স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত ও চীনের সম্পর্ক
দিল্লিতে ওয়াং ই-অজিত দোভাল বৈঠক
দিল্লিতে ওয়াং ই-অজিত দোভাল বৈঠক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১১:১০
দীর্ঘ টানাপোড়েন ও বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রগতির কথা বলেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় চীন-ভারত সম্পর্ক অবশেষে এক দীর্ঘস্থায়ী নিম্নবিন্দু থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে পুনরুদ্ধার ও অগ্রগতির ট্র্যাকে ফিরে এসেছে।
বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির শীর্ষ নেতারা একমত হয়েছেন, চীন ও ভারত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী ও অংশীদার। এটিই দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীন ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে কেবল দ্বিপক্ষীয় সীমানায় আটকে না রেখে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন ওয়াং ই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও বিনিময় পুনরায় চালু হয়েছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতেও সামগ্রিকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এই অর্জন সহজে আসেনি এবং একে অত্যন্ত যত্ন সহকারে রক্ষা করা উচিত।’ বৈঠকে দুপক্ষই বিতর্কিত সীমান্ত সমস্যা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার ওপর জোর দেয়।
ওয়াং ই আহ্বান জানান যেন সীমান্ত ইস্যুটিকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতির পথে বাধা হতে না দেওয়া হয়। তিনি বাণিজ্য, অর্থসংস্থান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থগিত থাকা সংলাপ প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত গতিতে পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল চীনের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কাজান ও তিয়ানজিন শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, ভারত সেই অনুযায়ীই এগোতে চায়।
দোভাল স্পষ্ট করে বলেন, ভারত পিপলস রিপাবলিক অব চায়নাকে (পিআরসি) স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আরও জানান, ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে ওঠে একটি ‘উইন-উইন’ বা সবার জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে আগ্রহী।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত ‘গঠনমূলক এবং দূরদর্শী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে এবং ক্রমান্বয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকে অগ্রগতির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।’ খবর রয়টার্সের।
