‘শক্তিহীন’ সেই রামোসই এখন পর্তুগালের ত্রাতা
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর রামোসের উদযাপন
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৩
টরন্টোতে যোগ করা সময়ে দারুণ এক গোল করে পর্তুগালের জয় নিশ্চিত করেছেন গনসালো রামোস। বাঁচিয়ে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলোয় নাম লিখিয়েছে পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে এখন আরেক হটফেভারিট স্পেন।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরের এ ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল একেবারে ম্যাড়মেড়ে। সব রোমাঞ্চ-উত্তেজনা যেন জমা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্য। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরেসিচ দারুণ এক গড়ানো শটে এগিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়াকে। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান রোনালদো। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গিয়ে অসাধারণ এক হেডে পর্তুগালকে জয় এনে দেন বদলি হিসেবে নামা রামোস। রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রসে ক্রোয়েশিয়ার দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে হেড করে বল জালে পাঠান ২৫ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে লড়াই করা রামোস মাত্র দুই বছর আগে জীবনের সঙ্গেও লড়াই করেছেন।
রামোস প্রথম নজর কাড়েন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রোনালদোর বদলি হিসেবে নেমে হ্যাটট্রিক করে। পরের বছরই তাঁকে দলে ভেড়ায় পিএসজি। ধারে সেখানে গেলেও কিছু দিনের মধ্যে প্যারিসের জায়ান্টরা তাঁর সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী চুক্তি করে।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, স্থায়ী চুক্তির কিছু দিন পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অন্ত্রে ভাইরাসে আক্রান্ত হন রামোস। যার ফলে তাঁর ওজন ছয় কেজি কমে যায়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পর্তুগালের হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও পুরো দায়িত্ব নিয়েছিল পিএসজি। তখন তাঁর পুরোনো ক্লাব বেনফিকাও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণে এগিয়ে আসে। ২০ দিন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন রামোস। শরীরে কোনো শক্তি ছিল না প্রায়। টানা প্রবল জ্বর, বমি ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল ডাক্তারদের। কোনো কঠিন খাবার খেতে পারতেন না। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চলেছিল তাঁর।
কিছুদিনের মধ্যে আবার স্বাস্থ্যের অবনতি, ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি পিএসজি ম্যানেজার লুইস এনরিকে তাঁর সম্পূর্ণ রূপে ভাইরাসমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সুস্থ হওয়ার পর নতুন বছরে তাঁর ফর্মের উন্নতি ঘটে, পিএসজির হয়ে সাত ম্যাচে পাঁচ গোল করেন তিনি। তবে এত বড় অসুস্থতার ধকল থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পিএসজির মেডিকেল স্টাফরা তাঁকে খেলতে দিতেই চাইতেন না। তাঁকে মাঠে ফেরাতে বিশেষ পরিকল্পনা নেয় তারা। আলাদা করে অনুশীলন করানো হতো, বিশেষ খাদ্য তালিকাও তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের একান্ত চেষ্টার কারণেই মৌসুমের বাকি সময় রামোসকে একজন ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে দেখা যায়।
পরের মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজি ছাড়লেও উসমান দেম্বেলে-ব্রাডি বারকোলাদের বদলি হিসেবেই নামতে হতো রামোসকে। বদলি হিসেবে ওই মৌসুমে ১৭ গোল করে পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চলতি বছর পিএসজির দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়েও ভূমিকা রাখেন তিনি। ৩০ মে আর্সেনালের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে দ্বিতীয় শুটে গোল করেন তিনি। অসুস্থতা রাসোমকে অনেক পিছিয়ে দেয়। সুস্থ হলেও পিএসজির হয়ে শুরুর একাদশে জায়গা হতো না তাঁর। বদলি নেমেই পিএসজি ক্যারিয়ার কেটেছে তাঁর। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতেই গত ৩০ জুন ইতালির ক্লাব এসি মিলানে যোগ দিয়েছেন।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা এ স্ট্রাইকার এখন পর্তুগালে নায়কের সম্মান পাচ্ছেন। তাঁর গোলই তো ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নকআউটে বাঁচিয়ে রেখেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের আশা। অসুস্থতায় শক্তিহীন হয়ে যাওয়া এ তারকা জ্বলে উঠেছেন সঠিক সময়ে।
- বিষয় :
- পর্তুগাল
- ক্রোয়েশিয়া
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
