আড়ালের নায়ক ওইয়ারসাবাল
নাজমুল হক নোবেল
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩১
বিশ্বকাপে স্পেনের এক নম্বর তারকা কে? কার জার্সি পড়ে স্প্যানিশ সমর্থকরা খেলা দেখতে যান? ফুটবলের ন্যূনতম খোঁজখবরও যারা রাখেন, তারা চোখ বন্ধ করে বলে দেবেন... লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের আশাভরসা ইয়ামালই। তবে ইয়ামালের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেলেও নিয়মিত গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাঁর জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে স্পেন। এবারের আসরে ৪ গোল করা ওইয়ারসাবাল নাকি একসময় হকি খেলতেন!
বাইরের বিশ্বে খুব একটা পরিচিত না হলেও স্প্যানিশদের কাছে কিন্তু তিনি সেরা। তাঁকে এই সার্টিফিকেট দিয়েছেন সাবেক স্প্যানিশ কিংবদন্তি ডেভিড ভিয়া। একটি পডকাস্টে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এ ফুটবলার বলেন, ‘স্পেনে এখন সেরা স্ট্রাইকার সে। স্পেনের সবাই জানে যে সে হলো সেরাদের সেরা। সমস্যা হলো সে খেলে রিয়াল সোসিয়েদাদে। যে কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাকে দেখা যায় না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না খেলায় স্পেনের বাইরে সে তেমন একটা পরিচিত নয়। জাতীয় দলে যদি সে না খেলত, তাহলে পুরোপুরি আড়ালেই থাকত। অথচ দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝখানে সে দারুণ খেলে। একেবারে হাঙরের মতো শক্তি ও তীব্রতায় এগিয়ে যায় সে।’
হাঙর যেমন রক্তের গন্ধে পাগল হয়ে যায়, তেমনি ওইয়ারসাবাল পাগল হন গোলের গন্ধে। তিনি এক সময় হকি খেলতেন, তখন প্রচুর গোল করতেন। তখন থেকেই নাকি গোলের গন্ধ পান, ‘আমি এক সময় হকি খেলতাম, তখন প্রচুর গোল করতাম। সে সময় আমার মাথায় একটি কথা সব সময় ঘুরত, একটি গোল মিস করলে কিছু আসে যায় না, আরও সুযোগ আসবে। আমি সত্যিই গোলের গন্ধ পেতাম...!’ হকি ছেড়ে ফুটবল ধরেছেন তিনি অনেক বছর হয়ে গেল। তাই বলে গোলের গন্ধ পাওয়া এখনও থামেনি। তিনি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করে বলেছেন, ‘অন্য পজিশনের খেলোয়াড়দের অনেক বেশি সময় পায়ে বল রাখতে হয়, বল পায়ে রাখলেই মনে হয় ভালো খেলেছি। কিন্তু আপনি যখন আমার মতো স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলবেন, তখন কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আপনাকে কাজ সারতে হবে। তাই আমরা স্ট্রাইকাররা গন্ধ পাই যে গোল করার জন্য কোথায় দাঁড়াতে হবে।’
তবে গোলের গন্ধ পেলেও আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন ওইয়ারসাবাল। স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিয়ের্মো বালাগেও বিবিসি লাইভে সে কথা বলেছেন, ‘এটা খুবই স্পষ্ট যে সে (ইয়ামাল) দলের নেতা। দলের সবাই যা কিছু করছে, সবই তাকে কেন্দ্র করে। ওইয়ারসাবাল সেখানে প্রায় অদৃশ্য একজন। সে নীরবে নিজের কাজটি করে যাচ্ছে, যেমনটি সে সবসময় করে। এই দলের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত খেলোয়াড়দের একজন সে, যে দলকে ম্যাচ জেতাতে পারে।’ ২৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার ক্যারিয়ারজুড়েই আড়ালে থেকে নিজের কাজটা করে এসেছেন।
স্প্যানিশ ফুটবলে ওইয়ারসাবালের আরও একটি বড় পরিচয় আছে– ‘ওয়ান ক্লাব ম্যান’। আধুনিক ফুটবলের সেরা বিরল প্রজাতির খেলোয়াড়দের একজন তিনি, যিনি পুরো ক্যারিয়ার এক ক্লাবে কাটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম এইবার শহরে। এইবার ক্লাবের একাডেমিতেই তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। তবে ১৪ বছর বয়সে তিনি চলে যান রিয়াল সোসিয়েদাদে। ১৫ বছর ধরে সেখানেই আছেন। জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক ১০ বছর আগে। এখন পর্যন্ত ৫৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ২৯টি। কিন্তু প্রচারের আলো সেভাবে পড়েনি তাঁর ওপর। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকের ফাইনালে গোল করেন তিনি। ওই বছর নেশন্স লিগ ফাইনালেও গোল করেন। ২০২৪ ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে তাঁর গোলেই শিরোপা জিতেছিল স্পেন। তাঁর ক্যারিয়ারে বড় একটা আক্ষেপ ছিল বিশ্বকাপ। হাঁটুর চোটের কারণে গত বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। সে আক্ষেপ দূর হয়েছে। ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন তিনি। লা লিগায় এবার ১৫ গোল করেছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারসেরা মৌসুম। বিশ্বকাপে ৪ গোল করে সে ধারাবাহিকতাই ধরে রেখেছেন।
- বিষয় :
- স্পেন
- বিশ্বকাপ ফুটবল
