ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

শিক্ষককে ‘ভুল প্রমাণ’ করে সঠিক পথে ওহাবি

শিক্ষককে ‘ভুল প্রমাণ’ করে সঠিক পথে ওহাবি
×

আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৩ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৮

মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওহাবিকে ছাত্রজীবনে এক শিক্ষক বলেছিলেন, তাঁর মধ্যে ক্রীড়া শিক্ষক (কোচ) হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। গত বছর ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর সিনিয়র বিশ্বকাপে  মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে ওই শিক্ষককে ভুল প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ রাতে ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে দু্ইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মরক্কো। যেখানে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে অ্যাটলাস সিংহদের নেতৃত্ব দেবেন ওহাবি।

বেলজিয়ামে অভিবাসী মরক্কোর এক দম্পতির ঘরে জন্ম নেন ওহাবি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে সফলতা না পাওয়ায় কোচ হিসেবে ফুটবলেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সে বেলজিয়ামের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব আন্দারলেখটের অনূর্ধ্ব-৯ দলের কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন ওহাবি। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হেড কোচ এবং সিনিয়র দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অধীনে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় পরবর্তী সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান বেলজিয়াম তারকা জেরেমি ডোকু, ইউরি টিলেমানস এবং মরক্কোর মিডফিল্ডার বিলাল এল খান্নুসও একসময় ওহাবির অধীনে খেলেছেন।

২০২২ সালের মার্চে ওহাবিকে মরক্কো অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা। যুবদলের কোচ হিসেবে দারুণ সাফল্য পান তিনি। তাঁর অধীনে ২০২২ সালে আরব অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জেতে মরক্কো। এ ছাড়া ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই মৌসুমে ইউনিয়ন অব নর্থ আফ্রিকান টুর্নামেন্টের শিরোপাও ঘরে তোলে জুনিয়র অ্যাটলাস লায়ন্সরা। ২০২৪ সালে দলকে অনূর্ধ্ব-২০ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের মূল পর্বে তোলেন। পরের বছরে ওই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হন ওহাবির শিষ্যরা।  একই বছর চিলিতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ যুব বিশ্বকাপে মরক্কোকে শিরোপা এনে দেন মরক্কোন বংশোম্ভূত এই বেলজিয়ান কোচ। যে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারায় মরক্কো। পুরস্কার হিসেবে গত বছরই মরক্কো অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ হিসেবে ওহাবিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

৪৯ বছর বয়সী ওহাবি বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে (মার্চে) মরক্কোর দায়িত্ব নেন। যদিও আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের পর সাবেক কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই দায়িত্ব ছাড়লে নতুন কোচ হিসেবে ওহাবির নাম খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। কারণ, সিনিয়র পর্যায়ে প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের কাজ দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোকে চলতি আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে ইতোমধ্যেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। তাঁর অধীনে দলটি অ্যাটলাস সিংহরা এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে, চারটি ম্যাচ ড্র করেছে। অর্থাৎ ওহাবির অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি মরক্কো। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে নিজস্ব স্টাইলের সফল প্রয়োগ ঘটান ওহাবি। যেখানে জমাট রক্ষণভাগ ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে খেলে মরক্কো। এ কৌশলে ওহাবি তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছেন বায়ার্ন মিউনিখে নাম লেখানো অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারিকে।

ওহাবি প্রসঙ্গে মরক্কোর সাবেক ফুটবল তারকা আব্দেল আজিজ বেনিজ এএফপিকে বলেন, ‘মরক্কোর মতো তারকাখচিত একটি দলকে পরিচালনার সামর্থ্য ওহাবির আছে কিনা, সেটা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন ছিল। কিন্তু তাঁর অধীনে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচে মরক্কোর পারফরম্যান্স সবাইকে আশ্বস্ত করে।’ অ্যাটলাস সিংহদের হয়ে ৫৭ ম্যাচ খেলা সাবেক এই মিডফিল্ডার যোগ করেন, ‘তিনি এমন সময়ে কোচের দায়িত্ব নেন, যখন (বিশ্বকাপের আগে) মরক্কোকে নিয়ে সবার মধ্যে দুশ্চিন্তা ভর করেছিল। এটা ছিল বিরাট এক জুয়া এবং সে জুয়ায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন।’

এদিকে ছেলে ওহাবির পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় ভক্তে পরিণত হয়েছেন তাঁর বাবা। ফ্রান্সের ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ওনজে মঁদিয়ালেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরক্কো কোচ বলেন, “আমার বাবা আমাকে নিয়ে খুবই গর্বিত। তাঁর পরিবার ব্রাসেলসের যে আবাসিক এলাকায় থাকে, সেখানে তাঁর বাবাকে সবাই মজা করে ‘আল পাচিনো’ (বিখ্যাত অভিনেতা) হিসেবে ডেকে থাকে। কারণ, তিনি খুবই কেতাদুরস্ত, সব সময় স্যুট-টাই পরে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন আগে আমি যখন তাঁকে ট্র্যাকস্যুট উপহার দিই, তিনি স্যুট-টাই বাদ দিয়ে আমার ট্র্যাকস্যুট পরে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন!”

আরও পড়ুন

×