ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে এশিয়ার উত্থান

বিশ্বকাপে এশিয়ার উত্থান
×

বল দখলের লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ওহ হিউয়ান-গিউ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে তাঁর গোলেই চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল এশিয়ার দেশটি - এএফপি

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৩

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই গ্রুপ পর্ব থেকে এশিয়ান দলগুলোর বিদায়। এটিই যেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ‘লোন উলফ’ হিসেবে এশিয়ার কোনো দল বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন আসরে ছিটেফোঁটা সাফল্য পেলেও সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অঘটন হিসেবেই দেখা হতো। এ কারণে বিশ্বকাপ এলেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো এশিয়ার বাসিন্দারা নিজ মহাদেশের কোনো দলকে সমর্থন না দিয়ে ইউরোপ বা লাতিন কোনো দলের সমর্থনে গলা ফাটাতেন। তবে দিন পরিবর্তনের আভাস মিলছে এবারের বিশ্বকাপে। প্রথম রাউন্ডে আশাজাগানিয়া পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারকা ফুটবলারবিহীন এশীয় দেশগুলো।

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এশীয় অঞ্চল থেকে সুযোগ পেয়েছে ৯টি দল। এর মধ্যে ৬টি দল টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে জয় বা ড্র করে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। অপরদিকে জাপান ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডসের থেকে এক পয়েন্ট কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। এশীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়া অপর ইউরোপিয়ান দল তুরস্ককে (২-০) হারিয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর স্বপ্ন দেখছে।

এদিকে গত আসরে আর্জেন্টিনাকে হারের স্বাদ দেওয়া সৌদি আরব প্রথম ম্যাচে অপর লাতিন দল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে রুখে দিয়েছে (১-১)। অপর এশীয় দল কাতার একই ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এছাড়া প্রথম ম্যাচে হার মানেনি ইরানও। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে দলটি। এশিয়ার অপর দেশগুলোর মধ্যে ইরাক ১-৪ ব্যবধানে নরওয়ের, উজবেকিস্তান ১-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়ার ও জর্ডান একই ব্যবধানে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরেছে।

২০০২ বিশ্বকাপের আগে এশিয়ান কোনো দল ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। আন্ডারডগ হিসেবে মাঝেমধ্যে জায়ান্ট বধ করেই তৃপ্ত থাকতে হয়েছে এ অঞ্চলের দলগুলোকে। ১৯৬৬-এর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম কোনো এশীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় উত্তর কোরিয়া। এরপর ১৯৯৪ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অভিষেকেই গ্রুপ পর্ব পেরোনোর কৃতিত্ব দেখায় সৌদি আরব। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ায় (জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া) অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে রূপকথা রচনা করে দক্ষিণ কোরিয়া । অপর স্বাগতিক জাপানও প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার কৃতিত্ব দেখায়। পরের বিশ্বকাপে (২০০৬) আবারও পুরোনো চিত্র। গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় এশিয়ার চার দল।

আরও পড়ুন

×