যে কারণে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৪
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের খুব কাছাকাছি আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালে বিশ্বনেতা ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সেখানে দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে।
মেসিদের শিরোপা লড়াই মাঠে বসে দেখার সুযোগ থাকলেও সেটি ইচ্ছাকৃতভাবেই এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কোনো কারণ নয়। এর পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনার এক ধরনের কুসংস্কার। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজের সরকারি বাসভবন কিন্তা দে অলিভোস থেকে দেখেছেন। ফাইনালেও সেই রুটিন বদলাতে রাজি নন তিনি।
সম্প্রতি বুয়েনস আইরেসভিত্তিক রেডিও স্টেশন এল অবজারভাদর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলেই জানান, অন্য সব ম্যাচের মতো ফাইনালও তিনি অলিভোস থেকেই দেখবেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি তুলে ধরেন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের একটি ঘটনার কথা। ‘বাইরে তখন বেশ ঠান্ডা ছিল, কিন্তু আমি ঘরে হিটার চালাই না। একটি তেল কোম্পানির লোগোযুক্ত জ্যাকেট পরে খেলা দেখছিলাম। একসময় গরম লাগায় জ্যাকেট খুলে ফেলি। ঠিক তখনই সুইজারল্যান্ড গোল করে। সঙ্গে সঙ্গে আবার জ্যাকেটটি পরে নিই এবং সিদ্ধান্ত নিই, এই জ্যাকেট আর খুলব না।’ এরপর থেকে ওই জ্যাকেট এবং একই রুটিন বজায় রেখেই আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ দেখছেন বলে জানান তিনি।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের বিশ্বকাপ ম্যাচে না যাওয়ার এই প্রথাটি বেশ পুরনো। এর পেছনে কাজ করে ‘মুফা’ বা অমঙ্গল ডেকে আনা ব্যক্তিদের প্রতি ভীতি। এই ধারণার সূত্রপাত ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে। সেবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপরই ক্যামেরুনের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই ঘটনার পর থেকে মেনেমকে অনেকেই ‘মুফা’ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন। এরপর থেকেই দায়িত্বপালনরত কোনো আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট আর সশরীরে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচে উপস্থিত হননি।
প্রেসিডেন্ট মিলেই একা নন, আর্জেন্টাইনদের রক্তে মিশে আছে এসব অদ্ভুত সব বিশ্বাস। অনেক সমর্থক পুরো বিশ্বকাপজুড়ে নিজের জার্সি ধোয়াও এড়িয়ে চলেন। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, আর্জেন্টিনা গোল করার সময় তারা যদি বাথরুমে থাকেন, তবে পরের ম্যাচগুলোতেও তাদের সেই সময় বাথরুমেই থাকতে হবে! অনেকের বিশ্বাস, কোনো নির্দিষ্ট রুটিন বদলে ফেললে দলের ভাগ্যও বদলে যেতে পারে।
এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিপক্ষের নাম লেখা কাগজ ফ্রিজে রাখা, নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থনা করা বা একই পোশাক পরে প্রতিটি ম্যাচ দেখার মতো নানা ধরনের রীতিও আলোচনায় এসেছে।
- বিষয় :
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল