হালান্ডে ছুটছে নরওয়ে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৫
নরওয়ের উদযাপনটা দুর্দান্ত। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের ড্রামের তালে তালে মাঠে হালান্ড-নুসারা এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের একসঙ্গে বৈঠা বাওয়ার (ভাইকিং রোয়িং) দৃশ্যটা এবারের আসরের অন্যতম বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে। তাদের এই প্রতীকী নৌকা চালানোর সঙ্গে সমস্বরে আওয়াজ প্রতিপক্ষের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেওয়ার মতোই ব্যাপার। সেই দুর্ধর্ষ ভাইকিংদের মতো করেই হালান্ড-ওডেগার্ডের নৈপুণ্যে বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে নরওয়ে।
এই বিশ্বকাপে আগের দুই জয়ের পরও নরওয়ের এমন উদযাপন দেখা গেছে। তবে মঙ্গলবার রাতে ডালাসের উদযাপন ছিল স্পেশাল। এই প্রথম বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জিতেছেন যে তারা। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তারা। এ জয়ে তারা চলে গেছেন শেষ ষোলোতে, যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে ব্রাজিল। ৫ জুলাই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কী হতে যাচ্ছে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন আর্লিং হালান্ড। শেষ আটে ওঠার লড়াই নিয়ে তিনি বলেন, ‘শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা পুরোপুরি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। এ মুহূর্তে আমাদের শুধু আনন্দ করা উচিত। বলা যায়, আমাদের এই যাত্রা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ডালাসে ৩৯ মিনিটে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ২১ বছরের আন্তনিও নুসা। যখন মনে নরওয়ের জয় সময়ের ব্যাপার, তখনই ম্যাচের রং বদলে দেন আমাদ দিয়ালো। ৭৪ মিনিটে প্রায় একক প্রচেষ্টায় দারুণ এক গোল করে সমতা ফেরান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ ফরোয়ার্ড। একা চার-পাঁচজনকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি। আইভরি কোস্টের ডিফেন্স অবশ্য দিয়ালোর এই গোলের মর্যাদা রাখতে পারেনি। তারা হালান্ডকে সামলাতে পারেনি। ৮৬ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের পাস যখন হালান্ডের পায়ে, তখন তিনি আইভরি কোস্টের পোস্টের সামনে একেবারে ফাঁকায় দাঁড়ানো, গোলকিপারও ছিলেন না। এত ফাঁকায় বল পেয়ে হালান্ড আলতো করে বল জালে ঠেলতে গিয়ে প্রায় ভুল করে বসেছিলেন। ভাগ্য ভালো যে মিস হয়নি। তবে হালান্ডের মতো গোলমেশিন পোস্টের সামনে এভাবে ফাঁকায় বল পেয়ে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই আইভরি কোস্টের রক্ষণের মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে।
এবারের আসরে এটি হালান্ডের পঞ্চম গোল। তাঁর চেয়ে বেশি গোল লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের– ৬টি করে। এর আগে ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল নরওয়ে। সেবার তারা শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল। ২৮ বছর পর ফিরে হালান্ডের কাঁধে চড়ে আবারও শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল তারা। এত দূর আসতে পেরে অবিশ্বাস্য লাগছে হালান্ডের কাছে, ‘এটা ইতিহাস, অবিশ্বাস্য লাগছে। ২৮ বছর পর আবার (শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছি)। এটা বিশাল ব্যাপার। পুরো নরওয়ের মানুষের কাছে এই জয়ের গুরুত্ব অনেক। এটা দেখতে পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। আমার মনে হয়, এই সাফল্য নরওয়েকে চিরতরে বদলে দেবে। সবার মধ্যে একটা অন্যরকম একতা অনুভব করছি, যা দেখে মন ছুঁয়ে যায়।’
তারা যে এখন নির্ভার হয়ে খেলতে পারবেন, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন হালান্ড, ‘এখন আমরা যা অর্জন করব, তার সবই বোনাস। এখন আমরা ভারমুক্ত হয়ে খেলব এবং মন ভরে উপভোগ করব।’
চাপমুক্ত হয়ে উপভোগের মন্ত্রে যখন কোনো দল মাঠে নামে, তখন কিন্তু তাদের ভয়ংকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। তাই ব্রাজিলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।
- বিষয় :
- আর্লিং হালান্ড
- নরওয়ে
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
