ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কে কেমন খেললেন

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কে কেমন খেললেন
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৮ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১১:২২

স্কোরলাইন বলছে ৩-২ ব্যবধানে জয়। কিন্তু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না আর্জেন্টিনার জন্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বর দল কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুবার লিড হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে গিয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে কোনোমতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচ শেষে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগের কয়েকজন তারকা প্রত্যাশা পূরণ করলেও মাঝমাঠের ছন্দহীন পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।

গোল ডট কমের রেটিংয়ে জেনে নিতে পারেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা কে কত নম্বর পাওয়ার মতো খেলেছেন।

ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (৮/১০): ম্যাচসেরা বলা যায় তাকেই। পুরো ম্যাচে দৃঢ় রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে মেসির কর্নার থেকে তিনিই জয়সূচক গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন। যদিও শেষ পর্যন্ত গোলটিতে রোমেরোর নাম থাকেনি। কারণ তার হেড হয়ে বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে ঢুকেছে। ফলে এটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে যোগ হয়েছে।

ছবি- এএফপি

লিওনেল মেসি (৮/১০): খেলার বড় অংশে নীরব থাকলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের ক্লাস দেখিয়েছেন। প্রথম গোলটি ছিল অসাধারণ ফিনিশিংয়ের ফল। আর অতিরিক্ত সময়ে রোমেরোর জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্টও আসে তার নিখুঁত কর্নার থেকে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৭/১০): প্রথমার্ধে মেসির গোলের চমৎকার পাসটি তিনিই বাড়িয়েছিলেন। আবার দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের সমতাসূচক গোলের সময় ডিফেন্স লাইনে ফাঁকা তৈরি করায় কাঠগড়ায় ছিলেন তিনি। তবে অতিরিক্ত সময়ে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত এক শটে গোল করে সেই পাপমোচন করেন লিসান্দ্রো।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (৭/১০): কেপ ভার্দের দুটি গোলের ক্ষেত্রেই তার কিছুই করার ছিল না। তবে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে এবং অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে কয়েকটি দারুণ সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছেন ‘দিবু’।

ছবি- এএফপি

নাহুয়েল মলিনা (৬/১০) ও ফাকুন্দো মেদিনা (৬/১০):  দুই উইং-ব্যাক নিজেদের জায়গায় মোটামুটি দায়িত্ব পালন করেছেন। মেদিনা ইনজুরিতে পড়ার আগে পর্যন্ত রক্ষণে ভালোই সামলেছেন।

এনজো ফার্নান্দেজ (৪/১০): আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় ভিলেন চেলসির এই মিডফিল্ডার। কেপ ভার্দের দ্বিতীয় গোলের সময় প্রতিপক্ষকে ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হন। আক্রমণেও সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। পুরো ম্যাচেই তাকে ধীর ও ছন্দহীন মনে হয়েছে।

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৫/১০): মাঝমাঠের নিচে একাই খেলছিলেন, ফলে প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকের সময় বেশ কয়েকবার তাকে একা পেয়ে চেপে ধরেছিল কেপ ভার্দে। বলের জোগান ভালো দিলেও রক্ষণে তাকে সাহায্য করার মতো পাশে কেউ ছিল না।

ছবি- এএফপি

থিয়াগো আলমাদা (৫/১০): আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে প্রত্যাশামতো প্রভাব রাখতে পারেননি। কয়েকটি সুযোগও তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রদ্রিগো ডি পল (৬/১০): সবসময়কার মতোই লড়াকু ছিলেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল জিতেছেন। তবে তাকে মাঝমাঠের কেন্দ্রে খেলানো হলে আর্জেন্টিনা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারত।

লাউতারো মার্তিনেজ (৫/১০): সতীর্থদের সাথে পাসিংয়ের ক্ষেত্রে ভালো লিংক-আপ করলেও স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিপক্ষের গোলমুখে নিজে কোনো বিপজ্জনক শট নিতে পারেননি।

কেপ ভার্দের সাহসী ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও এই ম্যাচ স্কালোনির জন্য বেশ কিছু সতর্কবার্তা রেখে গেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠের সমন্বয় ও রক্ষণে দুর্বলতা দ্রুত ঠিক করতে না পারলে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

আরও পড়ুন

×