ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে ক্লান্তির ছায়া ও স্কালোনির চেনা ভুল

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে ক্লান্তির ছায়া ও স্কালোনির চেনা ভুল
×

রোদোলফো সিংগোলানি (টিওয়াইসির সাংবাদিক)

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৪:১২

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলোতে তুলেছে ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অনেক দুর্বলতাও সামনে এনে দিয়েছে। স্কোরলাইন বলছে জয়, কিন্তু মাঠের খেলা বলছে অন্য গল্প।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ। এই মাঝমাঠ নিয়ে বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখা কঠিন। সামনে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হবে, এই সমস্যাগুলো ততই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখনই যদি কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিবর্তন না আনেন, তাহলে শিরোপা ধরে রাখার মিশন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো ক্লান্তি। ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুম পার করে বিশ্বকাপে এসেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই ধকল এখন তাদের খেলায় স্পষ্ট। গতি কমেছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাড়ছে, আর মাঝমাঠে আগের মতো আধিপত্যও নেই।

এমন দৃশ্য নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের ব্যস্ত মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে এসে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টারের বর্তমান অবস্থাও অনেকটা তেমনই। তবে সমস্যাটা শুধু ক্লান্তির নয়, কৌশলগতও।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল মিডফিল্ডে এনজোর ভূমিকা এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের কিছুটা সামনে উঠে খেলার স্বাধীনতা। এবার স্কালোনি সেই পরীক্ষিত সমীকরণ ভেঙে দিয়েছেন। এখন ম্যাক অ্যালিস্টারকে অনেক নিচে খেলানো হচ্ছে, যেখানে তিনি স্বাভাবিক নন। লিভারপুলেও মৌসুমের শেষ দিকে একই ভূমিকায় তাকে ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি সফল হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, ক্লাবে ব্যর্থ হওয়া সেই কৌশল জাতীয় দলে আবার কেন?

এই পরিবর্তনের প্রভাব পুরো দলের খেলায় পড়ছে। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে এখন গতি নেই, ছন্দ নেই, নেই পর্যাপ্ত সৃজনশীলতাও। বলের দখল থাকলেও বেশির ভাগ সময় দেখা যাচ্ছে ব্যাক-পাস আর স্কয়ার-পাস। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো পাস কম, দূরপাল্লার শট নেই, মাঝমাঠ থেকে বক্সে ঢুকে গোল করার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে না।

ফলে পুরো আক্রমণের দায়িত্ব পড়ছে লিওনেল মেসির কাঁধে। তিনি এখনও পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন, কিন্তু শুধু মেসির জাদুর ওপর নির্ভর করে বিশ্বকাপ জেতা বা শিরোপা ধরে রাখা সম্ভব নয়। বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে মাঝমাঠের খেলোয়াড়দেরও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হবে, বক্সে ঢুকতে হবে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

আরেকটি হতাশার নাম থিয়াগো আলমাদা। ক্লাব ফুটবলে বাজে সময় কাটিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন, কিন্তু এখানেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও তিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। শুরুর একাদশে তার জায়গা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

এই মুহূর্তে লিয়ান্দ্রো পারেদেসই ‘নম্বর ৫’ পজিশনের সবচেয়ে যৌক্তিক বিকল্প। তাকে নিচে খেলিয়ে ম্যাক অ্যালিস্টারকে আবারও আক্রমণভাগের কাছাকাছি নিয়ে এলে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

স্কালোনি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে নকআউটের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলে এই মাঝমাঠের ক্লান্তি, ধীরগতি এবং ভুল কৌশল থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতেই হবে। নইলে শুধু মেসির জাদু দিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ জেতা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

×