ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইংলিশ শিবিরে চোটের হানা

ইংলিশ শিবিরে চোটের হানা
×

ছবি- এএফপি

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, কানসাস সিটি থেকে

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৫

অনুশীলন মাঠের এক কোণে, সাইডলাইনের গা ঘেঁষে প্রেস কার্ডটা গলায় ঝুলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির সেই চেনা শরীরটা। পিটার ক্রাউচ! একসময় ইংল্যান্ডের জার্সিতে যাঁর রোবোটিক নাচ আর গোলের ম্যাজিক মাতিয়ে রাখত ফুটবল দুনিয়া, খেলা ছাড়ার পর এখন তিনি টেলিভিশনের টকশোর গম্ভীর-জাঁদরেল মুখ। চড়া আমেরিকান সামারের কড়া রোদ এসে পড়ছিল তাঁর চোখে-মুখে, যেখানে বয়সের সূক্ষ্ম ছাপ আর ক্লান্তির রেখাগুলো এখন স্পষ্ট। 

কানসাসের সোপ সকার ভিলেজে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড যখন নিজেদের ভাঙা স্নায়ু জোড়া লাগানোর মরিয়া লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন ক্রাউচ ওখান থেকেই ছুড়ে দিলেন এক ফুটবলীয় সত্য। ‘ওদিকে নয়, ডেক্লান রাইসের দিকে খেয়াল করুন, দেখুন সে কেনদের সঙ্গে অনুশীলন করছে কিনা?’ ক্রাউচের সঙ্গে আসা ক্যামেরাম্যান তখন হন্যে হয়ে লেন্স দিয়ে খুঁজতে থাকেন রাইসকে। কিন্তু কোথাও নেই তিনি।  ক্রাউচ ঠিকই ধরেছেন– ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের আসল ‘জেনারেল’ ডেক্লান রাইস যদি সময়মতো ফিট না হন, তবে মায়ামিতে নরওয়েজিয়ানদের ঝড়ের সামনে ইংল্যান্ডের এই ডিফেন্স স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে।

অনুশীলন সেশনে ক্যামেরার দিকে পিঠ উল্টে থাকায় ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের কপালের ভাঁজ চোখে পড়েনি, তবে আন্দাজ করা যায় মেক্সিকো জয় করে আসার পরেও স্নায়ুর চাপ কমছে না তাদের। অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে তাদের সঙ্গে। মেক্সিকো বধের আনন্দে গ্যালারির ধারে স্রেফ লাফাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনের বোর্ডে আটকে জর্ডান হেন্ডারসনের হাত ভেঙে ছিটকে যাওয়া– এমন অলৌকিক অভিশাপ বোধহয় ফুটবল বিধাতাও আগে লেখেননি! তার ওপর যোগ হয়েছে জ্যারেল কুয়ানসাহর সেই লাল কার্ডের মরণ-ফাঁস। রাইট-ব্যাক পজিশনে রিস জেমস এখনও চোটের বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন। হালান্ডের মতো এক খুনে স্ট্রাইকার যখন ওত পেতে আছেন, তখন ডিফেন্স আর মাঝমাঠের চেহারা টুখেলকে অস্বস্তিতে রাখছে বৈকি। 

অনুশীলন কভার করতে আসা কিছু ব্রিটিশ সাংবাদিক অনেকটা মজা করেই বলছিলেন উপায় এখন একটাই– লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের একটা ফোনকল করতে হবে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে! তাহলেই যদি ডিফেন্ডার জ্যারেলকে নামানো যায় নরওয়ের বিপক্ষে! এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের মেডিকেল বুলেটিনে ইনজুরির তালিকা বেশ লম্বা। জর্ডান হেন্ডারসন, রিস জেমস, ডেক্লান রাইস, মার্ক গুয়েহি– বুধবার কানসাসের অনুশীলনে তাদের কাউকেই খুঁজে পায়নি ব্রিটিশ মিডিয়া। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচের পর মাঠে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গান গেয়ে উদযাপনের সময় বিজ্ঞাপনের বোর্ডের ওপর দিয়ে লাফ দিতে গিয়ে পড়ে যান হেন্ডারসন। এতে তাঁর বাঁ হাত এবং কবজি মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। কানসাস সিটিতে এরই মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি এই বিশ্বকাপে আর খেলতে পারবেন না। রিস জেমসের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। মেক্সিকো ম্যাচের ধকলের পর শরীরী ক্লান্তিতে ভুগছেন রাইস। বুধবার কানসাসের কড়া রোদ ও গরমে তিনি মূল দলের সঙ্গে গ্রুপ অনুশীলনে অংশ নেননি, বরং চিকিৎসকদের অধীনে আলাদাভাবে হালকা গা ঘামিয়েছেন।

আসলে আমেরিকান সামারটা কোনোভাবেই যেন উপভোগ করতে পারছেন না ইংলিশরা। লন্ডনে গ্রীষ্ম আসে মুখচোরা প্রেমিকের মতো, দারুণ লাজুক পায়ে। এই রোদ তো এই মেঘ, থমথমে আকাশের বুক চিরে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি। 

আর আমেরিকান সামার? কোনো লাজুকতা নেই, একেবারে বুক চিতিয়ে কড়া রোদে চামড়া পুড়িয়ে দেওয়ার মতো আগ্রাসী। কানসাসের এই প্রেইরি ল্যান্ডে এখন যে সামার চলছে, তার ভেতরে আছে এক তীব্র দহন, চড়া রোদ আর টর্নেডোর মতো সাইক্লোনিক মেজাজ। এই শহরে ইংল্যান্ডের কোনো খেলা পড়েনি, তার পরও তারা কানসাসকেই বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিকদের মুখে মুখে তার দুটি কারণ জানা যায়। প্রথমত, এখান থেকে অন্য যে কোনো শহরে যেতে ভ্রমণ দূরত্ব কম। দ্বিতীয়ত, এখানকার আবাহাওয়া। কানসাসের এই তপ্ত সামারে নিজেদের চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া স্নায়ুকে জোড়া লাগিয়ে শনিবার টুখেল ১১ জন ফিট সৈনিককে মাঠে নামাতে পারবেন কিনা– এটাই এখন আমেরিকায় কভার করতে আসা প্রায় দুইশ সাংবাদিকের প্রথম কৌতূহল, যেখানে পিটার ক্রাউচও রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×