স্বপ্নকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন মেরিনো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫৭
মহাকাঙ্ক্ষিত গোলটি যেন মিকেল মেরিনোর অপেক্ষায় ছিল। তিনি মাঠে নামার ২ মিনিটের মধ্যে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ল সেই গোলটি। অথচ লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল, দানি ওলমোরা পুরো খেলায় সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েও পেলেন না তাঁর দেখা। ৮৮ মিনিটে দেওয়া মেরিনোর সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে আসরের অন্যতম হটফেভারিট স্পেন।
মেরিনোকে ‘গোলকপালে’ বলাই যায়। চলতি বিশ্বকাপে পর পর দুটি নকআউট ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপারই! ৭ জুলাই পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার ৯১ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন। গত শুক্রবার রাতেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। তখনই কিনা মাঠে নেমে গোল করে বসেন মেরিনো।
পর পর দুটি নকআউট ম্যাচে এভাবে অন্তিম মুহূর্তে গোল করাটা মেরিনোর কাছেও অবিশ্বাস্য ঠেকছে, ‘সত্যি বলতে, স্বপ্নেও আমি এমন কিছু কোনো দিন ভাবিনি... অন্তিম মুহূর্তে আরও একটি গোল! এখন কী বলব সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। আমার নিজেরই বিষয়টা বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি ভেবেছিলাম (পর্তুগাল ম্যাচের পর) আবার এমন কিছু হতে লম্বা সময় লাগবে। কিন্তু পরের ম্যাচেই আমি আবার তেমন কিছু করে ফেললাম!’
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেরিনো। তিনি মাঠে যাওয়ার পরই প্রায় ত্রিশ গজ দূর থেকে বেলজিয়ামের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্স বলটি ঠিক মতো ধরতে পারেননি, বুকে লেগে বলটি বেরিয়ে যায়। তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে যেতেই চোখের পলকে চিতার ক্ষিপ্রতায় ছুটে এসে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো।
গোলটিতে গোলরক্ষকের দোষ থাকলেও, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থেকে বলটি জালে পাঠানোর জন্য মেরিনোরও প্রশংসা প্রাপ্য। তবে টানা দুই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে এমন সফলতাকে পুরোপুরি কাকতালীয় মনে করছেন না মেরিনো, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি, তবে এটা পুরোপুরি ভাগ্যের বিষয় ছিল না। পরিপূর্ণ উদ্যম নিয়েই আমি মাঠে গিয়েছিলাম। আর আমাকে শেষ মুহূর্তে গোল করতে দেখে আপনারাও অবাক হতে পারেন না, কারণ আমি গোল করার জন্যই মাঠে গিয়েছিলাম।’ তবে এটা তাঁর কাছে ‘পরাবাস্তব’ অনুভূতি, ‘‘যাই বলি না কেন, পর পর দুই ম্যাচে বদলি নেমে অন্তিম মুহূর্তে গোল করে আমার পরাবাস্তব অনুভূতি হচ্ছে। মাঠে আমার সতীর্থরা বলছিল ‘তুমি আবার গোল করবে’। আমার নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের জন্য অবদান রাখতে হবে।’’
স্পেনের হয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার অন্তিম মুহূর্তে গোল করে জয় এনে দিলেন মেরিনো। গত ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালেও জার্মানির বিপক্ষে ১১৯ মিনিটে গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপের দুটি গোলের জন্য তিনি বেশি খুশি, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান। কারণ, এবার আমার বাবা-মা ও চাচা-চাচিরা বিষয়টি স্বচক্ষে উপভোগ করেছেন। আমি আমার জীবনের খুব সুখের মুহূর্তে আছি।’
মেরিনোকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তেও, ‘মিকেল দুর্দান্ত। সে যেকোনো পজিশনে খেলতে পারে। আমরা ভাগ্যবান যে তাঁকে দলে পেয়েছি। যখনই আমাদের প্রয়োজন, সে এগিয়ে এসেছে।’ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিতেও তাঁর কাছে ভালো কিছু চান কোচ।
- বিষয় :
- স্পেন
- বেলজিয়াম
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬