ইকুয়েডরের জার্মান-বধের নায়ক কে এই আর্জেন্টাইন?
স্পোটস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ১৩:০৪
পয়েন্ট হারালেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। সেই ম্যাচেও দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ইকুয়েডর। সেখান থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তুলে নিয়েছে দুর্দান্ত এক জয়। এ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর। এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতায় থাকা লা ত্রিরা ৭৭ মিনিটে পাওয়া লিড থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের বৈতরণী পার হলো ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ সালে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিল তারা।
অঘটনের জন্ম দিয়ে ইকুয়েডরের নাটকীয় এই প্রত্যাবর্তনের পেছনের নায়ক দলটির আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। ম্যাচ শেষ হাতে ডাগআউটেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দলটির এই আর্জেন্টাইন কোচ। এরপর স্টেডিয়ামের ব্যারিকেড টপকে ছুটে যান গ্যালারিতে থাকা পরিবারের কাছে। বেকাসেসের কাছে জার্মানিকে হারানোর এই মুহূর্তটা হয়তো কিছুটা অন্যরকম ছিল। কারণ, ইকুয়েডরের ডাগআউটে এটাই হতে পারতো তার শেষ ম্যাচ।
ম্যাচের আগেই বেকাসেসে জানিয়ে রেখেছিলেন, নকআউটে উঠতে না পারলে কোচের পদ ছাড়বেন তিনি। তবে জার্মান-বধের পর ঐতিহাসিক এই জয় ইকুয়েডরের জনগণকে উৎসর্গ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে বেকাসেসে বলেন, ‘আমার কাছে এর কী অর্থ, তা বড় বিষয় নয়। এটা (এই সাফল্য) জনগণের জন্য। খেলোয়াড়রা তাদের নকআউট পর্বের এই টিকিট এনে দিয়েছে। এটি তাদেরকে উদযাপন করতে দিন এবং উপভোগ করতে দিন।’
বেকাসেসে নিজে খেলোয়াড় হিসেবে তেমন পরিচিত ছিলেন না। কোচের ভূমিকায় তার পরিচিতি তৈরি হয় হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে। চিলির সাফল্যের যুগে তার সঙ্গে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন। চিলিকে ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিয়ে যেতে এবং ২০১৫ সালে প্রথমবার কোপা আমেরিকা জিততে সাহায্য করেছেন।
ইকুয়েডরে দায়িত্ব নেওয়ার আগে স্প্যানিশ ক্লাব এলচের দায়িত্বে ছিলেন বেকাসেসে। এ সময় ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ সাম্পাওলির সহকারী হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কোচ হিসেবে বেকাসেসের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল ইকুয়েডর। ওই হারের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। বাছাইপর্বে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থেকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নেয় তারা। সবমিলিয়ে টানা ১৯টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে পা রেখেছিল তারা।
তবে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে শেষ মুহূর্তে ১-০ গোলে পরাজয় এবং গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে লজ্জাজনক গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়েছিল তারা। খাদের কিনার থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা দল হয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে বেকাসেসের শিষ্যরা।
- বিষয় :
- জার্মানি
- ইকুয়েডর
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
