বিশ্বকাপ ফুটবল
অভিষেক রাঙালেন আয়মেন
নরওয়ের বিপক্ষে গোলের পর বাঁধভাঙা উদযাপনে মাতেন আয়মেন হোসেইন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক -এএফপি
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৪১ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ১২:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আয়মেন হুসেইনকে। শিকাগোর ও’হারে বিমানবন্দরে সাত ঘণ্টা আটক রেখে হেনস্তা করা হয় তাঁকে। ওই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচকে গোলে রাঙান ৩০ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। যদিও ১৯৮৬-এর পর আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে ইরাক।
ইরাকি ফুটবল কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অজ্ঞাত কারণে বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা আয়মেনকে দলের অন্য সবার থেকে আলাদা করেন। পরে তাঁকে সাত ঘণ্টার মতো জেরা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে বিমানবন্দর থেকেই দেশে ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর ইরাককে আবারও ফুটবলের গৌরবময় আসরে টেনে তোলার অন্যতম নায়ক কুর্দিশ বংশোদ্ভূত আয়মেন। বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর গোলেই বিশ্বকাপের টিকিট পায় ইরাক। কিন্তু কিরকুকে জন্ম নেওয়া এ স্ট্রাইকারের জীবন নানা বিয়োগান্ত ঘটনায় পূর্ণ। মাত্র ১২ বছর বয়সেই বাবাকে হারান তিনি। ২০০৮ সালে আল কায়দা সদস্যরা তাঁর বাবাকে হত্যা করে। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বড় ভাই ইরাকি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তাঁর ভাই অপহরণের শিকার হন এবং তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ কারণে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া এবং বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি আয়মেনের কাছে অনেকটাই পারিবারিক স্বপ্নপূরণের ব্যাপার। মায়ের অনুপ্রেরণা না পেলে হয়তো অকালেই ঝরে পড়তেন প্রতিভাবান এ ফুটবলার, ‘(বাবা ও ভাইয়ের ঘটনার পর) পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মা সেটা করতে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন।’ আয়মেন যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে কি, আমি এক পর্যায়ে ক্লাবের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকেই ফুটবল খেলার জন্য তৈরি ছিলাম। চিন্তা করতে পারবেন না, ওই সময়ে ইরাকি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার জন্য আমি কতটা উদগ্রীব ছিলাম। তখন দহুকের (ইরাকের কুর্দিস্তানের একটি শহর) হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল।’
৩০ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার বর্তমানে ইরাকের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার। তাঁকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তিবদ্ধ করেছে নিজ দেশের আল কারমা ক্লাব। এ ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কাতারের আল খোর ক্লাবে খেলতেন।
দুর্ভাগ্যক্রমে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোলও করেছেন আয়মেন। যদিও বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ইরাক কোচ গ্রানাম আরনল্ড। ম্যাচ শেষে এ অস্ট্রেলিয়ান কোচ বলেন, ‘আমি বরং তার (আয়মেন) পারফরম্যান্স এবং ম্যাচে যেভাবে সে খেলেছে, সেটাই মনে রাখব। সম্প্রতি অনেক চোটের ধকল সামলে সে বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিচ্ছে। আর সে কিনা পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে খেলেছে! সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে গোলপোস্টের সামনে সামলে রাখা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের জন্য দুরূহ ব্যাপার। তাকে নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- ইরাক