ফুয়েন্তেতে স্পেনের আস্থা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১০:১১
লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে বলা হয় স্প্যানিশ ফুটবলের পুনর্জাগরণের নায়ক। তাঁর হাত ধরেই ২০২৪ ইউরো জিতেছে স্পেন। তাঁর অধীনেই ১৬ বছর পর আবার সেমিতে উঠেছে স্পেন। আজ ফরাসিদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও ২০১০ বিশ্বকাপজয়ীদের ভরসা ৬৫ বছর বয়সী এ কোচের মস্তিষ্ক।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায়ের পর পদত্যাগ করেন স্পেনের কোচ লুইস এনরিখে। ওই বছর ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেন দে লা ফুয়েন্তে। দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যে বদলে দেন তিনি স্পেনকে। এনরিখের অধীনে বিরক্তকর হয়ে ওঠা ‘তিকিতাকা’কে তিনি খানিকটা পরিমার্জন করেন। ছোট ছোট পাসে খেলার পাশাপাশি প্রয়োজনে লম্বা পাসে প্রতিপক্ষের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণের পথেও হাঁটেন তিনি। আরেকটি সংযোজন ছিল উইং ব্যবহার করে আক্রমণ। তাঁর এ কৌশলে ২০২৪ ইউরো জিতে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো দুইজন দুরন্ত উইঙ্গার পাওয়ায় তাঁর কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপেও সে কৌশলেই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
দে লা ফুয়েন্তের কোচিং দর্শনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, তরুণদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। এর পেছনে অবশ্য কারণ আছে। কোচিং ক্যারিয়ারের একটা লম্বা সময় তিনি কাটিয়েছেন স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে কাজ করে। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে সেভিয়া ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের একাডেমিতে কাজ করতেন। এরপর ৫ বছর স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বে ছিলেন। সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে ৪ বছর ছিলেন স্পেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের দায়িত্বে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে এক বছর কোচিং করানোর পরই জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি।
বয়সভিত্তিক দলে কাজ করে আসায় তাঁর জন্য সুবিধাই হয়েছে। কারণ সেই অনূর্ধ্ব-২১ দলে থাকার সময় থেকেই মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবাল, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও উনাই সিমনকে নিয়ে কাজ করেছেন। আর তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন বলে দলের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বলে দলের ফুটবলারদের বোঝেন, তাদের কাছ থেকে সহজেই সেরাটা আদায় করে নিতে পারেন।
- বিষয় :
- স্পেন
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
- সেমিফাইনাল