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে থাকা ব্রাজিল ও মরক্কো। হাইতির বিপক্ষে জয় ভিন্ন কিছু হলে বড় ধাক্কা খাবে স্কটল্যান্ড। একটা জয় নকআউট (সেরা ৩২) পর্বে তুলে দিতে পারে। আবার হাইতির বিপক্ষে ড্র কিংবা হার মানেই শুরুতেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া।

ইউরোপ তথা ইংলিশ ফুটবলের ধাঁচ এবং শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে বেশ ক’জন ফুটবলার থাকায় স্কটল্যান্ড অবশ্য এগিয়ে থাকবে। নাপোলির জার্সিতে দারুণ দুই মৌসুম কাটানো স্কট ম্যাকটমিনে তাদের সেরা তারকা। আছেন লিভারপুলের জার্সিতে মাঠ মাতানো অ্যান্ডি রবার্টসন। ইতালির তরিনোয় খেলা অ্যাডামস আলো কাড়তে পারেন। অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের বাহুতে অ্যাস্টনভিলারও আর্মব্যান্ড থাকে। গোলরক্ষক গুন পরেন নটিংহাম ফরেস্টের জার্সি। দলটির রক্ষণভাগও ভালো। সব মিলিয়ে স্কটল্যান্ড শুধু জয় নয় বরং হাইতির বিপক্ষে গোল ব্যবধান বড় রাখার কথাও ভাববে।

হাইতির বড় শক্তির জায়গা লড়াকু ফুটবল। হাইতি কন্ডিশন থেকে বাড়তি সুবিধা পাবে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, কনকাকাফের ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়া ও মাঠের সঙ্গে পরিচিত তারা। ওই গরমই স্কটিশদের জন্য দুঃখের কারণ হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×