ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

হাইড্রেশন ব্রেক, বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

হাইড্রেশন ব্রেক, বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা
×

আহসান হাবিব সম্রাট 

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৬

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ আসরে প্রথমবারের মতো ফুটবল ম্যাচে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নামে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক ফিফা। টুর্নামেন্টের তিন সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে জুন-জুলাইয়ের তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রতি ম্যাচের ২২ ও ৬৭তম মিনিটে ৩ মিনিটের পানিপানের বিরতি দেওয়া হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপে এই নতুন নিয়মের কথা ঘোষণা করে ফিফা। এটা খেলোয়াড়দের ‘কল্যাণে’ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের প্রধান নির্বাহী মানালো জুবিরিয়া। তবে এখন বোঝা যাচ্ছে, ফিফার এই ‘মানবিক’ উদ্যোগের মূলে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন ব্যবসা।

অর্থের পেছনে ছোটা ফিফার পুরোনো অভ্যাস। আর বিশ্বকাপ মানেই অর্থের স্রোত বয়ে যাওয়া। টুর্নামেন্টের বিজ্ঞাপন স্বত্ব বিক্রি করে ফিফার কোষাগার উপচে পড়া। এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের মাঝখানে দুবার করে তিন মিনিটের ‘ব্রেক’ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। বৈশ্বিক কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালে প্রতি ৩০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপনদাতাদের ২ লাখ ডলার থেকে সাড়ে ৭ লাখ ডলার গুনতে হয়। নির্দিষ্ট দল এবং ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের দর ওঠানামা করে। বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স স্পোর্টস চ্যানেল প্রতি ম্যাচে ৩০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সাধারণ ম্যাচে দুই থেকে তিন লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র দলের ম্যাচ বা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে পৌনে এক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের থেকে নিচ্ছে। 

ফিফার নতুন নিয়মে ১০৪ ম্যাচে দুবার করে পানিপানের বিরতি ফক্স স্পোর্টসের জন্য বাড়তি ৮০০ বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের স্লট তৈরি করবে। যেগুলো থেকে গড়ে ৩ লাখ ডলার আয় করবে টেলিভিশন চ্যানেলটি। আলজাজিরা, বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা হিসাব করে দেখেছে ফিফার ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ম চালু করার কারণে চলতি বিশ্বকাপ থেকে শুধু ফক্স স্পোর্টস বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ আয় করবে। এটা যদি শুধু একটি টেলিভিশনের চ্যানেলের আয়ের হিসাব ধরা হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোর আয় যে সহজেই বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে, সেটা সহজেই বোঝা যায়।

কোচ ও খেলোয়াড়দের অনেকেই প্রতি ম্যাচে ফিফার ঢালাওভাবে দেওয়া হাইড্রেশন ব্রেকের পক্ষে নন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এবারের টুর্নামেন্টে অনেক ভেন্যুতে ‘আবহাওয়া নিয়ন্ত্রিত’ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম নেই, সেখানে এটা ঠিক আছে। যেমন– নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও মিয়ামি এবং মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলো। কিন্তু যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছে, যেমন– ডালাস, হিউস্টন, আটলান্টা ও ভ্যাঙ্কুভার, সেখানে ম্যাচ চলাকালে পানিপানের বিরতির কোনো প্রয়োজন ছিল না। এজন্য কানাডা দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় অ্যালিস্টার জনস্টন কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, ‘নতুন নিয়মটা সম্ভবত খেলোয়াড়দের (কল্যাণের) চেয়ে ফিফার আরও অধিক অর্থ আয়ের জন্য করা হয়েছে। কারণ হাইড্রেশন ব্রেক প্রকৃতপক্ষে বাণিজ্যিক ব্রেকে পরিণত হয়েছে।’ 

এদিকে ফিফার এই নিয়মে শুধু ম্যাচ সম্প্রচার করা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোই উপকৃত হচ্ছে, তা নয়। নতুন নিয়মে কোচদেরও দারুণ সুবিধা হয়েছে। যেমনটি বলছিলেন বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া, ‘আমার কাছে এটা কোচিং ব্রেক, যেটা খেলোয়াড়দের কুলিং ব্রেকের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এটা (সময়টা) আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন

×