ফুটবলের ফারাও রাজার রূপকথা
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৪
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেদ সালাহকে বিশেষায়িত করা হয় নানাভাবে। ফুটবলের বিশ্লেষকরা চমকপ্রদ সব উপমায় উপস্থাপন করেন সালাহর বীরত্বগাথা– তিনি কারও চোখে ‘দ্য ইজিপশিয়ান কিং’, কারও কাছে ফারাও রাজা। আর মিসরীয়দের কাছে আবেগের নাম সালাহ। এই আবেগের শিকড় কতটা গভীরে তা বোঝা গেছে নকআউটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর। হোটেলের সামনে সমর্থকরা অধিনায়ককে কাঁধে তুলে নেচে গেয়ে উদযাপন করেন জয়।
মঙ্গবার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলের পরাজয়ে শেষ হয় মিসরের বিশ্বকাপ। সালাহরও শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এটি। কারণ পরের বিশ্বকাপে (২০৩০) তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর। যদিও লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুকা মডরিচরা বয়সকে জয় করে খেলেছেন বিশ্বকাপ। সালাহকে ওই পর্যায়ে যেতে হলে তিন-চার বছর পরও খেলার সক্ষমতা ও ছন্দে ধরে রাখতে হবে। সেটি সম্ভব হতে পারে ইউরোপের কোনো লিগে নিয়মিত খেলা না খেলার ওপর।
সালাহ আর কোনো বিশ্বকাপ না খেললেও কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন দেশের ফুটবল ইতিহাসে। হ্যাঁ, মিসরের গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে; জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সভ্যতার বিকাশে জড়িয়ে থাকা, পিরামিড স্থাপত্যবিদ্যার রহস্য, ফারাও রাজ-রাজাদের মমি বিজ্ঞানের বিস্ময়। হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা ওমর শরিফ বিনোদন জগতে মিসরের মুখ। ফুটবলেও গর্ব করার মতো একজনকে প্রয়োজন ছিল তাদের। সেই ব্র্যান্ড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলে ৯ বছর খেলা সালাহ। অলরেডদের পক্ষে ৪৪২টি ম্যাচ খেলে ২৫৭টি গোল করা ফুটবলার তিনি। মাঠে গতি, নিখুঁত বাঁ পায়ের শট ও কঠোর পরিশ্রম তারকা খ্যাতি এনে দেয় তাঁকে। জাতীয় দলের হয়েও ১১৯টি ম্যাচ খেলে ৬৮টি গোল করেছেন তিনি।
তবে এই বিশ্বকাপে তাঁর একটি মাত্র গোল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া। শেষ ৩২ বা শেষ ষোলোর ম্যাচে সেরাটা উজাড় করে খেলতে পারেননি কাফ মাসলে জড়তা থাকায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে উজাড় করে খেলতে পারেননি মিসর অধিনায়ক। ক্লাবের সালাহ, জাতীয় দলেও মহানায়ক। তাঁর হাত ধরেই ২৮ বছর পর ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন করে মিসর। কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করতে না পারলেও উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে খেলেছে দাপুটে ফুটবল। এই বিশ্বকাপে সালাহর নেতৃত্বে ইতিহাসও গড়ে। প্রথমবারের মতো নকআউটে উন্নীত হওয়া, শেষ ৩২ রাউন্ডের জয় আর শেষ ষোলোয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া ইতিহাস দেশটির।
মিসর ১৯৩৪ ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল। একুশ শতকে খেলেছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। এই তিন আসরে থেমে গেছে গ্রুপ পর্বে। তাই টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বিশ্বকাপ উপভোগের মন্ত্র দিয়েছিলেন সালাহ, ‘এমনটা আগে কখনও হয়নি যে আমরা গ্রুপ পর্ব থেকে যোগ্যতা অর্জন করে পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি। তাই এটি কেবল উপভোগ করার একটি মুহূর্ত।’
সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ধরে নিয়েই মিসর অধিনায়ক বলেন, ‘আমি সব সময় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করি। কারণ, এটি আর ফিরে আসে না। আমি সব সময় ছেলেদের বলি, শুধু মুহূর্তটা উপভোগ করো।’
শেষ ষোলোয় বিশ্বকাপ শেষ করলেও বিতর্কের উনুন জ্বলছে। মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর প্রতিবাদী বক্তব্যে বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে। তবে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক কিছু ঘটে গেলেও তাতে গা ভাসাননি সালাহ।
- বিষয় :
- মিসর
- আর্জেন্টিনা
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬